(First Radio Of India)
১৯২০-এর দশকের ভারতবর্ষ। সে এক উত্তাল সময়। একের পর এক ঘটনা ঘটে চলেছে দেশজুড়ে। সদ্য ঘটে যাওয়া প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসানের সঙ্গে সঙ্গে স্প্যানিশ ফ্লু নামক বিশ্বব্যাপী অতিমারির আঘাতে ভারতও জর্জরিত। তার আগেই ঘটে গিয়েছে জালিয়ানওয়ালাবাগের সেই ভয়াবহ ঘটনা— ইতিহাসের নজিরবিহীন বীভৎস নরসংহার। রৌলেট আইনের বিরুদ্ধে এক বছর আগেই শুরু হল গান্ধীজির সত্যাগ্রহ আন্দোলন। আবার, ১৯২০ সালেই ভারত দেখল দেশজুড়ে অসহযোগ আন্দোলনের সূচনা। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, এত কিছুর মধ্যেও, ভারতবর্ষে সেদিন রেডিয়ো ছিল না।
ভারতে রেডিয়োর আবির্ভাব ১৯২৩ সালে— প্রাথমিক স্তরে সেই পরিষেবা শহর কলকাতাতেই আরম্ভ হয়েছিল। সেই অর্থে প্রথম বেতার সম্প্রচার কলকাতাতেই হয়। শোনা যায়, ১৯২১ সালের সরকারি ডাকবিভাগের সহযোগিতায় ‘দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া’ তাদের বোম্বে অফিস থেকেই তৎকালীন বোম্বে প্রভিন্সের গভর্নর স্যর জর্জ লয়েডের অনুরোধে একটি ছোট্ট পরীক্ষামূলক অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত করে। সে অনুষ্ঠান তিনি সুদূর ১৭৫ কিমি দূরের পুণে শহর থেকে শোনেন।
আরও পড়ুন: উস্তাদ বিসমিল্লাহ খাঁ: শহর, সুর ও স্মৃতির সঙ্গম
তাহলে রেডিয়ো আগে কলকাতাতে এসেছে না আগে বোম্বেতে? ‘দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া’র উদ্যোগটি কোনও নিয়মিত সম্প্রচার ছিল না, বরং সেটি ছিল এক পরীক্ষামূলক প্রচেষ্টা। বোম্বেতে নিয়মিত রেডিয়ো সম্প্রচারের কাজ ১৯২৪ সালের আগে শুরু হয়নি। এর ঠিক আগে, ১৯২৩ সালের নভেম্বর মাসে শুরু হয় কলকাতার রেডিয়ো সম্প্রচারের পরিষেবা। এমনকী মাদ্রাজের সম্প্রচার ব্যবস্থাও ১৯২৪ সালে আরম্ভ হয়।
তবে, কলকাতা আর বোম্বেতে প্রথম যে সম্প্রচার শুরু হয়, সেগুলো ছিল এই দুই শহরের রেডিয়ো ক্লাবের উদ্যোগে গড়ে ওঠা পরিষেবা। ঠিক এমন ভাবেই তৃতীয় একটি রেডিয়ো ক্লাবও গড়ে ওঠে দক্ষিণে, মাদ্রাজ রেডিয়ো ক্লাব নামে। প্রথমে কলকাতায় বেতার সম্প্রচার শুরু হয় রেডিয়ো ক্লাব অফ বেঙ্গলের সহযোগিতায়। মাসটা ছিল নভেম্বর, ১৯২৩ সাল। ঠিক পরের বছর ১৯২৪ সালে বোম্বে রেডিয়ো ক্লাবের তত্ত্বাবধানে শুরু হয় সেই শহরের রেডিয়ো সম্প্রচার।

নানা লেখালেখিতে পাওয়া যায়, বোম্বে রেডিয়ো ক্লাবের সম্প্রচার নাকি শুরু হয়েছিল ১৯২৩ সালের জুন মাসে এবং কলকাতার সম্প্রচার তার পরে। তবে এই তথ্যটি সম্ভবত সঠিক নয়। বেঙ্গল রেডিয়ো ক্লাবের সম্প্রচার শুরুর কয়েক মাস পরে, কলকাতার অনুপ্রেরণায়, ১৯২৪ সালের জুন মাসে রেডিয়ো ক্লাব অব বোম্বে তাদের সম্প্রচার আরম্ভ করে।
বোম্বের সম্প্রচার যে কলকাতার পরে শুরু হয়, তার যথেষ্ট প্রমাণ আছে। যেমন, সেই সময়ের একটি সংবাদপত্রের বার্তা। ১৯২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি একটি ইংরেজি সংবাদপত্রে ছাপা খবরে লেখা ছিল—
“Following the example set by Calcutta and the interest evinced in wireless broadcasting, about 30 Bombay enthusiasts met at Taj Mahal Hotel and resolved to form a Radio Club in Bombay. Mr. F.E. Rosher, whose firm represents Marconi’s in India, said that the club would provide an institution for stimulating interest in and fostering the study of radio communication and allied arts and would act as an intermediary between the Government and the Club members so that the privileges granted by government may not be abused. The club has been formed with Mr. F. Wilson as Chairman and Major Holmes as Secretary.”
সময়টা ছিল ১৯১২ সাল। রোশার সাহেব কলকাতায়, তার ব্যবসার স্বার্থে, একটি অফিস করেছিলেন হেস্টিংস স্ট্রিটে। এখানে ছিল ঢাউস সব টেলিগ্রাফের যন্ত্রপাতি। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগতে পারে, কেন?
খবরটি প্রকাশিত হয় সিঙ্গাপুরের স্থানীয় সংবাদপত্র ‘The Singapore Free Press’-এর ১২ নম্বর পৃষ্ঠায়। শুধুমাত্র ‘The Singapore Free Press’ নয়, অনুরূপ একটি সংবাদ ‘The Strait Times’ নামক আরেকটি পত্রিকাতেও সেই বছর ৭ ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই খবরের উল্লেখযোগ্য নাম হল ফ্রেড্রিক (এফ.ই.) রোশার। তিনি তখন ইন্ডিয়ান স্টেটস অ্যান্ড ইস্টার্ন এজেন্সিজ লিমিটেড নামক একটি কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর।

রেডিয়ো আবিষ্কার এবং পেটেন্ট সংগ্রহ করার পর মার্কোনি সাহেবের তখন রমরমা বাজার। রেডিয়ো ট্রান্সমিশন আর ব্রডকাস্টিং সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি বিক্রির ব্যবসা থেকে দু’হাতে উপার্জন করছেন তিনি। তাঁর মার্কোনি’জ কোম্পানির শাখাপ্রশাখা সে সময় বিশ্বের নানা স্থানে। ভারতে তাঁর ব্যবসার প্রতিনিধিত্ব করত এই রোশার সাহেবের কোম্পানি। তাঁর এজেন্সি এই দেশে মার্কোনি-র কোম্পানির তৈরি বেতারের উপযুক্ত যন্ত্রাংশ বিক্রি করত। ভারতে রেডিয়ো সম্প্রচার— বিশেষ করে কলকাতায় এর সূচনাপর্বের কাহিনি জানতে গেলে ফ্রেডরিক রোশারের অবদানের কাহিনিও উল্লেখ করতে হয়।
সময়টা ছিল ১৯১২ সাল। রোশার সাহেব কলকাতায়, তার ব্যবসার স্বার্থে, একটি অফিস করেছিলেন হেস্টিংস স্ট্রিটে। এখানে ছিল ঢাউস সব টেলিগ্রাফের যন্ত্রপাতি। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগতে পারে, কেন? এই প্রসঙ্গে এটা বলা প্রয়োজন যে, কলকাতায় পরীক্ষামূলকভাবে টেলিগ্রাফ শুরু হয় ১৮৫১ সালে এবং প্রথম টেলিগ্রাফিক বার্তা কলকাতা থেকে ডায়মন্ডহারবারে পাঠানো হয় সেই বছরের নভেম্বর মাসে। বছর তিনেক-এর মধ্যে কলকাতা ভারতের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরের সঙ্গে এই পরিষেবার মাধ্যমে যুক্ত হয়।

সমুদ্র উপকূলে পাহারারত ব্রিটিশ নৌসেনা বাহিনীকে টেলিগ্রাফিক বার্তা পাঠাতে মার্কোনি কোম্পানিকে কলকাতাতে অফিস খুলতে হয়েছিল। রোশার সাহেবের কোম্পানি ইন্ডিয়ান স্টেটস অ্যান্ড ইস্টার্ন এজেন্সিজ লিমিটেড ছিল মার্কোনি কোম্পানির এজেন্ট। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রোশার সাহেবের কোম্পানি বেতার সম্প্রচারের সমস্ত ব্যবস্থায় সুসজ্জিত ছিল।
সত্যিই তাই। গ্রামোফোন আর সিনেমার চমক যখন কাটেনি, ঠিক তখনই সবাইকে চমকে বাজারে এল আরেক চমক— রেডিয়ো। আর সেই সুযোগ বুঝে ১৯২২ সালে কোনও এক সময়, রোশার সাহেবও দিয়েছিলেন সরকার বাহাদুরকে সেই চিঠি।
সেই সময় রোশার সাহেব ভারতে রেডিয়ো সম্প্রচারের ইচ্ছা প্রকাশ করে ইংরেজ সরকারের কাছে একটি দরখাস্ত জমা করেন। তখন ১৯২২ সাল। শুধু রোশার সাহেব নয়— দেশের বহু ধনী, প্রতিপত্তিশীল ব্যক্তি ও নানা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এরকম বহু দরখাস্ত জমা দিলে সরকার নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হয়।
আর হবে নাই বা কেন? রেডিয়ো নিয়ে তো ইতিমধ্যে হইচই পড়ে গিয়েছিল গোটা বিশ্বে। যুদ্ধের বাজারে রেডিয়ো মস্কো আর বার্লিন রেডিয়ো গোটা বিশ্বে সাড়া ফেলে দিয়েছে। বিবিসি-ও সবে শুরু হয়েছে। এদেশেও স্থানীয় শিক্ষিত সমাজের মুখে একই কথা— এই তো সেদিন সাহেবরা অন্ধকার ঘরে সাদা পর্দায় ফুটিয়ে তুলল জ্যান্ত মানুষ। বহু মানুষ নিজের চোখে দেখল সাদা পর্দায় রাজা হরিশচন্দ্র আর রানি তারামতীকে! তার কিছু আগেই তো এল কলের গান, সেও তো এক আজব যন্ত্র। এখন আবার শোনা যাচ্ছে, বিলেতে বাক্সের মতো দেখতে একটা যন্ত্র তৈরি হয়েছে, যাতে কিছুই করতে হবে না— একটি বোতাম টিপলেই বাক্সের মধ্যে থেকে জ্যান্ত মানুষ কথা বলবে!

সত্যিই তাই। গ্রামোফোন আর সিনেমার চমক যখন কাটেনি, ঠিক তখনই সবাইকে চমকে বাজারে এল আরেক চমক— রেডিয়ো। আর সেই সুযোগ বুঝে ১৯২২ সালে কোনও এক সময়, রোশার সাহেবও দিয়েছিলেন সরকার বাহাদুরকে সেই চিঠি। উদ্দেশ্য একটাই— বিলেতের মতো, এ দেশেও রেডিয়ো সম্প্রচারের লাইসেন্স দেওয়া হোক।
রোশার সাহেবকে বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি। কয়েক মাসের মধ্যেই ডাক পড়ল। দিল্লিতে আয়োজিত এক কনফারেন্সে সিদ্ধান্ত হল রেডিয়ো স্টেশন হবে। কিন্তু করবে কে? সরকার বাহাদুর তো এক পয়সাও ঢালতে নারাজ। একেবারে ইচ্ছে ছিল না বলাটা ভুল, আসলে সে সময়ের দেশের রাজনৈতিক অবস্থা বাধ সেধেছিল। বিশেষ করে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড রিডিং এই বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চেয়েছিলেন। শোনা যায়, কিছু বছর আগে তিনি মার্কোনির রেডিয়ো টেলিগ্রাফ কোম্পানির সঙ্গে এক শেয়ার কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তাই, নতুন করে কোনও জটিলতায় জড়াতে চাইছিলেন না।
মার্কোনি সাহেবের রেডিয়োর সরঞ্জাম বিক্রি করাও ইন্ডিয়ান স্টেটস অ্যান্ড ইস্টার্ন এজেন্সিজ লিমিটেড-এর লক্ষ্য ছিল। ফলে রেডিয়ো স্টেশন তৈরি করাও জরুরি ছিল। কিন্তু তার জন্য তো পয়সা চাই।
সুতরাং, একটি রেডিয়ো ক্লাব গড়ে ওই অ্যামেচার রেডিয়োকে একটা বড়সড় পেশাদারি চেহারা দেওয়া বড্ড জরুরি হয়ে উঠেছিল। আগেই বলা হয়েছে, ইন্ডিয়ান স্টেটস অ্যান্ড ইস্টার্ন এজেন্সিজ’-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর রোশার সাহেব এই নিয়ে দিল্লিতে বহুবার কড়া নেড়েছেন। কিন্তু ভারতে রেডিয়ো স্টেশন গড়া নিয়ে ইংরেজ সরকার খুব একটা গা করছিল না— এটা জানা সত্ত্বেও যে সরকারি উন্নয়নমূলক কাজকর্মের প্রচারের জন্য রেডিয়োর চেয়ে ভাল আর বড় হাতিয়ার আর কিছু হতে পারে না।
অবশেষে, এক রেডিয়ো ক্লাব প্রতিষ্ঠা করে, তার মাধ্যমে রেডিয়ো সম্প্রসারণ শুরু হল ১৯২৩ সালের নভেম্বর মাসে। কলকাতার বুকে ভারতের প্রথম বেসরকারি রেডিয়োর সম্প্রচার আরম্ভ হল। প্রথমে বছর দু’য়েক তো শখের রেডিয়োর মতোই ছিল— শহরের হাতেগোনা কিছু মানুষ আর কলকাতা রেডিয়ো ক্লাবের সভ্যরা ছাড়া আর কেউ রেডিয়ো নিয়ে খুব একটা চর্চা করত না। এবং এভাবেই নানা ওঠা পড়ার মধ্যে দিয়ে দেখতে দেখতে রেডিয়ো সম্প্রচার প্রায় তিন বছর অতিক্রম করে ফেলল।

অবশেষে চতুর্থ বর্ষে সাহেবরা একটু নড়েচড়ে বসলেন। একটু বড় করে ভাবনাচিন্তাও শুরু করলেন। মার্কোনি সাহেবের রেডিয়োর সরঞ্জাম বিক্রি করাও ইন্ডিয়ান স্টেটস অ্যান্ড ইস্টার্ন এজেন্সিজ লিমিটেড-এর লক্ষ্য ছিল। ফলে রেডিয়ো স্টেশন তৈরি করাও জরুরি ছিল। কিন্তু তার জন্য তো পয়সা চাই। সরকারের কাছে সুপারিশ করলে কোনও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। অতএব, সরকারি নিয়ম মেনে, একটা বেসরকারি রেডিয়ো স্টেশন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হল।
১৯২২ সালে তৈরি হয়েছিল বিবিসি বা ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন। প্রথমদিকে মার্কোনির কোম্পানি জেনারেল ইলেক্ট্রিকসহ চারটে কোম্পানি— এই সংস্থার অংশীদার হলেও পরবর্তীকালে সে ব্যবস্থা ভেঙে সম্পূর্ণ সরকারি মালিকানায় বিবিসি গঠন করা হয়। সেই বিবিসি-র প্রথম ম্যানেজিং ডিরেক্টর ছিলেন স্যর জন রীথ।
‘এই শহর জানে আমার প্রথম সব কিছু।’ ভারতের প্রথম ডাক পরিষেবা ১৭৭৪ সালে শুরু হয় এই শহরে; এই শহরেই দেশের প্রথম টেলিগ্রাফ পরিষেবা শুরু ১৮৫০ সালে; দেশে প্রথম গ্রামোফোনের আবির্ভাবও এই শহরে— ১৮৯৮ সালে। রেডিয়োই বা প্রথমদের তালিকায় থাকবে না কেন?
রীথ সাহেবও দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বিবিসি-র মতো একটি রেডিয়ো স্টেশন চালু করতে চেষ্টা করছিলেন। এই মর্মে তিনি বহুবার বিবিসি-র ভারতের অফিসকে বলেছেন এবং নিজেও ভাইসরয় রিডিংয়ের কাছে দরখাস্ত দিয়েছেন। তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সরকারি স্তরে যে কাজ করা গেল না, সেটা বেসরকারি স্তরে এফ.ই. রোশার সাহেব করলেন। তাঁরই উদ্যোগে ১৯২৩ সালের নভেম্বর মাসে কলকাতায় বেঙ্গল রেডিয়ো ক্লাব গড়ে উঠল। প্রধান দায়িত্বে ছিলেন জন (জে. আর.) স্টেপল্টন, যিনি রোশারের কোম্পানির একজন সুপারিন্টেন্ডেন্ট ছিলেন।

তার দীর্ঘ চার বছর পরে ১৯২৭ সালের ২৬শে আগস্ট বেঙ্গল রেডিয়ো ক্লাব রূপান্তরিত হল ইন্ডিয়ান ব্রডকাস্টিং কোম্পানি-তে। যে বেঙ্গল রেডিয়ো ক্লাবের সম্প্রচার রোশারের টেম্পলটন চেম্বার্স থেকে আরম্ভ হয়েছিল, সেটি এবার নতুন আঙ্গিকে ১ নং গার্স্টিন প্লেসে স্থানান্তরিত হল। ইন্ডিয়ান ব্রডকাস্টিং কোম্পানি নামের এই নতুন সংস্থার নতুন ম্যানেজিং ডিরেক্টর হলেন সুলতান চিনয়। তিনি বোম্বের এক পার্সী ব্যবসায়ী। ইংরেজ সরকারের থেকে কোনও ইতিবাচক সমর্থন না পেয়ে চিনয় এই প্রতিষ্ঠান স্থাপন করলেন এবং ভারতে বেতার সম্প্রচার চালু করলেন।
‘এই শহর জানে আমার প্রথম সব কিছু।’ ভারতের প্রথম ডাক পরিষেবা ১৭৭৪ সালে শুরু হয় এই শহরে; এই শহরেই দেশের প্রথম টেলিগ্রাফ পরিষেবা শুরু ১৮৫০ সালে; দেশে প্রথম গ্রামোফোনের আবির্ভাবও এই শহরে— ১৮৯৮ সালে। রেডিয়োই বা প্রথমদের তালিকায় থাকবে না কেন? তাই ১৯২৩ সালের নভেম্বরও এক ঐতিহাসিক দিন— স্থাপিত হল ভারতীয় রেডিয়োর এক নতুন মাইলফলক। ১৯২৭ সালের ২৬শে আগস্ট দেশের প্রথম সেই অ্যামেচার রেডিয়ো রূপান্তরিত হল পেশাদারি রেডিয়োতে। আজ থেকে ঠিক একশো বছর আগে।
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্য়মে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত