Rituparno Ghosh
ঋতুপর্ণ ঘোষ, ১৯৬৩ সালে কলকাতায় জন্ম। সিনেমায় আসার আগে ছিলেন বিজ্ঞাপন জগতের মানুষ— শব্দের কারিগর, একজন কপিরাইটার। হয়তো সেখানেই শিখেছিলেন, অল্প কথায় কীভাবে গভীর অনুভূতির দরজা খুলে দিতে হয়।
১৯৯২ সালে হিরের আংটি দিয়ে শুরু তাঁর চলচ্চিত্রযাত্রা। তার মাত্র দু’বছর পর ‘উনিশে এপ্রিল’ এনে দিল জাতীয় পুরস্কার। কিন্তু পুরস্কারের চেয়েও বড় হয়ে উঠল তাঁর সিনেমার সেই দৃষ্টি— যে দৃষ্টি গল্পের চেয়ে মানুষকে বেশি গুরুত্ব দিত।
ঋতুপর্ণ ঘোষের সিনেমায় সম্পর্ক কখনও সরল ছিল না। মা আর মেয়ের মধ্যবর্তী নীরবতা, নারীর একাকিত্ব, ভালবাসার সঙ্গে মিশে থাকা আকাঙ্ক্ষা, অভিমান, শরীর, পরিচয়— মানুষের মনের যে অন্ধকার ঘরগুলোতে আমরা নিজেরাও খুব একটা ঢুকতে চাই না, ঋতুপর্ণ সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন ক্যামেরা নিয়ে।
ভিডিও: শশী হে – জন্মদিনে শশী কাপুর
দহন, উৎসব, চোখের বালি, রেইনকোট, আবহমান— প্রতিটি ছবিতে তিনি সম্পর্ককে দেখেছেন এক অন্য আলোয়। সেখানে নাটকীয়তা ছিল, কিন্তু তার চেয়েও বেশি ছিল নীরবতা। সংলাপ ছিল, তবে তার আড়ালে লুকিয়ে থাকত না-বলা অসংখ্য কথা।
সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র-ঐতিহ্য আর রবীন্দ্রনাথের প্রতি গভীর অনুরাগ তাঁর সিনেমাকে দিয়েছিল এক নিজস্ব চিত্রভাষা— যেখানে সাহিত্য, সংগীত, শরীর, স্মৃতি আর আবেগ একসঙ্গে মিলেমিশে যায়।
২০১৩ সালে, মাত্র ৪৯ বছর বয়সে, থেমে যায় তাঁর জীবন। কিন্তু থামেনি তাঁর সিনেমা।
কারণ, ঋতুপর্ণ ঘোষ শুধু গল্প বলেননি। তিনি আমাদের পরিচিত মুখগুলোর দিকে নতুন করে তাকাতে শিখিয়েছিলেন।
হয়তো তাই তাঁর সিনেমা শেষ হয়ে গেলেও— কিছু সম্পর্ক, কিছু মুখ, কিছু নীরবতা…আমাদের ভিতরে থেকে যায়।