(Sharad Alankaran)
পুজো সংখ্যা বা পুজোবার্ষিকী আমার ছেলেবেলায় খুব একটা বেশি প্রকাশিত হত না। তখন ‘দেব সাহিত্য কুটির’ একচেটিয়া বই, পত্রিকা প্রকাশ করত। প্রতি বছর পুজোর আগে একটা সুন্দর নাম দিয়ে তারা পুজোসংখ্যা প্রকাশ করত। তাতে গল্প, কবিতা, কার্টুন কমিকস্ থাকত। সাদা-কালোর ইলাসট্রেশনের সঙ্গে রঙিন ফুল পেজ ইলাসট্রেশন ছাপা হত। সেসব ছবি একদম রিয়ালিস্টিক কায়দায় আঁকতেন প্রতুলচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, নারায়ণ দেবনাথ, বলাইবন্ধু রায়, পূর্ণচন্দ্র চক্রবর্তী প্রমুখ শিল্পীরা। আর আঁকতেন শৈল চক্রবর্তী, হাসির ছবি।
তুষারকান্তি চ্যাটার্জি ডিটেক্টিভ কমিকস্ আঁকতেন। প্রচ্ছদ আঁকতেন, প্রতুল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, পূর্ণচন্দ্র চক্রবর্তী ও নারায়ণ দেবনাথ। প্রচ্ছদ হত হার্ডবোর্ডের। এক কথায় অপূর্ব। সংগ্রহ করে রাখার মতো। ‘প্রবাসী’ বেরোত প্রতি মাসে, কিন্তু সম্ভবত পুজো সংখ্যা কিছু বেরোত বলে মনে পড়ছে না। আমার অনুমান ভুল হতে পারে।
আরও পড়ুন: অলোকরঞ্জনের প্রচ্ছদ-কাহিনি: এবার চলো বিপ্রতীপে
চলে আসি বর্তমানে। এখন প্রচুর শারদীয়া প্রকাশিত হয়। অজস্র পুজো সংখ্যার ভিতর কেউ কেউ টিকে আছে। আবার কেউ কেউ আর প্রকাশ করতে পারে না। একটা বিশাল খরচা তো আছেই! সেই অনুযায়ী বিক্রিও হয় না। ফলে বন্ধ হয়ে যায়।
যাক সে কথা। আমি চলে আসি আনন্দবাজার পত্রিকা সংস্থা থেকে প্রকাশিত হওয়া পুজো সংখ্যাগুলোর কথায়। ১৯৭৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বরে আনন্দবাজারের আর্ট ডিপার্টমেন্টে যোগ দিই। ‘শারদীয় ১৩৯০ দেশ’ পত্রিকায় প্রথম প্রচ্ছদ এঁকেছিলাম। অর্থাৎ ১৯৮৪ সালের শারদীয় দেশ পত্রিকায়। শারদীয়া বাংলা স্টেটসম্যান ১৪২৪ (২০১৮ সাল) প্রচ্ছদ আমার আঁকা। এরপর করি ‘শারদ ১৪২২ কৃষ্ণসীস’, ‘শারদ ১৪২৩ কৃষ্ণসীস’, ‘শারদ ১৪২৮ কৃষ্ণসীস’, ‘আমপাতা জামপাতা ২০২৩’-এর প্রচ্ছদগুলি।

তারপর আঁকলাম বেনাম বা ছদ্মনামে (আমাদের অফিসের নিয়ম অনুযায়ী বাইরের প্রকাশকের কাজ করা মানা ছিল)। ‘শারদীয়া ১৪০৯ সংবাদ উত্তরপ্রান্ত’ পত্রিকার প্রচ্ছদও আমার আঁকা। ‘শনিবারের চিঠি শারদ সংখ্যা ১৪২৫’-এর প্রচ্ছদও আমার আঁকা। ‘বইচই পুজো বার্ষিকী ১৪৩০’-এর প্রচ্ছদ আমি এঁকেছি। ‘শারদীয় ১৪৩২ এবং বিকল্প’-র প্রচ্ছদও আমার আঁকা।
এবার আসি অন্যান্য শিল্পীদের আঁকা প্রচ্ছদ নিয়ে কিছু কথায়। যে বছর অফিসে জয়েন করলাম, তার পরের বছর প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন বিখ্যাত শিল্পী অন্নদা মুন্সি। উনি ডি জে কিমার অফিসে সত্যজিৎ রায়ের সিনিয়র আর্ট ডিরেক্টর ছিলেন। উনি নিজে এসে আমাদের ডিপার্টমেন্টে ওঁর আঁকা প্রচ্ছদ দিয়ে গিয়েছিলেন।
একবার দেখলাম পুজো ‘দেশ’ কিংবা পুজো ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’র প্রচ্ছদ বিখ্যাত শিল্পী তায়েব মেহেতা ছবি আঁকলেন। আধুনিক স্টাইলের দুর্গা। এই স্টাইলটা ওঁর স্টাইল। তিনি সব ছবি ওই স্টাইলেই আঁকেন। প্রচুর দামে বিক্রি হয় ওঁর আঁকা ছবি।
‘শুকতারা’ ছোটদের পত্রিকা। ‘কিশোর ভারতী’ও পুজোবার্ষিকী প্রকাশ করে। এরা পুজোবার্ষিকীর প্রচ্ছদ বিখ্যাত শিল্পী সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায়কে দিয়ে প্রতি বছর আঁকায়। এবং খুব গর্জিয়াস প্রচ্ছদ হয়। ‘কৃত্তিবাস’ও পুজো সংখ্যা প্রকাশ করে। আজই ফেসবুকে দেখলাম ‘আগমনী’ পত্রিকা ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন করেছে।
একবার দেখলাম পুজো ‘দেশ’ কিংবা পুজো ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’র প্রচ্ছদ বিখ্যাত শিল্পী তায়েব মেহেতা ছবি আঁকলেন। আধুনিক স্টাইলের দুর্গা। এই স্টাইলটা ওঁর স্টাইল। তিনি সব ছবি ওই স্টাইলেই আঁকেন। প্রচুর দামে বিক্রি হয় ওঁর আঁকা ছবি।

একবার কলাভবনের প্রিন্সিপাল অশোক ভৌমিক আঁকলেন ‘দেশ’ কিংবা আনন্দবাজারের পুজো সংখ্যার প্রচ্ছদ। আমি একবার এঁকেছিলাম দেশ পুজোবার্ষিকীর প্রচ্ছদ। আগেই বলেছি। গত বছর গণেশ হালুই আঁকলেন। সেই প্রচ্ছদ নিয়ে অনেকে অনেক মন্তব্য করেছিলেন। গণেশ পাইন বেঁচে থাকার সময় বহুবার এঁকেছেন প্রচ্ছদের জন্য, বিশেষ করে পুজোবার্ষিকী দেশ-এর জন্য।
আমার তো মনে হয়, একমাত্র ওঁর প্রচ্ছদের দুর্গার ভিতর একটা দেবী দেবী ভাব ছিল। সুব্রত চৌধুরী বহুবার প্রচ্ছদ এঁকেছে। ‘আনন্দমেলা পুজোবার্ষিকী’ একবার সত্যজিৎ রায়ের পুত্র সন্দীপ রায় এঁকেছিলেন। সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায় অনেকবার আনন্দমেলা পুজোবার্ষিকীর প্রচ্ছদ এঁকেছিল। সুন্দর সেসব প্রচ্ছদও। বিমল দাস তো অনেকবার পুজোবার্ষিকী ‘পত্রিকা’-র প্রচ্ছদ এঁকেছেন। অসাধারণ আঁকা ওঁর ছবিগুলো।
আনন্দমেলা পুজোবার্ষিকীর প্রচ্ছদ অনেকবার কুণাল বর্মন আঁকে। ও ভাল আঁকে। সুব্রত চৌধুরীও আঁকে, ভালই আঁকে। তবে আমার ভাল লাগে গণেশ পাইনের আঁকা পুজোর প্রচ্ছদগুলো।
এবছর দেখলাম পারুল প্রকাশনীর ‘পুজোবার্ষিকী মহাদেবী ১৪৩৩’-এর বিজ্ঞাপন ফেসবুকে। কার আঁকা প্রচ্ছদ জানি না। গত বছর ‘শারদীয় ১৪৩২ এবং বিকল্প’ পত্রিকার প্রচ্ছদ আমি এঁকেছিলাম। বিকাশ ভট্টাচার্য এক-দুবার প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন। এঁরা সব বিখ্যাত শিল্পী এঁদের আঁকা ছবি প্রচুর দামে বিক্রি হয়। এঁদের ছবিও ভাল। এঁদের ছবি বা প্রচ্ছদের সমালোচনা করা আমার সাজে না।
আজকাল অমিতাভ চন্দ্রও পুজোর প্রচ্ছদ আঁকছে। ওর আঁকা আমার ততটা ভাল লাগে না। আনন্দমেলা পুজোবার্ষিকীর প্রচ্ছদ অনেকবার কুণাল বর্মন আঁকে। ও ভাল আঁকে। সুব্রত চৌধুরীও আঁকে, ভালই আঁকে। তবে আমার ভাল লাগে গণেশ পাইনের আঁকা পুজোর প্রচ্ছদগুলো। তাঁর ছবিতে দুর্গা এক সৌন্দর্য পায়। একটা ভক্তিভাব আসে প্রচ্ছদটা দেখলে।

তবে এবছর ফেসবুক দেখতে দেখতে কয়েকটা পুজো সংখ্যার ছবি ও বিজ্ঞাপন দেখলাম। ‘কিশোরবন্ধু’ চার বছর আগে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। এবছরের প্রচ্ছদ এঁকেছে তন্ময় বিশ্বাস। বইবন্ধু পাবলিকেশনস প্রাইভেট লিমিটেড-এর বই। মোটামুটি প্রচ্ছদের ছবিটা ভালই লাগল। আর একটা পুজো সংখ্যার ঘোষণা দেখলাম। সেটার নাম (বিভীষিকা শারদীয় থ্রিলার পত্রিকা। প্রচ্ছদটা ভালই। তবে দুর্গার ছবি নয়। নরকঙ্কালের নরমুণ্ড ইত্যাদি নিয়ে একটা মুখাবয়ব। ভয়াল মুখের ছবি। আরও একটি বিজ্ঞাপন দেখলাম, পারুল প্রকাশনীর পুজোবার্ষিকী মহাদেবী। প্রচ্ছদ মা দুর্গার ছবি দিয়ে। শিল্পীর নাম জানি না। ভাল কাজ।
এবার অলংকরণের কথায় আসি। আমি যখন প্রথম প্রথম অফিসে চাকরিতে জয়েন করি, তখন আনন্দমেলা পুজো সংখ্যায় সত্যজিৎ রায় তাঁর লেখা উপন্যাসে তিনিই অলংকরণ করে দিতেন। তাঁর নিজস্ব স্টাইলে তিনি আঁকতেন। আমার ভালই লাগত। তবে মনে হত যেন সিনেমার ফটোগ্রাফার অ্যাঙ্গেলের মতো তাঁর ইলাসট্রেশনগুলো। যাই হোক, ভালই লাইন ড্রইংয়ে আঁকা।
তারপর অনুপ রায়, দেবাশীষ দেব, সুব্রত চৌধুরী, কৃষ্ণেন্দু চাকী, বিমল দাস, আঁকতেন। অনুপ ভালই আঁকত। দেবাশীষ দেব কার্টুনধর্মী অলংকরণ করত। এখনও করে। বিমলদা অসাধারণ ইলাস্ট্রেশন করতেন সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায় ও অসাধারণ ছবি আঁকত।
কিছু কিছু জায়গায় ডটেড হাফটোনের এফেক্ট আনার জন্য তখন ছাপানো পেপার পাওয়া যেত। এখন আর পাওয়া যায় না। ওইগুলো ইলাসট্রেশনের উপর পেস্ট করে দেওয়া হত। এইভাবে কয়েক বছর উনি ওঁর উপন্যাসের ইলাসট্রেশনের ছবি আঁকার পর আর সময় পেতেন না। তখন সমীর সরকারকে তিনি ছবি আঁকতে দিলেন। সমীর সরকার ওঁর স্টাইলে ছবি আঁকলেন। সেই ছবিগুলো সত্যজিৎ রায়ের পছন্দ হল। এবং সেই থেকে তিনিই আঁকতেন।
তারপর অনুপ রায়, দেবাশীষ দেব, সুব্রত চৌধুরী, কৃষ্ণেন্দু চাকী, বিমল দাস, আঁকতেন। অনুপ ভালই আঁকত। দেবাশীষ দেব কার্টুনধর্মী অলংকরণ করত। এখনও করে। বিমলদা অসাধারণ ইলাস্ট্রেশন করতেন সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায় ও অসাধারণ ছবি আঁকত।

বিমলদা শারদীয় পত্রিকার প্রচ্ছদ আঁকতেন। এছাড়া গল্প-উপন্যাসের ইলাসট্রেশন তো করতেন। ‘শারদীয় আনন্দলোক’-এর প্রচ্ছদ তো সিনেমা আর্টিস্টদের ফটোগ্রাফ দিয়ে হত। ভিতরে কয়েকটা উপন্যাস ছাপা হত। তাতে একবার আমি ‘দৌড়’ সমরেশ মজুমদারের লেখা উপন্যাসের ইলাসট্রেশন করেছিলাম। তার জন্য প্রতি শুক্রবারে ধর্মতলা যেতাম, সেখানে ফুটপাতে রেসকোর্সে ঘোড়া দৌড়ের বই বিক্রি হত, আমি সেই বই কিনে এনে ওটার ছবি ইলাস্ট্রেশনের অংশ হিসাবে ছবি এঁকেছিলাম। এক বছর রমাপদ চৌধুরী উপন্যাস ধরিয়ে বললেন, দুদিন সময় দেব। এর ভিতর সব কটা ছবি এঁকে দিতে হবে। আমি উপন্যাস পড়ে অনেকগুলো ছবি এঁকে দিয়েছিলাম। ওই স্টাইলটা একটু র্যাপিড স্টাইলে এঁকেছিলাম, ভালই হয়েছিল।
শনিবারের চিঠি পুজোবার্ষিকীতে অলংকরণ আমি যেমন করতাম, তেমন সাধারণ সংখ্যাগুলোতেও আমি আঁকতাম। অনুপ রায়ও আঁকত। মাঝে মাঝে দেবাশীষ দেবও আঁকত। প্রত্যেকেই ভালই আঁকত। ‘কৃত্তিবাস’ পত্রিকায় জেনারেল ইস্যুতে আমি, অনুপ আর একটি ছেলে আঁকত। মাঝে মধ্যে শুভাপ্রসন্নও ইলাসট্রেশন করতেন। অসম্ভব খেটেই ইলাসট্রেশন করতাম। কিন্তু ওরা সময়টা বড্ড কম দিত। টাকাও কম দিত। একবার আমার ডান হাতের কবজি যন্ত্রণায় নাড়তে পারছিলাম না। তখনও আজ কাজ দিয়ে কাল-পরশুর ভিতর চাই বলল। আমি সরাসরি না বলতে বাধ্য হলাম।
অনেক ইলাসট্রেশন করার জন্য রাস্তায় গিয়ে বা কোথাও গিয়ে স্কেচ করে এনে ওই রেফারেন্স থেকে কাজ করেছি। অনুপ রায়ের কথা বলি। অনুপ আমার আর্ট কলেজের সহপাঠী। ও প্রথম থেকেই ইলাসট্রেশন করত। করতে ভালবাসত।
একবার ‘আনন্দমেলা পুজো সংখ্যায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাসের ছবি আমায় আঁকতে দেওয়া হল। কিন্তু তখন সুনীল উপন্যাসের নামটা বলে আমেরিকায় চলে গেলেন। উপন্যাসটা তখন একপাতা লিখে শুরুর অংশটা দিয়েছেন। আমাকে দু’একদিনের মধ্যে ছবি এঁকে দিতে হবে। সহ-সম্পাদক যিনি আমাকে আঁকতে দিয়েছেন, আমি তাঁকে বললাম গল্প না পড়ে আমি ছবি আঁকবো কেমন করে? আমাকে তিনি বললেন। যাই হোক এঁকে দিন, তিনি সেই অনুযায়ী গল্প / উপন্যাস লিখে দেবেন। আমি তাই করলাম। তিনিও তাই দেখে লিখে দিলেন।
পুজো সংখ্যার কাজের প্রকাশের সময়ে, রেগুলার ইস্যুরও কাজ করতে হত। তাই আমি উপন্যাসের জেরক্স কপি নিয়ে আসতাম বাড়িতে। পড়বার জন্য। আমি থরোলি পড়েই ছবি আঁকতাম। প্রয়োজনে দু’বার তিনবার পড়ে নিতাম। পুজো সংখ্যার কাজ এত বেশি হত যে বাড়িতে বসে রাত আড়াইটে তিনটে অবধি করতাম। আবার সকাল সাতটায় ঘুম থেকে উঠে কাজে বসে যেতাম। কোনও ক্রমে স্নান করে খেয়ে অফিসে পৌঁছে যেতাম দশটার আগে। যদিও এগারোটা থেকে শুরু হত অফিস। সবাই আসার আগে কাজে বসে যেতাম। যাতে একটু নিরিবিলিতে কাজ করতে পারি। তাতে কনসেনট্রেশনটা ভাল হয়।

অনেক ইলাসট্রেশন করার জন্য রাস্তায় গিয়ে বা কোথাও গিয়ে স্কেচ করে এনে ওই রেফারেন্স থেকে কাজ করেছি। অনুপ রায়ের কথা বলি। অনুপ আমার আর্ট কলেজের সহপাঠী। ও প্রথম থেকেই ইলাসট্রেশন করত। করতে ভালবাসত।
ও কার্টুনটা ভাল করে। এক সময় প্রতিদিন দ্য টেলিগ্রাফ কাগজে ক্যারিকেচার করত। সে যাই হোক, ও আবার গল্পের অলঙ্করণও করত ভালই। ও প্রথম থেকেই অলংকরণ করত। আমি দীর্ঘ একুশ বছর চাকরি করার পর রেগুলারের ইলাস্ট্রেটর হই। তার আগে পেজ মেকআপ করাই ছিল আমার মূল কাজ।
‘নব কল্লোল’ এর কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। ‘শারদীয়া শুকতারা ১৪৩৩’ এবছর বেরিয়েছে। প্রচ্ছদ শিল্পী রঞ্জন দত্ত। খুব সুন্দর প্রচ্ছদ। ‘ত্রিধারা পূজো বার্ষিকী ১৪৩৩’ও প্রকাশিত হয়েছে। ‘ঝালাপালা’ও প্রকাশিত হয়েছে।
দেবাশীষ দেব তো পুরোটাই হাসির ছবি আঁকত। যত হাসির বা মজার গল্প, কবিতা ও উপন্যাস লেখা হত তার সব ছবিই দেবাশীষ আঁকত। কৃষ্ণেন্দু চাকীও খুব ভাল ইলাসট্রেশন করত বা করে। ওর আঁকা সবারই ভাল লাগত। সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায় অসাধারণ রিয়েলিস্টিক কাজ করত ও করে। বিমল দাসের কথা তো আগেই বলেছি। উনি জিনিয়াস শিল্পী। উনি কোনও আর্ট কলেজে পড়েননি। নিজে নিজেই ছবি এঁকে আমাদের আনন্দ দিয়েছেন।
সুব্রত চৌধুরী একটু আর্টিস্টিক ইলাসট্রেশন করে চলেছে এখনও। ‘দেশ’ পত্রিকার কবিতার পাতা তো ও একাই করে। আর আমি হলাম না-ঘরকা না-ঘাটকা। আমি ক্যালিগ্রাফিও করি। প্রচ্ছদও করি। কোনও কার্টুনিস্ট না থাকলে কার্টুনও করি। পোর্ট্রেট করি। সিরিয়াস ইলাসট্রেশনও করি। আবার oil painting, acrylic painting ও করি। আমি সর্বঘটের কাঁঠালি কলা হয়েই রয়ে গেলাম।
ওই যাঃ। ফেসবুকে আবার একজন বই বিক্রেতা পূজা সংখ্যাগুলোর নাম দিয়েছে। আমি কয়েকটার নাম জানতাম। মিস করে গেছি। ‘উৎসব বার্ষিকী হংসরাজ ১৪৩৩’ খুব ভাল প্রচ্ছদ হয়েছে। ছোটদের পত্রিকা। প্রচ্ছদ এঁকেছে দেবলীনা। পুজোবার্ষিকী সঞ্চিতা শারদ সংখ্যা ১৪৩৩। এটাও ভাল। ছবিতে ‘নচিকেতা ২৬’ এই নামের সই করা আছে।
‘নব কল্লোল’ এর কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। ‘শারদীয়া শুকতারা ১৪৩৩’ এবছর বেরিয়েছে। প্রচ্ছদ শিল্পী রঞ্জন দত্ত। খুব সুন্দর প্রচ্ছদ। ‘ত্রিধারা পূজো বার্ষিকী ১৪৩৩’ও প্রকাশিত হয়েছে। ‘ঝালাপালা’ও প্রকাশিত হয়েছে। ‘এই সময়’ শারদীয়া ১৪৩৩ প্রকাশিত হচ্ছে। তার মানে কুণাল বর্মনের আঁকা শারদীয়া আনন্দমেলা ১৪৩৩, শারদীয়া আনন্দবাজার পত্রিকা ১৪৩৩, সুব্রত চৌধুরীর আঁকা শারদীয় ১৪৩৩ দেশ’। অমিতাভ চন্দ্র-র আঁকা প্রচ্ছদ।
‘ছোটদের উড়োজাহাজ ১৪৩৩’ ছোটদের আঁকা ছবি দিয়ে প্রচ্ছদ। ‘পুজোবার্ষিকী মহাদেবী ১৪৩৩। পারুল থেকে প্রকাশিত হয়েছে। হাতে আঁকা দুর্গা। ভালই। ‘এবং বৃত্তের বাইরে’।
বিভা ভূত ভূতুম উৎসব সংখ্যা ১৪৩৩ প্রচ্ছদটা বেশ। বিভাষিকা থ্রিলার পত্রিকা শারদীয়া ১৪৩৩’ প্রচ্ছদটা বেশ। ‘ভ্রমণ পুজোর গাইড লাইন ১৪৩৩’ প্রচ্ছদটা ফটোগ্রাফ দিয়ে করা। ‘শতাব্দীর বাংলা শারদ ১৪৩৩’ প্রচ্ছদটা মা দুর্গার। আঁকা ছবি। নাম জানি না। ভালই। ‘শারদীয়া ১৪৩৩ প্রসাদ’ প্রচ্ছদটা দুর্গার মুখের ফটোগ্রাফ। ‘কথাসাহিত্য শারদীয় ১৪৩৩’। প্রচ্ছদটা ইন্টারেস্টিং ‘আমপাতা জামপাতা’ ভালই। ‘উমা ১৪৩৩’ও বেশ হয়েছে।
‘শারদের টাইমলাইন’ও মন্দ নয়। দেবীর ছবি দিয়ে প্রচ্ছদ। ‘হ্যালো টেস্টিং ১৪৩৩’। হাতে আঁকা মডার্ন দুর্গা। ‘শারদীয় কৃত্তিবাস ১৪৩৩’। ‘কিশোর জ্ঞান বিজ্ঞান শারদীয় ১৪৩৩। ‘পৃথ্বীরাজ ১৪৩৩ শিশু-কিশোর উৎসব বার্ষিকী’। হাতে আঁকা, বেশ দক্ষ হাতে আঁকা। ‘শারদীয়া উল্টোরথ ১৪৩৩’ সিনেমা আর্টিস্টদের ফটো দিয়ে কভার। ‘উদ্বোধন আশ্বিন ১৪৩৩’ খুব ভাল প্রচ্ছদ। সম্ভবত নন্দলাল বসুর আঁকা।
‘ছোটদের উড়োজাহাজ ১৪৩৩’ ছোটদের আঁকা ছবি দিয়ে প্রচ্ছদ। ‘পুজোবার্ষিকী মহাদেবী ১৪৩৩। পারুল থেকে প্রকাশিত হয়েছে। হাতে আঁকা দুর্গা। ভালই। ‘এবং বৃত্তের বাইরে’। ‘আজকাল শারদ ১৪৩৩, ‘আজকাল বিনোদন ১৪৩৩’। ‘আগমনী শারদীয় ১৪৩৩’ ভালই। শারদীয় ১৪৩৩ দীপ সাহিত্য পত্রিকা। ভালই। ‘পঞ্চম বৈদিক শারদ পৌরাণিকা ১৪৩৩। হাতে আঁকা প্রচ্ছদ। ‘শারদীয়া নব পত্রিকা ১৪৩৩ ভালই লাগল।
‘শারদীয়া অন্য সময় ১৪৩৩। ফটো দিয়ে কভার। ‘শারদীয় ১৪৩৩ আলোক’। ভাল লাগলো দেখে। ‘অক্ষরের রূপকথা মিলন সন্ধ্যা’ প্রকাশিত হয়েছে। ‘প্রাচী শারদ ১৪৩৩’ অনুপ রায়ের আঁকা। ‘শারদীয় ১৪৩৩ অন্তরীপ। হাতে আঁকা দুর্গার মুখ। ‘ছোটদের আলোলিকা শাব্দ সংখ্যা ১৪৩৩। হাতে আঁকা। ‘কচি পাতা শারদ সংখ্যা ১৪৩৩।’ ‘শারদীয়া ট্রেন্ড ১৪৩৩’ প্রথম প্রকাশ। হাতে আঁকা ভালই হয়েছে। আরও পত্রিকা প্রকাশিত হবে। কিন্তু প্রকাশকের সময় নেই। তাই রাখছি।
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত