Planning Commission 9

প্ল্যানিং কমিশন

প্রবর্তন থেকে বিসর্জন (পর্ব - ৯)

(Planning Commission 9)

ভারত সরকার ও রাজ্য সরকারগুলির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির প্রস্তাব প্ল্যানিং কমিশনে পাঠানোই ছিল প্রচলিত প্রথা। অনেকেই ধরে নিতেন বিষয়টি বাধ্যতামূলক, কারণ প্ল্যানিং কমিশনের মতামত না পাওয়া পর্যন্ত কোনও প্রকল্পের প্রস্তাব নিয়ে আর আলোচনার সুযোগ নেই।

প্ল্যানিং কমিশনের দফতর যোজনা ভবনের ছাদের তলায় বিভিন্ন পেশার বিশারদেরা বিষয়গত এবং প্রয়োগগত দিক থেকে প্রকল্পের চরিত্র বিশ্লেষণ করে তার ত্রুটি-বিচ্যুতি নির্ধারণের পরে আর্থ-সামাজিক-প্রযুক্তিগত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পের প্রয়োজনীতা এবং অর্থসংস্থানের পরামর্শ দিতেন।


আরও পড়ুন: প্ল্যানিং কমিশন প্রবর্তন থেকে বিসর্জন পর্ব- ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮


ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন অর্থাৎ ইউপিএসসি-র কঠিন ছাঁকনি পেরিয়ে প্ল্যানিং কমিশনে যোগ দেওয়া নানান পেশার বিশারদ আধিকারিকেরাই সংস্থার মূল শক্তি। বিভিন্ন স্তরে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশারদ নিয়োগের জন্য ইউপিএসসি বিজ্ঞাপন দিত। বিজ্ঞাপনে সাড়া দিয়ে যে সব আবেদনপত্র আসত, তার খুঁটিনাটি বিচার করে বাছাই করা হত নির্দিষ্ট পদের জন্য কোন কোন আবেদনকারীর যথাযথ শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা রয়েছে।

Planning Commission 9
১৯৮০-র দশকে যখন কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক নিয়ে জ্যোতি বসু, অশোক মিত্রের উদ্যোগে সারা দেশ উত্তাল, তখনও কিন্তু প্ল্যানিং কমিশন সমন্বয় মঞ্চ হিসেবেই কাজ করে গেছে

তাদের সাক্ষাৎকার নিয়ে ইউপিএসসি যোগ্যতম প্রার্থীকে নির্ধারণ করত। ইউপিএসসি প্রার্থী নির্বাচন করে, কিন্তু নিয়োগপত্র দেয় না। ইউপিএসসি-র সুপারিশ অনুসারে নিয়োগপত্র পাঠানো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের দায়িত্ব। প্ল্যানিং কমিশনও সেই রীতির ব্যতিক্রমী নয়।

যেমন স্বাস্থ্য বিভাগে নিযুক্ত হতেন ডাক্তার এবং জনস্বাস্থ্য বিষয়ে বিশেষজ্ঞবৃন্দ। শিল্প এবং শক্তি বিভাগে ছিল ইঞ্জিনিয়ারদের প্রাধান্য। কৃষি বিভাগের বিশেষজ্ঞরা ছিলেন মূলত কৃষি বিজ্ঞানী। বিশেষজ্ঞ আধিকারিকদের সরাসরি পদোন্নতির সুযোগ ছিল না। উর্ধ্বতন পদের জন্য ইউপিএসসি-র বিজ্ঞাপন বেরোলে আবেদন করা যেত।

আবেদন গৃহীত হলে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাক পাঠাত ইউপিএসসি। সেখানে প্ল্যানিং কমিশনে কর্মরতদের তুলনায় বাইরের প্রার্থীর সংখ্যাই বেশি। অর্থাৎ নির্দিষ্ট পদের জন্য সেরা বিশারদ বাছাই করে ইউপিএসসি প্ল্যানিং কমিশনে নিয়োগের সুপারিশ করত। এর ফলে প্ল্যানিং কমিশন পেত যোগ্যতা অনুযায়ী সেরা আধিকারিক। এমনকী প্ল্যানিং কমিশনের নিজস্ব আধিকারিক ইউপিএসসি-র বিচারে বাতিল হয়ে গেলেও কিছু করার ছিল না। বিভিন্ন স্তরে সর্বমোট ১৩৩টি পদে বিশেষজ্ঞ আধিকারিকরা প্ল্যানিং কমিশনে কাজ করতেন।

Planning Commission 9
ইউপিএসসি ভবন

সমস্ত বিভাগে নিযুক্ত ছিলেন কোনও না কোনও ইন্ডিয়ান ইকোনমিক সার্ভিস-এর (আইইএস) আধিকারিক। তাঁরা প্রতিটি প্রকল্পের আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করতেন। আইইএস-দের জন্য প্ল্যানিং কমিশনের বিভিন্ন স্তরে সর্বমোট ১২৫টি পদ নির্ধারিত ছিল। আর ১০টি পদ সংরক্ষিত ছিল আইএসএস (ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিকাল সার্ভিস) আধিকারিকদের জন্য। পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ ছিল তাঁদের প্রাথমিক দায়িত্ব।

প্রজেক্ট অ্যাপ্রাইজাল ডিভিশন ১৯৭২-এ প্ল্যানিং কমিশনে গঠিত হয়। কালক্রমে এই ডিভিশনটিই প্ল্যানিং কমিশনে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে শুরু করে। যে কোনও প্রকল্পে সরকারের আর্থিক বিনিয়োগের আগে তার যৌক্তিকতা নির্ধারণ করার কাজ করত পিএডি।

প্রাথমিক পর্যায়ে ২৩টি বিষয়ভিত্তিক বিভাগ বা ডিভিশন নিয়ে পথ চলা শুরু হয়েছিল। অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা গেল রাজ্যগুলির পরিকল্পনা পর্যালোচনার জন্যে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বিভাগ দরকার। তৈরি হল ‘স্টেট প্ল্যান ডিভিশন’। এইভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী প্ল্যানিং কমিশনে পরে যুক্ত হয় প্ল্যান কোঅর্ডিনেশন ডিভিশন, সোশিও-ইকোনওমিক রিসার্চ ইউনিট, ভলান্টিয়ারি অ্যাকশন সেল, প্রোগ্রাম ইভ্যালুয়েশন অর্গানাইজেশন (পিইও) এবং প্রজেক্ট অ্যাপ্রাইজাল ডিভিশন (পিএডি)।

প্রজেক্ট অ্যাপ্রাইজাল ডিভিশন ১৯৭২-এ প্ল্যানিং কমিশনে গঠিত হয়। কালক্রমে এই ডিভিশনটিই প্ল্যানিং কমিশনে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে শুরু করে। যে কোনও প্রকল্পে সরকারের আর্থিক বিনিয়োগের আগে তার যৌক্তিকতা নির্ধারণ করার কাজ করত পিএডি। অর্থাৎ প্রকল্পের প্রাক্-মূল্যায়ন। বিষয়ভিত্তিক ডিভিশনের সঙ্গে আলোচনা করে পিএডি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের পর যে কোনও প্রকল্পে বিনিয়োগের সুপারিশ করতে পারত। আবার প্রয়োজনে প্রস্তাব পুনর্গঠনের পরামর্শ পিএডি দিয়ে থাকত। এমনকী বিশ্লেষণে সন্তুষ্ট না হলে প্রস্তাব বাতিল করার ক্ষমতাও পিএডি-র ছিল।

Planning Commission 9
যোজনা ভবন

সূচনা লগ্নে পিএডি শুধুমাত্র সেইসব প্রকল্পের প্রস্তাব বিশ্লেষণ করত, যে প্রকল্পে বিনিয়োগ বনাম মুনাফা/ক্ষতির হিসাব টাকার অঙ্কে নির্ধারণ করা যায়। ধরা যাক, কোনও একটি কারখানা স্থাপনের জন্য একশো কোটি টাকা প্রয়োজন। তাহলে প্রথম প্রশ্ন এই টাকা ব্যাঙ্কে রাখলে বছর শেষে কত সুদ পাওয়া যাবে। কারখানা স্থাপনের ছয় বছর পর থেকে বছরে কত মুনাফা অর্জন করা যাবে। উৎপাদন ক্ষমতার সম্পূর্ণ ব্যবহার সম্ভব নয় বলে প্রথম পাঁচ বছর ছাড় দেওয়াই দস্তুর। ব্যাঙ্ক ও অন্যান্য বিনিয়োগকারীও সাধারণত এই প্রথা মেনে চলে।

শিল্প স্থাপনের প্রস্তাবে বাৎসরিক লাভের অঙ্ক ব্যাঙ্কের সুদের থেকে কম হলে সাধারণত সেই প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার কথা নয়। প্ল্যানিং কমিশন কিন্তু একই সঙ্গে বিবেচনা করত শিল্প স্থাপনের সময় থেকে উৎপাদন শুরু হওয়ার ফলে প্রকল্প এলাকার মানুষের জীবনযাপনের প্রক্রিয়ায় কী প্রভাব পড়বে। কী কী অনুসারী শিল্প গড়ে উঠতে পারে।

প্ল্যানিং কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের মতামতও গ্রহণ করা হত। সব মিলিয়ে সমস্ত রকমের সম্ভাবনা উল্লেখ করে বিস্তারিত পর্যালোচনার নথি পাঠানো হত প্ল্যানিং কমিশনের সচিবের মাধ্যমে ডেপুটি চেয়ারম্যানের দফতরে। তিনি নিজের প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতা অনুসারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতেন।

স্থানীয় তথা জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণের আওতায় আনা হত। তবে চূড়ান্ত বিচারে মুনাফা/ক্ষতি কিন্তু টাকার অঙ্কেই বিবেচনা করা হত। এমনকি প্রস্তাবিত প্রকল্পের সম্ভাব্য আর্থিক লাভ কম দেখানো হলেও বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক বাধ্যবাধকতা ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলিও বিশ্লেষণ করার সুযোগ ছিল।

প্ল্যানিং কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের মতামতও গ্রহণ করা হত। সব মিলিয়ে সমস্ত রকমের সম্ভাবনা উল্লেখ করে বিস্তারিত পর্যালোচনার নথি পাঠানো হত প্ল্যানিং কমিশনের সচিবের মাধ্যমে ডেপুটি চেয়ারম্যানের দফতরে। তিনি নিজের প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতা অনুসারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সরাসরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ডেপুটি চেয়ারম্যান আবার সচিবের দপ্তরে নথি পাঠিয়ে দিতেন।

Planning Commission 9
বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান, তেল শোধনাগার, শিল্প নগরী, কৃষি খামার প্রভৃতি ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত প্রকল্পের প্রাক-মূল্যায়ন খুব একটা জটিল নয়

কখনও আবার দু-একটি বাড়তি বিষয় সংযোজনের নির্দেশ দিয়ে স্বাক্ষর করতেন। কখনও আবার কয়েকটি বিষয়ে আলোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধানকে ডেকে পাঠাতেন। আলোচনার পর মূল নথিতে হয়তো সামান্য কাটাছেঁড়া করতে হত। কিন্তু একটা স্থির ও নিশ্চিত সিদ্ধান্ত পাওয়া যেত।  এই পদ্ধতিতে বহু প্রকল্পের প্রস্তাব বাতিলও হয়ে যেত।

প্রকল্পের প্রস্তাব যে মন্ত্রক থেকে এসেছিল, প্ল্যানিং কমিশনের অনুমোদিত বিশ্লেষণাত্মক নথি (অ্যাপ্রাইজাল নোট) তাদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হত। অর্থ মন্ত্রকে পাঠানো হত নথিটির প্রতিলিপি। সপ্তাহ খানেক বা দিন দশেক পর অর্থ মন্ত্রকে প্রস্তাবিত প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করা হত। অর্থ মন্ত্রক, প্রকল্প প্রস্তাবকারী মন্ত্রক এবং প্ল্যানিং কমিশনের আধিকারিকরা বিস্তারিত আলোচনা করে একটা সিদ্ধান্ত নিতেন।

পরের ধাপে এই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার সচিবালয়ে (ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েট) পাঠানো হত। মন্ত্রীসভার অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত কোনও প্রস্তাবিত প্রকল্পের জন্য বাজেটে এক টাকাও বরাদ্দ করার সুযোগ ছিল না। অর্থাৎ একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যে কোনও প্রস্তাবিত প্রকল্পের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল।

বিভাগের নতুন নামকরণ করা হল। পিএডি থেকে পিএএমডি অর্থাৎ প্রজেক্ট অ্যাপ্রাইজাল অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ডিভিশন। ঘটনাক্রমে দেখা গেল যে ক্রমশ সামাজিক প্রকল্পের জন্য বাজেটে ব্যয় বরাদ্দ বেড়ে চলেছে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান, তেল শোধনাগার, শিল্প নগরী, কৃষি খামার প্রভৃতি ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত প্রকল্পের প্রাক-মূল্যায়ন খুব একটা জটিল নয়। কিন্তু ১৯৯২-এ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা যখন সিদ্ধান্ত নেয় যে এখন থেকে সামাজিক প্রকল্পেরও প্রাক-মূল্যায়ন করতে হবে তখন প্রাথমিক পর্যায়ে পিএডি-র বিশারদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেললেও কিছুদিনের মধ্যেই সমাধান সূত্র পাওয়া গেল।

বিভাগের নতুন নামকরণ করা হল। পিএডি থেকে পিএএমডি অর্থাৎ প্রজেক্ট অ্যাপ্রাইজাল অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ডিভিশন। ঘটনাক্রমে দেখা গেল যে ক্রমশ সামাজিক প্রকল্পের জন্য বাজেটে ব্যয় বরাদ্দ বেড়ে চলেছে। আর বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান, তেল শোধনাগার, শিল্প নগরী ইত্যাদি বেসরকারি উদ্যোগের কাছে চলে যাওয়ায় সামাজিক প্রকল্পের প্রাক-মূল্যায়নের পরিধি অনেকটাই বেড়ে গেল।

Planning Commission 9
স্বাস্থ্য বিভাগে নিযুক্ত হতেন ডাক্তার এবং জনস্বাস্থ্য বিষয়ে বিশেষজ্ঞবৃন্দ

পক্ষান্তরে প্রোগ্রাম ইভ্যালুয়েশন অর্গানাইজেশন (পিইও) রূপায়িত প্রকল্পের মূল্যায়ন করার দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিল। দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সরকারের বিভিন্ন চালু প্রকল্পের খুঁটিনাটি বিষয়ে পর্যালোচনার কাজ করতেন পিইও-র আধিকারিকবৃন্দ। কাজের সুবিধার জন্য কলকাতা, চন্ডীগড়, চেন্নাই, হায়দরাবাদ, জয়পুর, লক্ষ্ণউ ও মুম্বাইয়ে স্থাপিত হয়েছিল পিইও-র আঞ্চলিক কার্যালয়। সেই সুবাদে পিইও-ই একমাত্র বিভাগ, যার যোজনা ভবনের বাইরেও কার্যালয় ছিল।

বিভিন্ন মন্ত্রক, রাজ্য সরকারগুলি উন্নয়ন খাতে অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্ল্যানিং কমিশনের ভূমিকা নিয়ে অনেক সময় সমালোচনা মুখর হলেও আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের অসন্তোষ নিরসনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। বিশেষত ১৯৮০-র দশকে যখন কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক নিয়ে জ্যোতি বসু, অশোক মিত্রের উদ্যোগে সারা দেশ উত্তাল, তখনও কিন্তু প্ল্যানিং কমিশন সমন্বয় মঞ্চ হিসেবেই কাজ করে গেছে।

যাবতীয় তর্ক-বিতর্ক-মতান্তর আলোচনার মাধ্যমেই সুরাহা করতেন। এমনকী উন্নয়ন খাতে বেসরকারি পুঁজির বিনিয়োগ বা বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণে এনজিও-র ভূমিকাকেও একটা নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোয় জড়িয়ে নেওয়ারও বন্দোবস্ত হয়েছিল।

১৯৯০-এর দশকে অর্থনীতির উদারীকরণ শুরু হওয়ার পরে বিতর্কটি তীব্র আকার ধারণ করে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের সর্ব্বোচ্চ পদে যাঁরা আসীন ছিলেন, তাঁরা নিজেদের প্রজ্ঞায় আস্থা রেখে অত্যন্ত ধৈর্য ধরে নীতিগত তর্ককে প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন ক্রিয়াকর্মাদির মধ্যে প্রবেশ করতে দেননি। যাবতীয় তর্ক-বিতর্ক-মতান্তর আলোচনার মাধ্যমেই সুরাহা করতেন। এমনকী উন্নয়ন খাতে বেসরকারি পুঁজির বিনিয়োগ বা বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণে এনজিও-র ভূমিকাকেও একটা নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোয় জড়িয়ে নেওয়ারও বন্দোবস্ত হয়েছিল।

মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Please login to bookmark Close
Picture of অমিতাভ রায়

অমিতাভ রায়

প্রশিক্ষিত প্রযুক্তিবিদ ও পরিচিত পরিকল্পনাবিশারদ। পড়াশোনা ও পেশাগত কারণে দেশে-বিদেশে বিস্তর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। তার ফসল বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় বই। জোয়াই, আহোম রাজের খোঁজে, প্রতিবেশীর প্রাঙ্গণে, কাবুলনামা, বিলিতি বৃত্তান্ত ইত্যাদি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Please login to bookmark Close

The Banglalive's Picks

Weekly Newsletter

Enjoy our flagship newsletter as a digest delivered once a week.

By signing up, you agree to our User Agreement and Privacy Policy & Cookie Statement.

Please login to bookmark Close
সত্তরের দশক। ডায়মন্ডহারবার, বারাসাত, কোন্নগর এবং আরও বহু জায়গায় যুবকদের মৃতদেহ পাওয়া যাচ্ছিল৷ গণহত্যা৷ কাশীপুর-বরানগরের গঙ্গায় ভেসে গেল অগণন লাশ৷ সমর সেনের ‘ফ্রন্টিয়ার’ লিখল, ‘যুবকদের মারা হয়েছিল কারণ তারা ছিল প্রচলিত ব্যবস্থায় আস্থাহীন এবং নকশালপন্থী৷’ মধুময় পালের কলমে পড়ুন দেশভিখারির জমিজিরেত। আজ পর্ব ৮...
Please login to bookmark Close
ওপার বাংলা থেকে এসে আমাদের বাড়ির একতলায় যোগেনদারা থাকতেন। সেই একতলায় ঢুকেই সেদিন বললেন ‘আমার প্রথম ছবি আঁকা এই বাড়ির দেয়ালে, একটা ময়ূর এঁকেছিলাম।’ লিখছেন অরিজিৎ মৈত্র...
Please login to bookmark Close
দুর্ঘটনা কখনও শহরের ঐতিহ্য হতে পারে না। কলকাতা পুলিশের ভিড় সামাল দেওয়ার দক্ষতা নিয়ে বাঙালিদের দীর্ঘদিনের গর্ব ছিল। সেই গর্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে হলে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি প্রয়োজন ছিল বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়। লিখছেন প্রেমেন্দু বিকাশ চাকী...

Subscribe

Banglalive.com/TheSpace.ink Guidelines

Established: 1999

Website URL: https://banglalive.com and https://thespace.ink

Social media handles

Facebook: https://www.facebook.com/banglaliveofficial

Instagram: https://www.instagram.com/banglalivedotcom

Twitter: @banglalive

Needs: Banglalive.com/thespace.ink are looking for fiction and poetry. They are also seeking travelogues, videos, and audios for their various sections. The magazine also publishes and encourages artworks, photography. We however do not accept unsolicited nonfiction. For Non-fictions contact directly at editor@banglalive.com / editor@thespace.ink

Time: It may take 2-3 months for the decision and subsequent publication. You will be notified. so please do not forget to add your email address/WhatsApp number.

Tips: Banglalive editor/s and everyone in the fiction department writes an opinion and rates the fiction or poetry about a story being considered for publication. We may even send it out to external editors/readers for a blind read from time to time to seek opinion. A published story may not be liked by everyone. There is no one thing or any particular feature or trademark to get published in the magazine. A story must grow on its own terms.

How to Submit: Upload your fiction and poetry submissions directly on this portal or submit via email (see the guidelines below).

Guidelines:

  1. Please submit original, well-written articles on appropriate topics/interviews only. Properly typed and formatted word document (NO PDFs please) using Unicode fonts. For videos and photos, there is a limitation on size, so email directly for bigger files. Along with the article, please send author profile information (in 100-150 words maximum) and a photograph of the author. You can check in the portal for author profile references.
  2. No nudity/obscenity/profanity/personal attacks based on caste, creed or region will be accepted. Politically biased/charged articles, that can incite social unrest will NOT be accepted. Avoid biased or derogatory language. Avoid slang. All content must be created from a neutral point of view.
  3. Limit articles to about 1000-1200 words. Use single spacing after punctuation.
  4. Article title and author information: Include an appropriate and informative title for the article. Specify any particular spelling you use for your name (if any).
  5. Submitting an article gives Banglalive.com/TheSpace.ink the rights to publish and edit, if needed. The editor will review all articles and make required changes for readability and organization style, prior to publication. If significant edits are needed, the editor will send the revised article back to the author for approval. The editorial board will then review and must approve the article before publication. The date an article is published will be determined by the editor.

 

Submit Content

For art, pics, video, audio etc. Contact editor@banglalive.com