(Durga Puja Immersion)












এ বছর পুজোর পর ওড়িশার বালেশ্বরে বেড়াতে গিয়ে এক নতুন ধরনের প্রতিমা বিসর্জনের সাক্ষী হলাম। সমুদ্রস্নানের সময় হঠাৎ দেখি, একটি বড় ট্র্যাক্টর জাতীয় গাড়িতে জনা-কুড়ি লোক। সেই দলে বৃদ্ধ থেকে বালক, সব বয়সই উপস্থিত– সঙ্গে রয়েছে এক দুর্গাপ্রতিমা। আমরা কলকাতার মানুষ, সমুদ্রে প্রতিমা বিসর্জনের মতো দৃশ্য দেখার সুযোগ আগে বড় একটা পাইনি। তাই প্রবল কৌতূহল নিয়ে দেখতে থাকলাম। কিন্তু বিস্ময়ের তখনও বাকি ছিল।
আরও পড়ুন: ফটো স্টোরি: স্ট্রিট ফটোগ্রাফি
বিসর্জন শুরু হওয়ার আগে পুরুষেরা মাটির প্রতিমাগুলি বাঁশের কাঠামো থেকে দা দিয়ে আলাদা করতে শুরু করলেন। তাই করতে গিয়ে প্রতিমার বিভিন্ন অংশ আলাদা হয়ে খসে পড়ল। বালির উপরে কোথাও গিয়ে পড়ল লক্ষ্মীর হাত, কোথাও কার্তিকের পা।
দলের যাঁরা অপেক্ষাকৃত কম বয়সী, তাঁরা জলে ভাসিয়ে দিল। একদিকে অসুরের মুণ্ডুটা নিয়ে দলের দুই খুদে সদস্যের মধ্যে শুরু হল কাড়াকাড়ি। আমরা স্নানটান সব ভুলে দেখতে থাকলাম হাঁ করে। আর ভাবতে থাকলাম, একই উৎসব, একই দেবী, অথচ বিদায় জানানোর রীতি কত ভিন্ন!
যা আমাদের চেনা, তাকেই আমরা স্বাভাবিক বা আদর্শ হিসেবে ধরে নিই। কিন্তু কলকাতার বিসর্জনের যে চেনা ছবি আমাদের মনে গেঁথে আছে, সেদিন তার বাইরে গিয়ে এক নতুন বিসর্জন পর্বের প্রত্যক্ষদর্শী হলাম। আমাদের সেই বিস্ময়ের সাক্ষী হয়ে তটের বালিতে রয়ে গেল স্রেফ কয়েকটি ফাঁকা কাঠামো।
যা আমাদের চেনা, তাকেই আমরা স্বাভাবিক বা আদর্শ হিসেবে ধরে নিই। কিন্তু কলকাতার বিসর্জনের যে চেনা ছবি আমাদের মনে গেঁথে আছে, সেদিন তার বাইরে গিয়ে এক নতুন বিসর্জন পর্বের প্রত্যক্ষদর্শী হলাম। আমাদের সেই বিস্ময়ের সাক্ষী হয়ে তটের বালিতে রয়ে গেল স্রেফ কয়েকটি ফাঁকা কাঠামো। এই অভিজ্ঞতাকেই ক্যামেরাবন্দি করে কয়েকটি ছবির মাধ্যমে তুলে ধরা হল।
ছবি, সন্দীপন মুখোপাধ্যায়, লিখন: সাহানা মুখোপাধ্যায়
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত