(Deshvikharir Jamijiret 8)
বাংলায় সত্তরের দশক আক্ষরিকভাবেই মৃত্যুর দশকে পরিণত হয়েছিল৷ দুই বাংলায় বাঙালির মৃত্যুর দশক৷
এই বাংলায়: ডায়মন্ডহারবার, বারাসাত, কোন্নগর এবং আরও বহু জায়গায় যুবকদের মৃতদেহ পাওয়া যাচ্ছিল৷ গণহত্যা৷ কাশীপুর-বরানগরের গঙ্গায় ভেসে গেল অগণন লাশ৷ সমর সেনের ‘ফ্রন্টিয়ার’ লিখল, ‘যুবকদের মারা হয়েছিল কারণ তারা ছিল প্রচলিত ব্যবস্থায় আস্থাহীন এবং নকশালপন্থী৷’
আরও পড়ুন: দেশভিখারির জমিজিরেত পর্ব ১, পর্ব ২, পর্ব ৩, পর্ব ৪, পর্ব ৫, পর্ব ৬, পর্ব ৭
মেদিনীপুর, বহরমপুর, আলিপুর সেন্ট্রাল— জেলে জেলে গণহত্যা৷ ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১, বহরমপুর জেল৷ ওয়ার্ডার ও কুখ্যাত দাগি কয়েদিরা সেদিন বন্দিদের এমন নৃশংসতায় পিটিয়েছিল যে ২৩ বছরের যুবক তিমিরবরণ সিংহ ‘মানবদেহ’ ছিলেন না, ‘দলা পাকানো থ্যাঁতলানো মাংসপিণ্ড৷’ তখনও তিনি রক্তে ভাসা মাটিতে পড়ে ক্ষীণস্বরে স্লোগান দিচ্ছিলেন ‘নকশালবাড়ি লাল সেলাম’৷
লক-আপে লক-আপে পিটিয়ে হত্যা৷ ফেক এনকাউন্টার সর্বত্র৷ ‘ছেড়ে দিলাম, পালা’ বলে পেছন থেকে পুলিশের গুলি প্রায় রোজকার ঘটনা৷ কেউ মারা যায় জোতদারদের গুন্ডাবাহিনীর হাতে৷ কেউ মারা যায় দলীয় সংঘর্ষে৷ বন্ধুদের মৃত্যুসংবাদের যন্ত্রণা নিয়ে রাত জাগি৷

২৩শে মার্চ ১৯৭১, মারা গেলেন সুশীতল রায়চৌধুরী৷ নকশালপন্থী রাজনীতির পুরোধা নেতা৷ আন্দোলনের বিস্তারে তাঁর ভূমিকা অসীম৷ তাঁকে দলীয় দায়িত্ব থেকে নিঃসঙ্গ করে দেওয়া হয়েছিল অভ্যন্তরীণ চক্রান্তে৷ অপরাধ, দলের কিছু কাজকর্মে প্রশ্ন তুলেছিলেন৷ সত্তরের আগস্ট থেকে প্রায় একা হয়ে ঘুরেছেন৷ শুনেছেন, ছেলেরা জেলে যাচ্ছে, মারা যাচ্ছে৷ জ্ঞান হারিয়ে পথে পড়ে গেছেন৷ আত্মগোপন করে নার্সিংহোমে ভর্তি হয়েছেন৷ সেখানেই মৃত্যু৷
১৯৭১-এর ৫ই আগস্ট, পুলিশ ‘নিখোঁজ’ করে দিল নকশালপন্থী রাজনীতির অগ্রণী নেতা সরোজ দত্তকে৷ মূর্তি ভাঙার আন্দোলনে বিতর্কিত তিনি৷ কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখলেন, ‘অন্যায় মানুষ করে,/ বিচারের ভার দেবতার/ নাকি দানবের?/ আপনি জীবিত নাকি মৃত তার প্রশ্ন/ অর্থহীন;/ চোখের সামনে কত নিষ্পাপ শিশুরা গুলিবিদ্ধ হয়েছে/ প্রশ্ন করিনি, প্রশ্ন কাকে করব?/ এদেশে মানুষ কেউ আছে নাকি? আমিই কি/ এখনো মানুষ!’
সত্তর দশকের মাঝামাঝি অর্থাৎ জরুরি অবস্থা পর্যন্ত বেপরোয়া চলছিল রাষ্ট্রীয় দমন তথা হত্যাকাণ্ড৷ ১৯৪৩-এ পঞ্চাশের মন্বন্তরে প্রাণ হারান অবিভক্ত বাংলার ৫০ লক্ষ প্রান্তিক বাঙালি৷ ১৯৪৬-এ গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং ও নোয়াখালি গণহত্যায় নিহত হন হাজার হাজার বাঙালি, যার ঠিকঠাক সংখ্যা জানা যায়নি৷
১৬ই জুলাই ১৯৭২, চারু মজুমদারকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ৷ ২৮শে জুলাই পুলিশ হেফাজতে শহিদ হলেন আমর্ম বিপ্লবী মানুষটি৷ রাজনৈতিক সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন সিপিআইএম-এর বিপুল সংখ্যক কর্মীও৷
নবারুণ ভট্টাচার্য লেখেন, ‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না/এই জল্লাদের উল্লাসমঞ্চ আমার দেশ না৷’ সমীর রায় লেখেন, ‘ঈশ্বর যখন ঘন ঘন লাশ চেয়ে পাঠান/লাশ চেয়ে পাঠান গোপনে/মরণ আসে ঘুঙুর পায়ে ক’নে—/হাওয়াপাগল, মরণপাগল ঝড়ে/পাঁচহাতিয়া ডান্ডাগুলো বনবনিয়ে ঘোরে/জেলখানাটা আস্তে আস্তে ঢুকে যাচ্ছে ঢুকে যাচ্ছে/মানুষ কাটা ঘরে৷’

সত্তর দশকের মাঝামাঝি অর্থাৎ জরুরি অবস্থা পর্যন্ত বেপরোয়া চলছিল রাষ্ট্রীয় দমন তথা হত্যাকাণ্ড৷ ১৯৪৩-এ পঞ্চাশের মন্বন্তরে প্রাণ হারান অবিভক্ত বাংলার ৫০ লক্ষ প্রান্তিক বাঙালি৷ ১৯৪৬-এ গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং ও নোয়াখালি গণহত্যায় নিহত হন হাজার হাজার বাঙালি, যার ঠিকঠাক সংখ্যা জানা যায়নি৷ সত্তরে পশ্চিমবাংলায় কত হাজার বাঙালি নিহত হয়েছেন, সে সংখ্যাও নির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন৷
ওপার বাংলায়: বাঙালি নিধনে ঝাঁপিয়ে পড়ে পশ্চিম পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ২৫শে মার্চ ১৯৭১, ঢাকা ও সন্নিহিত অঞ্চলে৷ অপারেশন সার্চ লাইট৷ রাস্তায় বেরিয়ে পাক সেনা নির্বিচারে মানুষ মারতে শুরু করে৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হল, জগন্নাথ হলসহ বিভিন্ন হলের ওপর হামলা চালানো হয় বিশেষ করে৷ কারণ পূর্ববঙ্গের সমস্ত আন্দোলনে ছাত্রদের বড় ভূমিকা বরাবর৷ নিহত হন অধ্যাপকরাও, যেমন গোবিন্দচন্দ্র দেব, মুনিরুজ্জামান, জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা৷ মেধা ও মস্তিষ্কের পরিকল্পিত বিনাশ৷
বাঙালির রক্তে মাটি লাল শুধু পাক সেনা ও তাদের স্যাঙাত রাজাকার, আল বদর, আল শামসরা করেনি, বাঙালি নিজে স্বজনঘাতক হয়ে উঠেছে৷ বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটালেন যিনি, সেই শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবার হত্যা করলেন তাঁর অতি বিশ্বাসভাজন নিকটাত্মীয় খন্দকার মোশতাক আহমেদ৷
অপারেশন সার্চ লাইটে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত আছে৷ কারও মতে, ১০ হাজার৷ কারও মতে এক লাখ৷ লেফটেনেন্ট জেনারেল নিয়াজি স্বীকার করেছেন, ‘২৫শে মার্চের সেই সামরিক অভিযানের নৃশংসতা বুখারায় চেঙ্গিস খান, বাগদাদে হালাকু খান এবং জালিয়ানওয়ালাবাগে ব্রিটিশ জেনারেল ডায়ারের নিষ্ঠুরতাকেও ছাড়িয়ে যায়৷ …মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলি তাঁর ডায়েরিতে লিখেছেন, পূর্ব পাকিস্তানের শ্যামল মাটি লাল করে দেওয়া হবে৷ বাঙালির রক্ত দিয়ে মাটি লাল করে দেওয়া হয়েছিল৷’
বাঙালির রক্তে মাটি লাল শুধু পাক সেনা ও তাদের স্যাঙাত রাজাকার, আল বদর, আল শামসরা করেনি, বাঙালি নিজে স্বজনঘাতক হয়ে উঠেছে৷ বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটালেন যিনি, সেই শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবার হত্যা করলেন তাঁর অতি বিশ্বাসভাজন নিকটাত্মীয় খন্দকার মোশতাক আহমেদ৷

শোনা যায়, হত্যার আগের দিন খন্দকার তাঁর বাড়ির রান্না ইলিশ-কচু এনে খাইয়েছিলেন মুজিবকে৷ বাংলাদেশ আর্মির কতিপয় তরুণের গুলিতে ঝাঁঝরা মুজিবের দেহ ধানমণ্ডির বাড়ির সিঁড়িতে পড়েছিল দীর্ঘক্ষণ ভাদ্রের ভ্যাপসা গরমে, আর ঘরে ঘরে তাঁর প্রিয়জনদের লাশ৷ ১৫ই আগস্ট ১৯৭৫৷
এর মাস তিনেকের মধ্যে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে খুন হলেন মুক্তিযুদ্ধের কারিগর তাজউদ্দীন আহমেদ ও আরও তিন গুরুত্বপূর্ণ নেতা৷ চক্রান্তে সেই খন্দকার মোশতাক৷ ৭ই নভেম্বর ১৯৭৫, খুন হলেন দুর্ধর্ষ মুক্তিযোদ্ধা খালেদ মোশাররফ৷ চক্রান্তে আরেক দুর্ধর্ষ মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের৷ ২৯ই জুলাই ১৯৭৬, ফাঁসিতে ঝুললেন আবু তাহের, সঙ্গে ২৬ সহযোদ্ধা৷ প্রাণদণ্ড হয় কয়েক হাজার ফৌজির, বিদ্রোহের দায়ে৷ মৃত্যুস্রোতের বিবরণে আর যাচ্ছি না৷
বামন হলেও লোকটা জেদি৷ এবং বহু গুণী মানুষের উদার সহযোগ পেয়ে গেল অপ্রত্যাশিতভাবে৷ পুরোনো লাইব্রেরির আলমারির অন্ধকারে পাওয়া গেল জীর্ণ বই৷ একটি ইনস্টিটিউটে মিলল সেই সময়ের খবরের কাগজ৷
বাঙালির একটি বিনাশপর্ব পঞ্চাশের মন্বন্তর প্রসঙ্গে আসি৷ ৫০ লাখ মানুষ মারা গেল পথে ঘাটে ‘ফ্যান দাও, মা’ কেঁদে কেঁদে৷ সে বিষয়ে মাত্র একটি বই! কালীচরণ ঘোষের লেখা ‘ফেমিনস ইন বেঙ্গল— ১৭৭০-১৯৪৩’৷ ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশন, বেঙ্গল-এর প্রকাশনা৷ প্রকাশসাল ১৯৪৪৷
গবেষণা-কাজ নয়, সাধারণ মানুষ সহজে বুঝতে পারে এমন বই নেই কেন? শিক্ষাহীন দীক্ষাহীন অকিঞ্চিৎকর একটি লোক সেই কাজে হাত দেয়৷ বামনের সাধ! এ ধরনের কাজে ফান্ডিং লাগে৷ অধ্যাপক হলে অনুদান-বৃত্তির ব্যবস্থা হতে পারে৷ লোকটার সেই পেডিগ্রি নেই৷ চাকরির মেয়াদ ফুরিয়েছে৷ পেটখোরাকির চাকরি৷ অবসর-উত্তর পর্বে দু-বেলা আহার জোগাড়ে একটি প্রকাশনায় যুক্ত হয়েছে সামান্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে৷

বামন হলেও লোকটা জেদি৷ এবং বহু গুণী মানুষের উদার সহযোগ পেয়ে গেল অপ্রত্যাশিতভাবে৷ পুরোনো লাইব্রেরির আলমারির অন্ধকারে পাওয়া গেল জীর্ণ বই৷ একটি ইনস্টিটিউটে মিলল সেই সময়ের খবরের কাগজ৷ একদা বিপুল প্রচারিত ইংরেজি খবরের কাগজের ছিন্ন বিবর্ণ ফাইল পাওয়া গেল এখনকার সম্পাদকের সহযোগিতায়৷ কারও ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে মিলল জরুরি লেখা বা দলিল৷
এই সহযোগ-সমবায় গড়ে তুলল ৫০০ পৃষ্ঠার একটি সংকলন৷ লোকটার কাজ ছিল স্রেফ জোগাড়ের৷ সংকলিত হল পি সি যোশি, হাওয়ার্ড ফাস্ট, ইয়ান স্টিফেন্স, চিত্তপ্রসাদ, সোমনাথ হোর, অমলেন্দু দে প্রমুখের লেখা৷ জয়নুল আবেদীন, চিত্তপ্রসাদ, সোমনাথ হোর, গোপাল ঘোষ প্রমুখের আঁকা ছবি এবং অনেক দুষ্প্রাপ্য আলোকচিত্র নানা জায়গা থেকে সংগৃহীত হল৷
পূর্ববাংলার মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অসংখ্য বই প্রকাশিত হয়েছে৷ কিন্তু, বলতেই হয়, একজনের কথা তেমনভাবে বলা হয়নি৷ অজ্ঞাত কারণে তাঁকে প্রায় বিস্মরণে ঠেলে দেওয়া হয়েছে৷ তিনি ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলনের প্রাণপুরুষ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত৷
বইটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশ হল পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির সভাঘরে৷ প্রকাশ করলেন ইতিহাসবিদ অমলেন্দু দে৷ সভায় উপস্থিত ছিলেন মেরে-কেটে জনা পঁচিশেক৷ কপালে হাত৷ বিক্রি হবে তো৷ অবাক-করা ঘটনা, ছ-মাসে প্রথম সংস্করণ শেষ৷
এর পর আরও সংস্করণ হয়েছে, পুনর্মুদ্রণ হয়েছে৷ প্রকাশক কখনও জানাননি কত ছাপা হল! তিনি যে দরাজ হাতে ছেপেছেন এটাই সেই লোকটার পিতৃপুরুষের ভাগ্য৷ বইটির নাম ‘ক্ষুধার্ত বাংলা: রাষ্ট্র ও বেনিয়াতন্ত্রের গণহত্যার দলিল৷’ প্রকাশসাল ২০১৩৷

এই বিষয়ে আরও একটা বই সম্পাদনা করা গেছে৷ নাম ‘পঞ্চাশের মন্বন্তর এবং৷’ প্রকাশসাল ২০২২৷ বই দুটি অনেকে পড়েছেন, তরুণ কয়েকজন গবেষণায় আগ্রহীও হয়েছেন৷ বাঙালিয়ানার মৃত্যু সম্পর্কে বাঙালির নিরাপদ উদাসীনতার বিরুদ্ধে একটা ছোট যুদ্ধ তো করা গেল৷ পঞ্চাশের মন্বন্তর বাংলার আবহমান জীবনধারা তছনছ করেছে৷ দেশভাগ বাঙালির ঘর ও মন দুটোই ভেঙেছে৷ সত্তরের বিপ্লবপ্রয়াস বাঙালির মেধা ও মস্তিষ্কের মৃত্যু উপত্যকা রচনা করেছে৷ এই তিনটি অভিঘাত কাটিয়ে ওঠা যাবে না আর৷
পূর্ববাংলার মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অসংখ্য বই প্রকাশিত হয়েছে৷ কিন্তু, বলতেই হয়, একজনের কথা তেমনভাবে বলা হয়নি৷ অজ্ঞাত কারণে তাঁকে প্রায় বিস্মরণে ঠেলে দেওয়া হয়েছে৷ তিনি ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলনের প্রাণপুরুষ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত৷
১৯৪৮-এর ২৫শে ফেব্রুয়ারি করাচির গণপরিষদে বাংলা ভাষার সরকারি ব্যবহারের মর্যাদা দাবি করেন৷ এই দাবির জন্য লাঞ্ছিত হতে হয় তাঁকে৷ পূর্ববাংলার মুসলিম লিগের সদস্যরা তাঁর পাশে দাঁড়াননি তো বটেই, তাঁকে বিদ্রুপ করেছেন৷
কুমিল্লার শ্রেষ্ঠ সন্তান৷ কংগ্রেসি রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ নেতা৷ দেশভাগ হওয়ার পর পাকিস্তানকে যিনি নিজের দেশ বলে মনে করেছেন৷ নবগঠিত দেশের জন্য অনেক কাজ তাঁর করার আছে বলে বিশ্বাস করেছেন৷ থেকে গেছেন সেখানে৷

১৯৪৮-এর ২৫শে ফেব্রুয়ারি করাচির গণপরিষদে বাংলা ভাষার সরকারি ব্যবহারের মর্যাদা দাবি করেন৷ এই দাবির জন্য লাঞ্ছিত হতে হয় তাঁকে৷ পূর্ববাংলার মুসলিম লিগের সদস্যরা তাঁর পাশে দাঁড়াননি তো বটেই, তাঁকে বিদ্রুপ করেছেন৷
১৯৭১-এর মধ্যরাতে ৮৫-উর্ধ্ব ধীরেন্দ্রনাথ ও তাঁর ছোট ছেলে দিলীপকে টেনে হিঁচড়ে তুলে নিয়ে যায় পাক সেনা৷ ময়নামতি ব্যারাকে তাঁদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চলে৷ দেহ নিখোঁজ করে দেওয়া হয়৷ এই ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বড় ছেলে সঞ্জীবের সঙ্গে বিবাহ হয় ঋত্বিক ঘটকের যমজ বোন প্রতীতি বা ভবির৷ প্রতীতি দেবী স্মৃতিচারণায় জানিয়েছেন, ঋত্বিকের সিনেমা ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ তিতাসপাড়ের মানুষ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধাঞ্জলি৷
বিস্মরণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সভ্যতার পরিচয়, বিশ্বাস করি৷
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
