(Arogyo Niketan)
আরোগ্য
প্রত্যাশা আদতে বাংলা মদ
গলায় ঢালতে দেখি কণ্ঠনালি জুড়ে
ঋতুদিনের মতন তুমুল অস্বস্তি—
ধীরে ধীরে তোমাকে মনে করায়…
আমিও কি ততখানি অনিবার্য পাহারায়
রোজের অভ্যাস মেনে সাজানো বিছানা থেকে মন
সযত্নে দূরত্বে রেখে হেঁটে গেছি অন্ধকারে?
ইদানীং মানুষের স্বাভাবিক ব্যবহারে
এত বেশি ছাড়াছাড়া ভাব— উপায় না পেয়ে আমি
তোমার আশ্রয় পেতে একটু একটু সরি…
প্রত্যাশা বাংলা মদ, মাত্রাটি ছাড়িয়ে গেলে
বাংলা কবিতা লিখে বেহিসেবি মাতলামি করি


প্রতিবাদ
অস্ত্র নিও না হাতে অনভ্যস্ত প্রমাণ লোপাটে
প্রতিটি হত্যা থেকে রক্ত গড়িয়ে নামে…
সাহস না থাকে যদি প্যাচপ্যাচে ঘামে
কেবল আস্থা রেখো সময়ের কাছে
তোমারই উপেক্ষা থেকে দেখো—
ফুলটি ছেঁড়েনি কেউ, তবু তা শুকিয়ে গেছে গাছে…
সান্নিধ্য
জীবন জড়িয়ে আছে নিরাপদ আশ্রয়
তবু তাকে মাঝে মাঝে সন্দেহ হয়…
আসলে ও ছায়াখানি আমার জন্য রাখা?—
ভেবে ভেবে ঘেমে যাই— পাখার বোতাম মারি
সামান্য শ্বাসের কম্পন
মেঘে মেঘে হয়ে আসে ভারী…
মলিন বাতাস নামে— চেনা পাখা থেকে
কতবার আমিও তো স্টিমারের ডেকে
দাঁড়িয়ে দেখেছি ঘড়ি কখনও থামেনি আর
অবসন্ন হৃদয়ে তোমাকে পুনর্বার
মনে পড়ে রাত হলে— ঘরে আসা করুণ জোনাকি…
আমি তার দিকে চেয়ে চুপ করে একা বসে থাকি
আমার মরার পরে আদৌ কাঁদবে তুমি কি না
দেখার সাহস নেই, তাই আমি মরতে পারিনি…

মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
অলংকরণ- আকাশ গঙ্গোপাধ্যায়