লিখতে লিখতে অথৈ দূর: পর্ব ৯ – তোমার আঙিনাতে বেড়াই যখন

লিখতে লিখতে অথৈ দূর: পর্ব ৯ – তোমার আঙিনাতে বেড়াই যখন

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
memories of Father
পুরনো কলকাতায় বড় হয়ে ওঠার স্মৃতিমালা
পুরনো কলকাতায় বড় হয়ে ওঠার স্মৃতিমালা
পুরনো কলকাতায় বড় হয়ে ওঠার স্মৃতিমালা
পুরনো কলকাতায় বড় হয়ে ওঠার স্মৃতিমালা

“আবার বেড়াতে যাবো। জ্যোৎস্নায় বিজন মন্দির, মলিন কাঁথার মতন পড়ে আছে।”

সত্তর দশকের শেষ দিকে লেখা এই কবিতাটির সূচনায় যে শৈশব স্মৃতির প্রগাঢ় ছায়া, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। আমাদের জীবনের নিত্যনৈমিকতার মধ্যে হঠাৎ হঠাৎ করে চলে আসত একটা করে বেড়ানো। সেসব বেড়ানো আহামরি কিছু নয়। সস্তায়, কম বাজেটে। নতুন জায়গা দেখতে হবে। সংসারের বেড়ি ভেঙে বেরিয়ে পড়তে হবে অন্তত কয়েকদিন, নইলে কয়েক ঘণ্টা।

মায়ের উদ্যোগেই যে বেড়ানোর পরিকল্পনা হচ্ছে, বুঝতে অসুবিধে হত না, যদিও ব্যবস্থাপক বাবা। সপ্তাহে তিন দিন বিকেলে আমাকে সঙ্গে করে ছোটখাট জিনিস কেনার ছুতোয় গড়িয়াহাট মোড় অথবা হরিশ মুখার্জি রোড ধরে মা যে হেঁটে যেতেন, ওটাই ছিল বাড়ির চার দেওয়াল থেকে তাঁর নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা।

রবিবার বাবার ছুটি। আমাদের স্কুলও। সেদিন আমরা হয়তো ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে গিয়ে আইসক্রিম খেলাম। কনুই বেয়ে গড়িয়ে নামল বরফ আইসক্রিমের কমলা চ্যাটচেটে জল। শীতের দিনে কখনও ছিল চিড়িয়াখানা অথবা বোটানিক্যাল গার্ডেনে পিকনিক। মাসিরা, খুড়তুতো ভাইবোন আমাদের সঙ্গে মিশে গেছে সেই সব পিকনিকে।

খোসাশুদ্ধ সিদ্ধ ডিম, কমলালেবু, সন্দেশ, কাগজে মোড়া বেকারির কেক বাড়ি থেকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হত। খুবই সামান্য আয়োজন। গাছের তলায়, শীত-রৌদ্রে অথবা বসন্ত বাতাসে বসে সে সব খাওয়ার মধ্যে কত আনন্দ ছিল। পাখপাখালির ডাক, দূর থেকে ভেসে আসা রেডিওর গান, আমাদের হাসাহাসি গল্প।

victoria_memorial
রবিবার আমরা হয়তো ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে গিয়ে আইসক্রিম খেলাম

মনজিনিসের কেক পেস্ট্রি তখনও আসেনি,  জলযোগের দোকানে এয়ার কণ্ডিশনিং ছিল না। আমাদের জন্য ছিল ক্রিমলোফ আর লর্ডস বেকারির কেক-পাঁউরুটি। কলের জল দিব্যি খাওয়া যেত আঁজলা ভরে। একবার ভিক্টোরিয়ার ঘাসের বাগানে গিয়ে ভয়ংকর বৃষ্টি , যা ছিল বজ্রবিদ্যুৎ-সহ, তার মধ্যে পড়েছিলাম।

১৯৬৭ সালের মহালয়ার দিন ছিল সেটা। বৃষ্টি নামার আগে মেঘলা আকাশের নীচে বাতাসের মধ্যে আমাদের ছবি তোলা হয়েছিল দাদার পৈতেতে উপহার পাওয়া গেভাবক্স ক্যামেরায়। তারপর গাছের নীচে দাঁড়িয়ে পথের পাঁচালির দৃশ্যের মতো আমাদের মর্মান্তিক ভেজা। মনে আছে, জামাকাপড় গায়ে সেঁটে গিয়েছিল, ঠকঠক করে কাঁপছিলাম সবাই। বৃষ্টি একটু কমে এলে গম্বুজ মতন একটা রেস্তোঁরায় ঢুকে আমরা মহার্ঘ দার্জিলিং চা আর বিশাল আকারের সিঙাড়া খেয়েছিলাম। এত ঠান্ডা আর খিদের পর ওটুকু না পেলে মরেই যেতাম।

এ সব হল শহরের ভিতরে বেড়ানো। সম্প্রতি ব্রিগেডে বামেদের এবং তারপরেই কেন্দ্রীয় শাসকদলের মিটিং হয়ে গেল। প্রথমটিতে তরুণদের বিপুল যোগদানে আমাদের মতো বয়সীদের স্মৃতিচালিত আবেগ উথলে উঠল। আহা! প্রকৃত বামপন্থীরা কিছু মনে করবেন না,  ব্রিগেড, ময়দান, এমনকী বাড়ির পাশের হাজরা পার্কে বামেদের মিটিং মানেই সেটা ছিল আমাদের বেড়াবার জায়গা।

জ্যোতি বসু আসছেন। ভিড় উসখুস করছে। স্বপন গুপ্ত গাইতে উঠেছেন ভাষণের ব্রেকে। “আমি চঞ্চল হে আমি সুদূরের পিয়াসী। ওগো সুদূর বিপুল সুদূর, তুমি যে বাজাও ব্যাকুল বাঁশরী— ‘সুদূর’ বলে সুর কে আকাশ পর্যন্ত টানার আগেই আমার চোখ ভরে যেত জলে। সৃজনশীলতাজনিত আবেগের বাহুল্যই আমাকে প্রকৃত কম্যুনিস্ট হতে দেয়নি, এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত।

Brigade Parade Ground
ব্রিগেড, ময়দান, এমনকী বাড়ির পাশের হাজরা পার্কে বামেদের মিটিং মানেই সেটা ছিল বেড়াবার জায়গা

বাবা-মা-দাদাদের সঙ্গে ভিড়ে ঠাসা মিটিং মাঠের চা আর সুজির বিস্কুট। জ্যোতিবাবুর ভাষণ হয়ে গেলেই গুটিগুটি বাড়ি। আমরা রিফিউজি, অতএব কংগ্রেস এবাড়ির ভোট পাবে না। মায়ের সরল রাজনীতি। বামপন্থী হতে গেলে আর কী লাগে? মায়ের লেফটিস্ট ছোটমামার এনে দেওয়া প্রগ্রেসিভ পাবলিশার্স-এর লেনিনের জীবনী, দুনিয়া কাঁপানো দশ দিন, গোর্কির মা,  হাতে হাতে ঘোরে। আর কী চাই? উচ্চমাধ্যমিকের প্রাইজ তিন খণ্ড দাস ক্যাপিটাল।

এর পরেও ছিল কলকাতার বাইরে কাছেপিঠে যাওয়া। পুরী যাওয়া ছিল সবচেয়ে সোজা। দু’বছরে একবার পুরীর নির্ঘন্ট বাঁধা। ট্রেনে চাপা,  ভিক্টোরিয়া কিংবা সিভিউ হোটেলে ওঠা, সমুদ্র স্নান,  হোটেলে ফিরে কলের নীচে শরীরের বালুকা ধুয়ে ফেলা, ঝিনুক কুড়ানো। ট্রেনে চাপার আগের পর্ব আরও মধুর।

জামাকাপড় প্যাক করা, অদ্ভুত শ্যাওলার গন্ধ মাখা হোল্ডঅল মাটিতে বিছিয়ে তারমধ্যে পাতলা তোষক লেপ বালিশ ইত্যাদি ভরা। হোল্ডলের মাথাও পায়ের দিকে দুই কোণায় কাগজে মোড়া জুতো থেকে মাফলার সব কিছুই ঠুসে দেবার শখ হত। কিন্তু ট্রেনে টানাটানিতে সেগুলো বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা থাকত যথেষ্ট।

Indian Railways
ভারতীয় রেল তখনও চাদর-কম্বল দেওয়া আরম্ভ করেনি

ট্রেনে রাতে খাওয়ার জন্য যে লুচি আর পাঁচফোড়ন দেওয়া আলুর তরকারি বানানো হত, যার কিছুটা আমরা ট্রেনে চড়ার আগেই খেয়ে ফেলতাম, তার স্বাদ কোনও অমৃতের সঙ্গেই তুলনীয় ছিল না। ভারতীয় রেল তখনও চাদর-কম্বল দেওয়া আরম্ভ করেনি। বেডিং সুটকেস নিয়ে কুলীদের সঙ্গে দরাদরি সবই ছিল ভ্রমণের অঙ্গ।

মোবাইল ফোন জীবনে আসার পর থেকে আমরা সব কিছুই নিশ্ছিদ্র নিখুঁত করে তুলতে চাই। ঘরে এবং পথে। বিশেষ করে যাত্রায় যেন কোনও বিস্ময় না থাকে, কোনও প্রতীক্ষা না থাকে। গাড়ি, ক্যাব, হোটেল। এমনকী বেড রোল আকাচা হলে রেলমন্ত্রীকে যাত্রাকালীন ই-টুইট করা যায়।

সামান্য উপকরণ আর যৎসামান্য প্রয়োজনের সেই ১৯৬০-৭০ দশকের ছোটবেলায় আনন্দ আর বিস্ময় ছিল অসামান্য। উপভোগমুখী বস্তুবাদ আমাদের যেন বাক্সবন্দি করে ঠেসে রেখেছে। কোনও কিছুতেই আমরা অবাক হই না। রেল পরিবহন ব্যবস্থা কতদিন সরকারের থাকবে তার নিশ্চয়তা নেই। শ্রমিকদের ঘেরাবন্দি করতে লকডাউনকালে সেই যে রেল ব্যবস্থা শিকল তুলল, এখনও তা পুরোপুরি চালু হয়নি। একদিন হয়তো দুম করে বেসরকারি হাতে চলে যাবে।

কিন্তু ভারতীয় রেল আমার মতো এক শিশু ও পরে কিশোরীকে প্রকৃতির পাঠ পড়িয়েছিল, জানলা দিয়ে বাতাসের ঝাপট ও তার ল্যাজে বয়ে আসা কয়লার গুঁড়ো চোখ প্রায় অন্ধ করে দিলেও জানলার সিট আমি কোনওদিন দাদাদের ছাড়িনি। যা আরও মর্মান্তিক, এখনও ছেলেমেয়েকেও ট্রেনের জানলা ছাড়ি না।

পুরী পৌঁছবার পর রিক্সায় স্বর্গদ্বার রোডে মোড় ঘুরলেই সমুদ্রের দিগন্ত পর্যন্ত ছড়ানো জঙ্গম ধূসর নীল চোখে এবং মনে তার ঢেউ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ত। সমুদ্র এমন এক সত্তা, যাকে প্রতিবার দেখায় মনে হয় প্রথম দেখছি। কী আশ্চর্য, দিঘার সমুদ্র আমাকে তেমন টানেনি। শৈশবে একবারই দিঘা গিয়েছিলাম এবং কোনও এক ভুলের জন্য রাতে থাকার জায়গা পাইনি। একজন স্থানীয় মানুষ আমাদের এক মাটির ঘরে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে মেঠো ইঁদুর দেখে মায়ের মনে হয়েছিল, সাপ ঢোকার সম্ভাবনা। শহুরে ভীতু আমরা অনেক রাতের কোনও ট্রেন ধরে কলকাতায় ফিরে আসি এবং তারপর সমুদ্র-সহ দিঘাকে পত্রপাঠ মন থেকে বিদায়।

এক পরিচিত সজ্জন মানুষের খবর পাওয়া গেল তিলাইয়া ড্যামে। তখন হাজারিবাগ জেলার কোডারমা হয়ে তিলাইয়া যেতে হত। এখন কোডারমা আলাদা জেলা। মা যে বাড়ীতে কৈশোর কাটিয়েছেন, তাদের এক ছেলে ওখানে ইঞ্জিনিয়র। তখনও বিবিধ ভারতীর দাক্ষিণ্যে ঝুমরিতিলাইয়ার আবদারকারী সঙ্গীতরসিকরা বিখ্যাত হননি। শীতের হাড়-জমানো ভোরে কাঁপতে কাঁপতে তিলাইয়া পৌঁছে আমাদের প্রাণ জুড়িয়ে গেল ইঞ্জিনিয়র মানুষটির আতিথেয়তা আর বরাকর নদীর সৌন্দর্যে।

নদীর ধারে পড়ে থাকত অনেক চিকমিকে রঙিন পাথর। অভ্রবলয় ঘেঁষা ওখানকার মাটিতেও অভ্রের কুচি। মোটর বোটে নদী পার হতে হতে, পাথর কুড়িয়ে কোঁচড় ভরার সময় কি জানতাম একদিন আরও দক্ষিণে, প্রায় সমান্তরাল দামোদর নদীর উপর তেনুঘাটে আরম্ভ হবে আমার কর্মজীবন? আর হাজারিবাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালীন আমার কাব্যপ্রতিভা আবিষ্কার করবেন স্নেহশীল সন্তোষকুমার ঘোষ? 

Puri-Beach-2
পুরীর সমুদ্র দেখার উত্তেজনা ভোলা যায় না

বাবা কর্মজীবন আরম্ভ করেছিলেন আপার ডিভিশন ক্লার্ক হিসেবে। কিন্তু পরে অ্যাকাউন্টস-এর এক বিকট কেন্দ্রীয় পরীক্ষা পাশ করে অফিসার হন। বার তিনেক বাবার অডিটের জায়গায় বেড়াতে গিয়েছি। দুর্গাপুর, মাইথন, রাখা মাইনস। দামোদর ভ্যালি করপোরেশন ও হিন্দুস্তান কপার ইত্যাদি বাবার অডিটের আওতায় আসত। পরিবারের সদস্যদের খরচ নিজে মেটাতেন বাবা আর আমি উৎকন্ঠিত হয়ে ভাবতাম না জানি কী হবে,  এত দামি জায়গায় কেন এলাম। বাবার কাছে টাকা থাকবে তো শেষপর্যন্ত?

এনটিপিসি-র থার্মাল পাওয়ার স্টেশনে গিয়ে ওই রকমই এক ভ্রমণে,  গেস্ট হাউসে ছিলাম। ডাইনিং হলের বাবুর্চি আমাদের বলেছিল, দেখবেন,  টেবিল ক্লথে যেন ঝোল না পড়ে।কথাটা কানে লেগেছিল আমারও। যদিও তখন ক্লাস এইটে পড়ি।। কেন বলল?  জায়গাটার নাম চন্দ্রপুরা। চোদ্দো বছর পর ওখানেই আবার গেছি। অফিশিয়াল ভিজিট করব পাওয়ার প্লান্টের।আমি সাব ডিভিশনাল ম্যজিস্ট্রেট।

সেই গেস্ট হাউস। আরও ঝকঝকে, তকতকে। বাবুর্চি মারা গেছে খবর নিয়ে জানলাম। পরিষ্কার টেবিল ক্লথ, সুন্দর ক্রকারি। বাবা-মাও সঙ্গে ছিলেন সৌভাগ্যবশত। আমরা পরস্পরের দিকে তাকিয়ে হাসলাম।ইচ্ছে করে ঝোল ফেললেও এবার কেউ কিছু বলবে না। সবই ক্ষমতার বিন্যাস। তারই উপর নির্ভর করে মানুষের প্রতি মানুষের আচরণ। যত তাড়াতাড়ি জীবনে একথা বোঝা যায় ততই ভাল। আর ক্ষমতার জাল কেটে উড়ে যাবার জন্য সাহিত্যের চেয়ে বড় অস্ত্র আর কী আছে?

*ছবি সৌজন্য: artzolo.com, catchnews.com, wikimedia
*আগের পর্বের লিংক: [], [], [], [], [], [], [], []

Tags

Please share your feedback

Your email address will not be published. Required fields are marked *

SUBSCRIBE TO NEWSLETTER

Resize-+=

Please share your thoughts on this article

Please share your thoughts on this article

Banglalive.com/TheSpace.ink Guidelines

Established: 1999

Website URL: https://banglalive.com and https://thespace.ink

Social media handles

Facebook: https://www.facebook.com/banglaliveofficial

Instagram: https://www.instagram.com/banglalivedotcom

Twitter: @banglalive

Needs: Banglalive.com/thespace.ink are looking for fiction and poetry. They are also seeking travelogues, videos, and audios for their various sections. The magazine also publishes and encourages artworks, photography. We however do not accept unsolicited nonfiction. For Non-fictions contact directly at editor@banglalive.com / editor@thespace.ink

Time: It may take 2-3 months for the decision and subsequent publication. You will be notified. so please do not forget to add your email address/WhatsApp number.

Tips: Banglalive editor/s and everyone in the fiction department writes an opinion and rates the fiction or poetry about a story being considered for publication. We may even send it out to external editors/readers for a blind read from time to time to seek opinion. A published story may not be liked by everyone. There is no one thing or any particular feature or trademark to get published in the magazine. A story must grow on its own terms.

How to Submit: Upload your fiction and poetry submissions directly on this portal or submit via email (see the guidelines below).

Guidelines:

  1. Please submit original, well-written articles on appropriate topics/interviews only. Properly typed and formatted word document (NO PDFs please) using Unicode fonts. For videos and photos, there is a limitation on size, so email directly for bigger files. Along with the article, please send author profile information (in 100-150 words maximum) and a photograph of the author. You can check in the portal for author profile references.

  2. No nudity/obscenity/profanity/personal attacks based on caste, creed or region will be accepted. Politically biased/charged articles, that can incite social unrest will NOT be accepted. Avoid biased or derogatory language. Avoid slang. All content must be created from a neutral point of view.

  3. Limit articles to about 1000-1200 words. Use single spacing after punctuation.

  4. Article title and author information: Include an appropriate and informative title for the article. Specify any particular spelling you use for your name (if any).

  5. Submitting an article gives Banglalive.com/TheSpace.ink the rights to publish and edit, if needed. The editor will review all articles and make required changes for readability and organization style, prior to publication. If significant edits are needed, the editor will send the revised article back to the author for approval. The editorial board will then review and must approve the article before publication. The date an article is published will be determined by the editor.

SUBSCRIBE TO NEWSLETTER

Please login and subscribe to Bangalive.com

Submit Content

For art, pics, video, audio etc. Contact editor@banglalive.com