নিপ্পণ দেশে কয়েকটি দিন – ৩য় পর্ব

Japan Travel 3
Japan Travel 3

নিপ্পণ দেশে কয়েকটি দিন – ৩য় পর্ব

(Japan Travel 3)

টোকিও আর কিয়োটোর মাঝের শিজুয়োকা শহরটি যেতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগল। পথে ম্লান আলো। আমাদের থাকার জন্য হোটেলটি গোটেম্বা অঞ্চলে, খটোমটো নাম, ‘ইজু হাটেক অনসিন ডেইসিনিয়া’, কিন্তু ব্যবস্থাপনা চমৎকার। অতিথির পরিধেয় কিমোনো অবধি সাজিয়ে রেখেছে। অতএব সে সব পরে ছবি তুলতেই হল। রাতে জাপানি ডিনার— এলাহি ব্যবস্থা, কন্টিনেন্টাল ব্যবস্থাও ছিল, আর বলা বাহুল্য প্রচুর ভাতের ব্যবস্থা। জাপানিরা বড়ই ভাতপ্রেমী।

টোকিওর পশ্চিম দিকের এই শিজুয়োকা এলাকাটা জাপানের বিখ্যাত গ্রিন টি চাষের জন্য। আজ মেঘলা দিন। আমাদের গন্তব্য একটি বিখ্যাত বিস্তৃত চা বাগান। যাত্রাপথের দু’ধারে ঘন জঙ্গল আর শুধু সাদা চেরি ফুলের গাছ। বৃষ্টি মাথায় করে রেনকোট পরে চা বাগান পরিদর্শন করতে হল।


আরও পড়ুন: নিপ্পণ দেশে কয়েকটি দিন – ১ম পর্ব, ২য় পর্ব


বাগানের লোকেরা খুব আপ্যায়ন করলেন, ফ্রি-তে তিন রকমের গ্রিন টি খাওয়ালেন। সমতল অথবা ঢালু জমিতে চাষ হচ্ছে, বেশিরভাগ চা গাছের পাতা মেশিনে কাটা হয়, হাতে তোলা হয় মাত্র দু-এক টুকরো জমিতে। পাশাপাশি রয়েছে ইতস্তত কিছু কমলালেবু গাছ। কিছু গ্রিন টি-র প্যাকেট উপহার হিসেবে কেনা হল। দাম? ভালই।

পরের গন্তব্য সুজুকি গাড়ির কারখানা। ভাবছিলাম গাড়ি দেখে কী আর করব। কিন্তু এখানে না এলে জানতেই পারতাম না, সুজুকি গাড়ি কোম্পানির মালিক একদা তাঁতের কাজের জন্যও পথপ্রদর্শক। মিউজিয়ামে সুন্দর করে সাজানো রয়েছে গাড়ি তৈরি এবং তাঁত শিল্পের ধারাবাহিক ইতিহাস।

Japan Travel 3
আশি লেকে ভ্রমণে

দুপুরের পর থেকেই আকাশ ভেঙে অঝোরে বৃষ্টি নামল। আমাদের টিকিট কাটা আছে ইরাগো ন্যানোহানা গার্ডেনে রেপসিড ফেস্টিভ্যালে। সর্ষে ক্ষেতের মতোই হলুদ রেড়িফুলে ভরা ক্ষেত। ভিজে চুপচুপে হয়েও ফুলের বনে না ঢুকে পারব কী করে? বয়স এখন ক্রমশই বালিকাবেলার পথে চলেছে। রেপসিড ক্ষেতের মাঝে মাঝে পাম জাতীয় লম্বা গাছ, আছে একটা হলুদ রঙের পোস্টবক্স। এখান থেকে সুগন্ধী মধু কেনা হল। বৃষ্টি দিনের স্মারক। মনে ভাবলাম, এরা ব্যবসাদার বটে! আমাদের দেশে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, কাশ্মীরে কত সর্ষে–রেড়ির চাষ হয়, মাইলের পর মাইল। কই? আমরা তো টাকা নিয়ে দর্শনার্থীদের আসতে বলি। না?

সব খুঁতখুঁতুনি উবে গেল প্রশান্ত মহাসাগরের পারে আইচিতে হোটেলে এসে। বড় সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য চারদিকে। হোনসু দ্বীপের ছবু অঞ্চলের এই বিখ্যাত শহর, জাপানের শিল্প, সংস্কৃতি আর পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বিখ্যাত। হোটেলটি চার তারকাযুক্ত, নাম ইরাগো ওসান রিসর্ট। পাহাড়ের ওপরে আর প্রশান্ত মহাসাগরের ধারে, ঘরের প্রশস্ত কাচের জানালা দিয়ে বাইরের ঝোড়ো প্রকৃতি, সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস, তীরের গাছপালা দেখতে দেখতে রাত হয়ে গেল।

সকাল সাড়ে নটায় বাস ছাড়ল ইরাগো ওশান রিসর্ট থেকে। দু কিলোমিটার দূরে রয়েছে, ইরাগো পোর্ট। ওখান থেকে ফেরি পেরিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে যাব ‘মি–আই’ প্রিফেকচারে।

ভ্রমণের পঞ্চম দিন, ২৬শে মার্চ। সকালে রিসর্টের ছাদ থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের অপূর্ব দৃশ্য দেখলাম। ভরপেট জাপানি ব্রেকফাস্ট খেয়ে ভ্রমণে বেরোলাম। আজ ট্যুর কোম্পানি লাঞ্চ দেবে না, অগত্যা গরম সুশি, আঠালো ভাত, হরেক কিসিমের টেম্পুরা, ম্যাকারেল, স্যামন মাছ ভাজা, নুডলস, ফ্রুট জুস, যা পেলাম অল্প করে চাখলাম। অল্প নুডলস আর চিকেন ফ্রাই-ও নিলাম। 

জাপানের প্রাকৃতিক দৃশ্য ভাল, কিন্তু বাড়াবাড়ি রকমের অসহ্য তাদের পরিচ্ছন্নতা বাতিক। রাস্তায় কোথাও ওয়েস্ট বিন নেই, সব তোমায় ব্যাগে করে হোটেলে অথবা রেস্টুরেন্টে নিয়ে গিয়ে ফেলতে হবে। আর আদিখ্যেতা এদের কমোড ব্যবহার নিয়ে। কমোডের পাশে একগুচ্ছ বাটন, কারওর কাজ জল ফ্লাশ করা, কেউ নিম্নাঙ্গ ধুইয়ে দেয়, কেউ ফিনকি দিয়ে জোরসে জল ছাড়ে। টোকিও ছাড়া সর্বত্র জাপানি ভাষায় লেখা। আর হ্যাঁ, অনেক জায়গায় টয়লেট ইন্ডিয়ান স্টাইলে। এদের মনে হয় হাঁটু বেশ মজবুত। আর ইংরেজি বোঝে না বলে কিছু প্রশ্ন করলে হয় চুপ করে থাকে, না হলে হেসে বড় চোখে তাকায়।

Japan Travel 3
গ্রিন টি গার্ডেনে

সকাল সাড়ে নটায় বাস ছাড়ল ইরাগো ওশান রিসর্ট থেকে। দু কিলোমিটার দূরে রয়েছে, ইরাগো পোর্ট। ওখান থেকে ফেরি পেরিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে যাব ‘মি–আই’ প্রিফেকচারে। সাদা রঙের তিন তলা উঁচু এক ক্রুজে চড়ে ঘণ্টাখানেক প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর জল-বিহার। সমুদ্র এখানে সত্যি প্রশান্ত।

চারপাশে সবুজ গাছে ছাওয়া পাহাড়। টোবা পোর্টে ক্রুজ থামল। সেখান থেকে মিনিট দশেক হাঁটা পথের শেষে গেলাম মিকোমোতো পার্ল আইল্যান্ডে। এখানেই ১৮৯৩ সালে কোকিচি মিকোমোতো প্রথম কৃত্রিমভাবে সফল মুক্ত চাষপ্রথা আবিষ্কার করেন। এখানে তার স্ট্যাচু আছে। ভাল লাগল বিশেষ ছাঁদের টাকামোতো গাছ আর পাম জাতীয় গাছ। মুক্তো কেনার দোকান, মিউজিয়াম সব আছে। তার চেয়ে ভাল লাগল লাগোয়া বাগানে বসে অনেকক্ষণ দ্বীপের শোভা দেখতে। মুক্তো কেনার চক্করে কে যায়?

রাস্তার দু’পাশে কাগজের লণ্ঠন উঁচুতে লাগানো। দোকানের জিনিসপত্র মহার্ঘ। জাপানি হাতপাখা ৫০০০ থেকে ১৭০০০ ইয়েন। আমার এখন স্টইকের দশা।

মিকিমোতো আইল্যান্ড থেকে এবারের গন্তব্য প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে পূর্ব কিয়োটোর হিগাশিয়ামা ওয়ার্ডের ছিওন ইন অঞ্চলে। এটি মূলত বৃহৎ বৌদ্ধ-মন্দির চত্বর, ভ্যাটিক্যান অব পিওর ল্যান্ড অব বুদ্ধিজম। জাপানের বৌদ্ধ ধর্মের জুডো–শু ঘরানার প্রধান কেন্দ্র। 

এখানে বুদ্ধ অমিতাভ নামে পরিচিত। বাইরে থেকেই দেখলাম বিশাল মন্দির, চওড়া কাঠের দরজা, বিরাট এক ব্রোঞ্জের ঘণ্টা, আর শ্বেত-পাথরের সিঁড়ি। মন্দির বন্ধ হয়ে যায় বিকেল সাড়ে চারটায়। আমরা দেরি করে ফেলেছি। সামনে দিয়ে চলে গেছে প্রশস্ত রাস্তা, সুসজ্জিত তোরণ। পথের দুপাশে অবহেলায় ফুটে আছে গোলাপি চেরি আর নাম না-জানা ফুলের গাছ। জনবহুল বড় রাস্তা পেরিয়ে অন্য পারে এলাম। একটা রাস্তার মুখে তীর চিহ্ন দিয়ে লেখা মিয়াকো ওডোরি থিয়েটার। তীরচিহ্ন বরাবর পাথরে মোড়া পথে দেখা হল অন্যভাবে সুবেশা লীলায়িত ভঙ্গিতে হেঁটে চলা জাপ-সুন্দরীদের। 

Japan Travel 3
নৃত্যরতা গেইশা রমণী

রাস্তার দু’পাশে কাগজের লণ্ঠন উঁচুতে লাগানো। দোকানের জিনিসপত্র মহার্ঘ। জাপানি হাতপাখা ৫০০০ থেকে ১৭০০০ ইয়েন। আমার এখন স্টইকের দশা। কী হবে এই সব পার্থিব জঞ্জালে? রাস্তার নাম জিজ্ঞেস করে জানলাম হানা মিকোজি স্ট্রিট। ওহ! এই সেই কিয়োটোর বিখ্যাত গেইসা স্ট্রিট।

একটি ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে, মুম্বাই ঘরানার ডিনার সারলাম। ফাউ হিসেবে পেলাম সেই স্বল্পবসনা গেইসা সুন্দরীদের পাখা নৃত্য আর গান। গেইসাবৃত্তি বহু প্রাচীন। এরা নাচগান আর অতিথি আপ্যায়নের তালিম নেওয়া অতিথি-সেবিকা, নিছক বারাঙ্গনা নয়। কিয়োতোর হোটেলে আসার আগে আবার দেখলাম রাতের পথের ম্লান আলো। আমাদের এই হোটেলটি তিন তারকা যুক্ত, নাম কিয়োটো– ইউ বেল, কিয়োটো স্টেশনের কাছেই।

কত কালের পুরোনো এই অরণ্য। সেই হেইয়ান যুগ (৭৯৪-১১৮৫ খ্রিস্টাব্দ) থেকে এলাকাটি অভিজাত অধিবাসীদের বিনোদনের জায়গা। বিভিন্ন দৈনন্দিন কাজেও এই বাঁশ ব্যবহার করা হয়।

ভ্রমনের ষষ্ঠ দিন। সকাল সকাল হোটেল থেকে বেরিয়েছি। কিয়োতো শহরে তিন দিকেই পাহাড়। প্রথমে দেখতে চললাম বিখ্যাত আরাশিয়ামা ব্যাম্বু গ্রোভ। সম্পূর্ণ এক প্রাকৃতিক অরণ্য। কিছুটা পথ যাওয়ার পর বাস থামল পাহাড়ি নদী কাটসুরার ধারে। স্থানীয় লোকেরা বলে ওইগাওয়া নদী। এরপর তিনশো মিটার পথের দুধারে শুধুই ফুলভারে আনত চেরি গাছ। 

প্রবেশ করলাম সেই বিখ্যাত বেণুকুঞ্জে। বাঁশঝাড়ের মাঝ দিয়ে পথ চলা। দু’পাশে দুর্দান্ত ক্যামেলিয়া ফুলের আহবান, স্থানীয় গ্রেভিয়ার্ডগুলো সুন্দর করে ফুলে সাজানো, আর তার মাঝে বুদ্ধমূর্তি। বেণুকুঞ্জের মধ্যেই হাতে-টানা রিক্সায় পথ চলতে নারাজ সওয়ারি চলেছে। এখানকার বাঁশগাছগুলো বেজায় লম্বা, বাড়েও তাড়াতাড়ি। আর মাটির নিচেও মূলের মাধ্যমে তাড়াতাড়ি গাছটিতে শাখা প্রশাখায় ভরিয়ে দেয়।

Japan Travel 3
পূর্ব কিয়োটোর বৌদ্ধ মন্দিরই

কত কালের পুরোনো এই অরণ্য। সেই হেইয়ান যুগ (৭৯৪-১১৮৫ খ্রিস্টাব্দ) থেকে এলাকাটি অভিজাত অধিবাসীদের বিনোদনের জায়গা। বিভিন্ন দৈনন্দিন কাজেও এই বাঁশ ব্যবহার করা হয়। পাহাড়ের ঢালে, নদীর পাড়ে এই জাতের বাঁশগাছ লাগিয়ে এদের দ্রুত প্রসারিত মূলের মাধ্যমে মাটির ভাঙন রোধ, ভূমিকম্পের হাত থেকে রক্ষা হয়।

অন্যদিকে শিন্টো মতবাদ আর বৌদ্ধধর্মে এই বাঁশ হল শক্তি, নমনীয়তা আর সুস্বাস্থ্যের প্রতীক। বাঁশের তৈরি ঝুড়ি ইত্যাদির পশরা সাজিয়েছেন স্থানীয় বিক্রেতা, সঙ্গে রয়েছে হাতপাখা। প্লাস্টিক আর কাঠি দিয়ে তৈরি। মামুলি চেহারার, তাতেই দাম ৫৫০ ইয়েন। ওদিকে দোকানে সিল্কের হাতপাখার দাম হাজার দশেক ইয়েনের কম নয়। দূর কী হবে? ঘর সাজানোর জন্য আমাদের দেশীয় তালপাখা কীসে কম?

এরপরের গন্তব্য পনেরো শতকের সংস্কৃতি বহন করে চলা বিখ্যাত কিনকাকুজি স্বর্ণমন্দির। আমাদের অমৃতসরের মন্দিরের মতোই। চুড়োয় রয়েছে ফিনিক্স পাখি। বাগানের মাঝে জলের ওপরে তিনতলা বিরাট মন্দির। 

ফেরার পথে দেখলাম এক বিয়ের কনে সেজেগুজে হেঁটে চলেছে। পরনে রঙবেরঙের ফুল পাখি আঁকা লাল কিমানো মাথায় বিশাল খোঁপার মতো কি একটা, তাতে রঙিন দড়ি ঝোলানো ফুল, মুখে ঘন পেইন্ট। বয়স্ক অভিভাবিকা সবাইকে হাত দিয়ে তাড়াতে তাড়াতে বলে যাচ্ছেন, ‘নো ফতো। নো ফতো।’

কোজিকে পরে এই খোঁপা নিয়ে প্রশ্ন করতেই এক গাল হেসে বলল, ম্যাডাম ওটা একটা টুপি, ওর নাম অসুনোকাকুশি। টুপির ভিতরে লুকোনো আছে একটা শিং, যা নাকি ঈর্ষার প্রতীক। টুপিটা সাদা আর লাল রেশমি ফিতে দিয়ে কনের মাথার সাথে বেঁধে দেওয়া হয়। অনেকে ঈর্ষামুক্ত করার জন্যই টুপিটা মাথায় পরে। জাপানিরা মনে করে, ঈর্ষা মহাপাপ আর সংসারের অমঙ্গলের কারণ।

প্রথম কনের সাজে জাপ সুন্দরী

রাস্তা পেরিয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিই পাহাড়ের বরফগলা জলে নেমে আসা কাটসুরা নদীর ধারে। নদীর ওপরে অর্ধচন্দ্রাকৃতি সাঁকো, নদীর পাড় দিয়ে কিছুক্ষণ হাঁটলাম।

এরপরের গন্তব্য পনেরো শতকের সংস্কৃতি বহন করে চলা বিখ্যাত কিনকাকুজি স্বর্ণমন্দির। আমাদের অমৃতসরের মন্দিরের মতোই। চুড়োয় রয়েছে ফিনিক্স পাখি। বাগানের মাঝে জলের ওপরে তিনতলা বিরাট মন্দির। 

বাগানের সমতল জায়গা ছাড়াও পেরোতে হল কিছু পাথুরে সিঁড়ি। দেখা হল দুই জাপানি তরুণীর সঙ্গে। হাসিমুখে নিজেরাই ছবি তুলতে চাইল। স্থানীয় জাপানি মেয়েরা বিক্রি করছে মশলাদার বাদাম।

ওপরের দুটি তলা সোনার পাতে মোড়া, জলে তার ছায়া পড়ে। শুধু ফুল গাছের সমারোহে জায়গাটি উজ্জ্বল। ১৯৫০ সালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মূল মন্দিরটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। ১৯৫৫ সালে পুনর্নিমিত। মন্দির তৈরির আগে এটি ছিল এক সামরিক শাসনকর্তার শৈলাবাস, কিতা–ইয়ামা-দাই প্যালেস। 

সামরিক শাসনকর্তা সোগুন আশিকাগা যোশিমিতস্যু এটা কিনে সংস্কার করিয়ে প্যাগোডার রূপ দেন। অবসর জীবন এখানেই কাটান, তাঁর মৃত্যুর পর উইল অনুসারে প্রাসাদের মালিক হয় জেন বুদ্ধ সম্প্রদায় (মহাযান বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের একটি শাখা)। এখন এটি সম্পূর্ণ মন্দির। ভিতরে দর্শনার্থীর প্রবেশ নিষেধ।

Japan Travel 3
বিখ্যাত বেণু কুঞ্জে

বাগানের সমতল জায়গা ছাড়াও পেরোতে হল কিছু পাথুরে সিঁড়ি। দেখা হল দুই জাপানি তরুণীর সঙ্গে। হাসিমুখে নিজেরাই ছবি তুলতে চাইল। স্থানীয় জাপানি মেয়েরা বিক্রি করছে মশলাদার বাদাম। নিখরচায় টেস্ট করাচ্ছে। দাম তেমন বেশি নয়। ৯০ গ্রামের দাম ৫০০ ইয়েন, ভারতীয় মুদ্রায় ৩০০ টাকা। 

আজ আমাদের ট্যুর-অপারেটর লাঞ্চ দেবে না। মহানন্দে ভারতীয় ডায়েট চিঁড়ে, জাপানি বাদাম ভাজা আর কেক দিয়ে মধ্যাহ্ন ভোজন সারলাম। সঙ্গে দোকান থেকে কেনা সুগন্ধি গরম কফি। জাপানিরা যেমন চারবেলা ভাত খায়, তেমনি খায় চা-কফি। তবে চা মানে মূলত সবুজ চা। তেতো আর কষা।

কিয়োতো হল জাপানের সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র, ধ্রুপদী বৌদ্ধ মন্দিরে পরিপূর্ণ। হাজার বছর ধরে উনিশ শতকের শেষ প্রান্ত অবধি এটি জাপানের সাংস্কৃতিক আর রাজনৈতিক রাজধানী ছিল। রাজপ্রাসাদের গরিমাই আলাদা। বিশাল এলাকা। 

কিয়োতোর দুপুরে রোদের তাপ বেশ চড়া। এবারের গন্তব্য কিয়োতোর ইম্পিরিয়াল প্যালেস। জাপানের সবচেয়ে প্রাচীন রাজধানী নারা থেকে ৭৯৪ খ্রিস্টাব্দে কিয়োতোতে স্থানান্তরিত হয়ে সূচনা হয় হেইয়ান যুগের। তখন এর নাম ছিল হেইয়ান-কো, মানে শান্তি আর নীরবতার রাজধানী। এই সময় চিনের প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে জাপানে নিজস্ব ধ্রুপদী সংস্কৃতির সূচনা হয়েছিল, শুরু হয়েছিল বর্ণমালা অভ্যাসের। 

কিয়োতো হল জাপানের সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র, ধ্রুপদী বৌদ্ধ মন্দিরে পরিপূর্ণ। হাজার বছর ধরে উনিশ শতকের শেষ প্রান্ত অবধি এটি জাপানের সাংস্কৃতিক আর রাজনৈতিক রাজধানী ছিল। রাজপ্রাসাদের গরিমাই আলাদা। বিশাল এলাকা। 

জাপানে এসে হাঁটতে হয়েছে প্রচুর। প্রবেশ পথেই নজরে এল এক ঊর্ধ্ববাহু চেরি গাছ, কুসুম ফোটার অপেক্ষায়, ঠিক যেন ‘আকাশে দুই হাতে প্রেম বিলায়’। আর চমৎকার ফুলন্ত ম্যাগ্নোলিয়া গাছ। দেখলাম রাজপ্রাসাদের চারটি মূল তোরণ, রাজদরবার। প্রাসাদের ভিতরে ঢোকার মুখে দু’পাশে দু’টি গাছ, লেবু আর চেরি, সংস্কৃতি আর উৎসবের প্রতীক। ভিতরে যাওয়ার অনুমতি নেই। রাজদরবারে পরিধেয় পোশাক- আশাক সুন্দর করে সাজানো রয়েছে।

(ক্রমশ)

মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Please login to bookmark Close

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

The Banglalive's Picks

Weekly Newsletter

Enjoy our flagship newsletter as a digest delivered once a week.

By signing up, you agree to our User Agreement and Privacy Policy & Cookie Statement.

Please login to bookmark Close
সেন্সোজি মন্দির থেকে বেরিয়ে দেখি রাস্তার দু’পাশে ফুলন্ত চেরি গাছ, গোলাপি-সাদা। তবে আমায় বেশি আকর্ষণ করল ফুল ফোটার আশায় ছোট ছোট কুঁড়ি সমেত তাজা চেরি গাছ। ঠিক যেন আমাদের বাংলা দেশের অরক্ষণীয়া কুমারী মেয়ে, রূপের হাটে নিজেকে বিকিয়ে দিতে উন্মুখ। লিখছেন কৃষ্ণা রায়...
Please login to bookmark Close
ছ’জনের ছোট্ট দল। রাত কাবার হতে না হতেই আবার কলকল— হৈ হৈ এবং তল্পিতল্পা নিয়ে নেমে পড়ার তোড়জোড়। পৌঁছে গেলাম মাল জংশন। না, শীত তো একেবারেই নেই; তবে কলকাতার থেকে গরম কম। বেশ ঝকঝকে এপ্রিলের সকাল। লিখছেন মন্দার মুখোপাধ্য়ায়...
Please login to bookmark Close
জাপানি রূপকথা, ফুজিয়ামা পাহাড়ের গল্প পড়ে আমার কাছে জাপান মানে রূপকথা, ফুজি পাহাড়, আর কিমোনো পরা জাপ সুন্দরীরা। তারা সরু সরু আঙুল দিয়ে টি-পট থেকে চা ঢালে। তরুণ বয়সে জাপানকে মনে হত হিরোসিমা-নাগাসাকির দেশ, ধ্বংসস্তূপ থেকে নবকলেবর ধারণ করা উন্নত দেশ। লিখছেন কৃষ্ণা রায়...

Subscribe

Banglalive.com/TheSpace.ink Guidelines

Established: 1999

Website URL: https://banglalive.com and https://thespace.ink

Social media handles

Facebook: https://www.facebook.com/banglaliveofficial

Instagram: https://www.instagram.com/banglalivedotcom

Twitter: @banglalive

Needs: Banglalive.com/thespace.ink are looking for fiction and poetry. They are also seeking travelogues, videos, and audios for their various sections. The magazine also publishes and encourages artworks, photography. We however do not accept unsolicited nonfiction. For Non-fictions contact directly at editor@banglalive.com / editor@thespace.ink

Time: It may take 2-3 months for the decision and subsequent publication. You will be notified. so please do not forget to add your email address/WhatsApp number.

Tips: Banglalive editor/s and everyone in the fiction department writes an opinion and rates the fiction or poetry about a story being considered for publication. We may even send it out to external editors/readers for a blind read from time to time to seek opinion. A published story may not be liked by everyone. There is no one thing or any particular feature or trademark to get published in the magazine. A story must grow on its own terms.

How to Submit: Upload your fiction and poetry submissions directly on this portal or submit via email (see the guidelines below).

Guidelines:

  1. Please submit original, well-written articles on appropriate topics/interviews only. Properly typed and formatted word document (NO PDFs please) using Unicode fonts. For videos and photos, there is a limitation on size, so email directly for bigger files. Along with the article, please send author profile information (in 100-150 words maximum) and a photograph of the author. You can check in the portal for author profile references.
  2. No nudity/obscenity/profanity/personal attacks based on caste, creed or region will be accepted. Politically biased/charged articles, that can incite social unrest will NOT be accepted. Avoid biased or derogatory language. Avoid slang. All content must be created from a neutral point of view.
  3. Limit articles to about 1000-1200 words. Use single spacing after punctuation.
  4. Article title and author information: Include an appropriate and informative title for the article. Specify any particular spelling you use for your name (if any).
  5. Submitting an article gives Banglalive.com/TheSpace.ink the rights to publish and edit, if needed. The editor will review all articles and make required changes for readability and organization style, prior to publication. If significant edits are needed, the editor will send the revised article back to the author for approval. The editorial board will then review and must approve the article before publication. The date an article is published will be determined by the editor.

 

Submit Content

For art, pics, video, audio etc. Contact editor@banglalive.com