(Sharadotsav Drama)
একটানা লিখে চলেছেন রবীন্দ্রনাথ। এক আসনে বসে। শান্তিনিকেতন ব্রহ্মবিদ্যালয়ের ছেলেদের আবদার— নাটক লিখে দিতে হবে। সে নাটক অভিনয় করে তবে তারা পুজোর ছুটিতে যাবে।
মহালয়ার দিন থেকেই তখন পুজোর ছুটি পড়ত শান্তিনিকেতনে। সে বছর, ১৯০৮-এও তাই পড়েছিল। তার কয়েক দিন আগেই রবীন্দ্রনাথ ফিরেছেন শিলাইদহের জমিদারি থেকে। লিখেছেন কয়েকটি শরতের গান। কিন্তু কেবল গানে হবে না, পুরোদস্তুর নাটক চাই। ছেলেদের দাবি।
আরও পড়ুন: ‘শরৎচন্দ্র কি সাহিত্য ভ্রষ্ট?’
লিখতে বসলেন রবীন্দ্রনাথ। রাতের বেলা। খুব ভোরে উঠে আহ্নিক শেষ করে আশ্রমে ঘুরে বেড়ান যিনি তাঁকে পরের দিন ভোরে বাইরে দেখতে পেল না ভৃত্য উমাচরণ। সকাল গেল, দুপুর গেল, খাওয়া নেই, নাওয়া নেই, লিখে চলেছেন রবীন্দ্রনাথ। যেন নাটকের সেই বালকদলের মতো তাঁরও পণ, পুঁথি শেষ না করে ওঠা হবে না।
একটানা আঠেরো ঘণ্টা লিখে সে বার রবীন্দ্রনাথ শেষ করেছিলেন সেই নাট্য-পুঁথি শারদোৎসব। সে যখন প্রথম প্রকাশিত হল তার আকার হল বইয়ের নয়, পুঁথির। প্রকাশ করল ইন্ডিয়ান পাবলিশিং হাউস, ১৩১৫ বঙ্গাব্দের ৪ আশ্বিন, ২০ সেপ্টেম্বর ১৯০৮। প্রচ্ছদের সবুজ জমিতে উড়ছে সাদা বলাকা, পড়ে আছে কাশের গুচ্ছ। ভিতরে আর্টপ্লেটে ছাপা যামিনীপ্রকাশ গঙ্গোপাধ্যায়ের আঁকা ‘শারদশ্রী’।

বইয়ের প্রকাশক চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় তখন কলকাতার ইন্ডিয়ান পাবলিশিং হাউসের ম্যানেজার। ‘রবিরশ্মি’তে তিনি লিখছেন, ‘ইহাকে লোচন-রোচন করিবার জন্য ইহার আকার করি এক নূতন ধরণের, — প্রাচীন পুঁথির আকারের, এবং আমি নিজে গিয়া অনুরোধ করিয়া প্রসিদ্ধ চিত্রকর যামিনীপ্রকাশ গঙ্গোপাধ্যায় মহাশয়কে দিয়া ইহার প্রচ্ছদের ও মুখপাতের জন্য দুইখানি চিত্র অঙ্কিত করাইয়া লই।’
এই যামিনীপ্রকাশই ছবি এঁকেছিলেন বাণভট্টের কাদম্বরী অবলম্বনে। শূদ্রকের রাজসভার সেই ছবি ছাপা হয়েছিল রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়-সম্পাদিত ‘প্রদীপ’ পত্রিকায়। সে ছবিকে ছুঁয়ে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন প্রবন্ধ, ‘কাদম্বরীচিত্র’। ‘প্রদীপ’ পত্রিকার ১৩০৬ বঙ্গাব্দের মাঘ সংখ্যায় প্রবন্ধের শেষে রবীন্দ্রনাথ লিখছেন, ‘বর্তমান সংখ্যক প্রদীপে যে চিত্রটি মুদ্রিত হইয়াছে সেই চিত্র অবলম্বন করিয়া কিছু লিখিতে অনুরুদ্ধ হইয়াছিলাম। ইহার মূল পটটি বর্ণতৈলে অঙ্কিত, বিষয়টি কাদম্বরী হইতে গৃহীত এবং চিত্রকর আমার স্নেহাস্পদ তরুণবয়স্ক আত্মীয় শ্রীমান যামিনীপ্রকাশ গঙ্গোপাধ্যায়।’
যামিনীপ্রকাশ অল্প বয়সেই সেই কঠিন ব্রত গ্রহণ করিয়াছেন, এবং তাঁহার প্রথম চেষ্টার যথেষ্ট সফলতা দেখিয়াই ‘প্রদীপের’ শিল্পানুরাগী বন্ধু ও কর্তৃপক্ষ-গণ আগ্রহের সহিত এই চিত্রের প্রতিকৃতি মুদ্রিত করিতে প্রবৃত্ত হইয়াছেন এবং আমাকে ইহার ভূমিকা লিখিতে অনুরোধ করিয়াছেন।
যামিনীপ্রকাশ ঠাকুরবাড়িরই আত্মীয়। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের তৃতীয় ভাই গিরীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর বড় মেয়ে কাদম্বিনী দেবী যামিনীপ্রকাশের পিতামহী। সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের তিনি দৌহিত্র। ছবি আঁকায় তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন অবনীন্দ্রনাথ। পরে অবশ্য অবনীন্দ্রনাথের উল্টোদিকে গিয়ে শিল্পশিক্ষায় ইউরোপীয় অ্যাকাডেমিক রীতিকেই যামিনীপ্রকাশ গ্রহণ করবেন।
রীতি ইউরোপীয় হলেও ছবির বিষয় যে সংস্কৃত সাহিত্য থেকে নিচ্ছেন যামিনীপ্রকাশ তা রবীন্দ্রনাথকে খুশি করেছিল। ঔপনিবেশিক শিল্প-শিক্ষা ব্যবস্থার বিপ্রতীপে ভারতীয় শিল্পশিক্ষার ধারা সম্পর্কে একটা ভাবনাবীজ কলাভবনের পত্তনের বছর কুড়ি আগে থেকেই রবীন্দ্রনাথের চিন্তায় লালিত হচ্ছে। লিখছেন,
‘এ কথা নিশ্চয়, সংস্কৃত-সাহিত্যে আঁকিবার বিষয়ের অভাব নাই। কিন্তু শিল্প-বিদ্যালয়ে আমাদিগকে অগত্যা য়ুরোপীয় চিত্রাদির অনুকরণ করিয়া আঁকিতে শিখিতে হয়। তাহাতে হাত এবং মন বিলাতী ছবির ছাঁচে প্রস্তুত হইয়া যায়, তাহার আর কোনও উপায় থাকে না। সেই অভ্যস্ত পথ হইতে প্রত্যাবৃত্ত হইয়া দেশী চক্ষু দিয়া দেশী চিত্রবিষয়কে দেখা আমাদের পক্ষে বড় কঠিন।
যামিনীপ্রকাশ অল্প বয়সেই সেই কঠিন ব্রত গ্রহণ করিয়াছেন, এবং তাঁহার প্রথম চেষ্টার যথেষ্ট সফলতা দেখিয়াই ‘প্রদীপের’ শিল্পানুরাগী বন্ধু ও কর্তৃপক্ষ-গণ আগ্রহের সহিত এই চিত্রের প্রতিকৃতি মুদ্রিত করিতে প্রবৃত্ত হইয়াছেন এবং আমাকে ইহার ভূমিকা লিখিতে অনুরোধ করিয়াছেন।’
কাশীতে থাকাকালীন তিনি ঠাকুরদা নামেই পরিচিত ছিলেন। কিন্তু ঠাকুরদার ভূমিকায় নামতে রাজি হলেন না ক্ষিতিমোহন। রবীন্দ্রনাথ তাঁকে সন্ন্যাসী-রাজা বিজয়াদিত্যের পার্ট দিলেন, অজিতকুমার চক্রবর্তী হলেন ঠাকুরদা। সেখানেও সমস্যা।
বই তৈরির ক্ষেত্রেও প্রাচ্য পুঁথির আদর্শ হয়তো তাঁর মনে ছিল। বইয়ের যে প্রচলিত আকার আজ আমরা দেখি তা কোডেক। বইয়ের স্পাইন বা শিরদাঁড়া সেখানে থাকে বাঁদিকে। পাতাও ওল্টাতে হয় ডানদিক থেকে বাঁদিকে। প্রাচ্য রীতির বই ছিল পুঁথির মতো, স্পাইন ওপরে, পাতা ওল্টাতে হয় নিচ থেকে ওপরে। শারদোৎসব সেই পুঁথির রীতি মেনে তৈরি রবীন্দ্রনাথের প্রথম বই।
শুধু বই তৈরিই তো নয়, নাটক নিয়েও রবীন্দ্রনাথ ও ঠাকুরবাড়ির নতুন ভাবনারা এল শরতেরই অতিথি হয়ে, শারদোৎসব নাটিকার সূত্র ধরে। যেমন, নাটকে প্লে-ব্যাক। শান্তিনিকেতনে শারদোৎসবের সেই প্রথম অভিনয়ে কে কোন পার্ট করবে তাই নিয়ে যখন আলোচনা হচ্ছে, তখন রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন ঠাকুরদা তো হাতের কাছেই আছেন। ঠাকুরদা মানে ক্ষিতিমোহন সেন। সে বছরেরই আষাঢ় মাসে হিমালয় থেকে এসে শান্তিনিকেতনে যোগ দিয়েছেন তিনি।

কাশীতে থাকাকালীন তিনি ঠাকুরদা নামেই পরিচিত ছিলেন। কিন্তু ঠাকুরদার ভূমিকায় নামতে রাজি হলেন না ক্ষিতিমোহন। রবীন্দ্রনাথ তাঁকে সন্ন্যাসী-রাজা বিজয়াদিত্যের পার্ট দিলেন, অজিতকুমার চক্রবর্তী হলেন ঠাকুরদা। সেখানেও সমস্যা। নাটকে বিজয়াদিত্যকেও তো গান গাইতে হবে। ঠিক হল ক্ষিতিমোহন অভিনয় করবেন, ভিতর থেকে গান গাইবেন রবীন্দ্রনাথ। ক্ষিতিমোহন পরে লিখেছেন,
বাইরের লোকেরা আমার গান শুনিয়া চমৎকৃত হইলেন। সকলেই বলিলেন, “এতদিনে এমন একজন লোক দেখা গেল যিনি গানে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে সমান পাল্লা দিতে পারেন।” সহজে এই কৃতিত্ব লাভ করিয়া খুব খুশী হইয়াছিলাম বটে, কিন্তু পরে এইজন্য আমাকে বহু দুঃখ সহিতে হইয়াছে। যেখানেই যাইতাম লোকে গানের জন্য করিতেন পীড়াপীড়ি। “পারি না” বলিলে কেহ বিশ্বাস করিতেন না। তাঁহারা স্বকর্ণকে কেমন করিয়া অবিশ্বাস করিবেন। বহুদিন পর্যন্ত আমার দুর্গতির আর অন্ত ছিল না।
রবিকাকা বললেন, সে কী কথা! আমি বললুম, দেখোই-না, বেশ মজাই হবে। প্রম্পটারদের বললুম, মশায়, স্টেজে আমাদের সঙ্গে সঙ্গে ঘুরতে হবে। তারাও বললে, সে কী মশায়!
এই শারদোৎসব নাটকের অভিনয়ের জন্যই অবনীন্দ্রনাথও করেছিলেন এক নতুন নিরীক্ষা। স্টেজে নামিয়েছিলেন প্রম্পটারকে। ঘরোয়া-য় অবনীন্দ্রনাথ নিজেই বলছেন সে কথা,
‘এক অদ্ভুত ব্যাপার হয়েছিল। রবিকাকা আমরা সবাই আছি। দেখি থেকে থেকে আমরা পার্ট্ ভুলে যাচ্ছি। ভয় হয় রবিকাকা কখন ধমকে টমকে বসবেন। রবিকাকাও দেখি মাঝে মাঝে আটকে যান। পার্ট্ আর মুখস্থ হয় না। রবিকাকাকে বললুম, বয়স হয়ে গেছে, পার্ট্ মনে রাখতে পারি নে, প্রম্পটার পাশ থেকে কী বলে শুনতেও পাই নে সব সময়। শেষে স্টেজে নেমে বিপদে পড়ব, প্রম্পটারকে স্টেজে নামানো যায় না?
রবিকাকা বললেন, সে কী কথা! আমি বললুম, দেখোই-না, বেশ মজাই হবে। প্রম্পটারদের বললুম, মশায়, স্টেজে আমাদের সঙ্গে সঙ্গে ঘুরতে হবে। তারাও বললে, সে কী মশায়! আমি বললুম, আমি সব ঠিক করে সাজিয়ে গুজিয়ে দেব, ঠিক মানিয়ে যাবে। ভয় নেই কিছু। নয়তো শেষে পার্ট্ ভুলে রবিকাকার তাড়া খেয়ে এই বয়সে একটা সিন করি আর কী। তা হবে না, তোমাদেরও নামতে হবে।’
নেমেছিলেন দু’জন প্রম্পটার। বেশ নীলচিটে কালচিটে পাতলা কাপড়ের বোরখার মতো গেলাপ পরে, মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে। হাতে ছিল বড় একটা বাঁশের ডান্ডা। সোনালি রুপোলি কাগজ দিয়ে ‘চক্কোর মতো’ লাগানো রইল সেই ডান্ডায়। যেন জীবন্ত মিউজিক স্ট্যান্ড। ভিতর দিকে রইল বইয়ের পাতা, সুতো দিয়ে আটকানো। তার পরে, অবনীন্দ্রনাথের কলমেই,
পরে, ১৯২২ সালে, কলকাতা আর শান্তিনিকেতন মিলে কয়েকবার অভিনয় হল শারদোৎসবের। আর সেই অভিনয়ে নন্দলাল বসু করলেন আরেক এক্সপেরিমেন্ট। পঞ্চানন মণ্ডলকে নন্দলাল নিজেই বলছেন সে-কথা,
‘অভিনয় তো হল, আমাদের আর কোনো অসুবিধা নেই, থেকে থেকে কখনো আমরা প্রম্পটারের কাছে যাচ্ছি, তারাও থেকে থেকে আমাদের পিছনে এসে পার্ট বলে দিয়ে যাচ্ছে। রবিকাকাও দেখি মাঝে মাঝে ঘাড় কাত করে মাথা হেলিয়ে শুনে নিচ্ছেন আর অভিনয় করছেন। অভিনয়ের পরে জানাশোনার মধ্যে যাঁরা অভিনয় দেখেছিলেন তাঁদের জিজ্ঞেস করলুম, কেমন লাগল। তারা বললে, অতি চমৎকার, আর ও-দুটো কালো কালো দৈত্যদানবের মতো পিছনে পিছনে ঘুরছিল, ও কী মশায়।
আমি বললুম, প্রম্পটার। কিছু শুনতে পেয়েছিলেন কি। তাঁরা বললেন, কিছু না কিছু না, অতি রহস্যজনক ব্যাপার— দুটো মূর্তি, আমরা আরো ভাবছিলাম পিছনে দৈত্য দানব আর সামনে আপনারা ইত্যাদি ইত্যাদি। তাঁরা অনেক অনেক কিছু ভেবে নিয়েছিলেন। বেড়ে হয়েছিল সেবারে ঐ প্রম্পটারদের ব্যাপার। প্রম্পটাররা বললে, বেড়ে তো হল আপনাদের, আর আমরা থলের ভিতর ঘেমে ঘেমে সারা।’
পরে, ১৯২২ সালে, কলকাতা আর শান্তিনিকেতন মিলে কয়েকবার অভিনয় হল শারদোৎসবের। আর সেই অভিনয়ে নন্দলাল বসু করলেন আরেক এক্সপেরিমেন্ট। পঞ্চানন মণ্ডলকে নন্দলাল নিজেই বলছেন সে-কথা,
ম্যাডান থিয়েটারে শারদোৎসব অভিনয়ের সময়ে আমি সীনের (scene) বদলে বিভিন্ন রঙের কাপড়ের wings আর border-এর প্রবর্তন করলুম। রঙ্গের grade ও depth পাবার জন্যে বিভিন্ন রঙের বিন্যাস করে stage সাজিয়েছিলুম। সেই সময়ে দর্শকদের মধ্যে ছিলেন অবনীন্দ্রনাথ। তিনি বললেন, ‘এটা একটা নতুন প্রবর্তন করেছো হে’।
আমি ভেবেছিলুম সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি তোমাদের ছুটি, তা যখন নেই তখন শারদোৎসব দেখা তোমাদের পক্ষে অসম্ভব। কারণ ওটা হচ্চে ছুটির নাটক— ওর সময়ও ছুটির, ওর বিষয়ও ছুটির; রাজা ছুটি নিয়েচে রাজত্ব থেকে, ছেলেরা ছুটি নিয়েচে পাঠশালা থেকে
পাশ্চাত্য রঙ্গমঞ্চের রীতিনীতি থেকে ছুটি নিয়ে ভারতীয় নাট্যের উৎসে ফিরতে চেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। ছুটির নাটক শারদোৎসব জড়িয়ে রইল সেই যাত্রার সূচনায়। ১০ই সেপ্টেম্বর ১৯২২ রাণুকে লিখেছিলেন তাঁর ‘ভানুদাদা’,
‘আমি ভেবেছিলুম সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি তোমাদের ছুটি, তা যখন নেই তখন শারদোৎসব দেখা তোমাদের পক্ষে অসম্ভব। কারণ ওটা হচ্চে ছুটির নাটক— ওর সময়ও ছুটির, ওর বিষয়ও ছুটির; রাজা ছুটি নিয়েচে রাজত্ব থেকে, ছেলেরা ছুটি নিয়েচে পাঠশালা থেকে তাদের আর কোনো মহৎ উদ্দেশ্য নেই কেবল একমাত্র ইচ্ছে, “বিনা কাজে বাজিয়ে বাঁশি কাটবে সকল বেলা।” ওর মধ্যে একটা উপনন্দ কাজ করচে কিন্তু সেও তার ঋণ থেকে ছুটি পাবার কাজ।’

কিন্তু ছুটির নাটকের নাট্যকারের কী অবস্থা? রাণুকেই লিখছেন ওই চিঠিতে, ‘ছুটির নাটক লিখলেই কি ছুটি পাওয়া যায়? আমি ইস্কুল পালিয়েও ছুটি পেলুম না, ইস্কুলের আবর্তের মধ্যে লাঠিমের মত ঘুরতে লাগলুম— অঙ্ক কষতে ঢিলেমি করলুম। আজ চাঁদার অঙ্কের ধ্যান করতে করতে আহার নিদ্রা বন্ধ— ইংরেজি প্রবাদে এইরকম ব্যাপারকেই বলে থাকে ভাগ্যের বিদ্রূপ।’
সারা জীবন ছুটির বাঁশির আকুল সন্ধানী রবীন্দ্রনাথই কি রয়ে গিয়েছেন শারদোৎসবের মর্মতলে?
তথ্যসূত্র
রবিরশ্মি (পশ্চিম ভাগে) – চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, এ. মুখার্জী এন্ড কোং
‘প্রদীপ’, মাঘ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ, রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়-সম্পাদিত।
ঘরোয়া। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শ্রী রানী চন্দ। বিশ্বভারতী গ্রন্থনবিভাগ
চিঠিপত্র (অষ্টাদশ খণ্ড)। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বিশ্বভারতী গ্রন্থনবিভাগ
ভারতশিল্পী নন্দলাল (দ্বিতীয় খণ্ড)। শ্রীপঞ্চানন মণ্ডল। রাঢ়-গবেষণা-পর্ষদ
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
