(Trust Issue Politics)
‘না ভাই, আমার ট্রাস্ট ইস্যু আছে। এদের বিশ্বাস করা চাপের!’
বিকেল পাঁচটা বাজে। পৌরসভার জনকল্যাণ শিবির একটু আগেই শেষ হয়েছে। একে একে সবাই বাড়ি ফিরছেন। কাছেই একটি ফাস্ট ফুডের দোকান। রোলের অর্ডার দিয়ে সেখানে দাঁড়িয়েই দুই তরুণ-তরুণী কথা বলছেন ভোট-পরবর্তী দলবদল নিয়ে। একটু আগে তাঁদের দেখা গিয়েছিল শিবিরের গা-ঠেলাঠেলি ভিড়ে বেকার ভাতার ফর্মের খোঁজ করতে। ইয়ার্কি মারতে মারতেই আসল আর নকল তৃণমূল নিয়ে কথাটা বললেন যুবকটি।
আরও পড়ুন: শক শশাঙ্ক বৌদ্ধ মুঘল এই পাঁজিতেই লীন
দলবদল আর ক্ষমতালোভী কিছু নেতাদের সৌজন্যে রাজনীতিতে এখন নীতি বা আদর্শ খোঁজা খড়ের গাদায় সূচ খোঁজার মতো। বহু ভোটার তাই ‘ট্রাস্ট ইস্যু’তে ভোগেন রাজনীতি বা রাজনৈতিক নেতাদের প্রসঙ্গ উঠলেই। ইদানীং ভোটের পর তৃণমূল নিয়ে এই ধরনের ঠাট্টা-ইয়ার্কি দিনরাত শোনা যাচ্ছে। তৃণমূলের ভাঙনের পর শুধু তরুণটি নয়, ট্রাস্ট ইস্যুতে ভুগছেন আরও অনেকেই। বিশেষত তৃণমূলের ভোটাররা। তাঁরা এখনও বুঝতে পারছেন না, কোন তৃণমূলকে ভোট দিয়েছিলেন। দলের কর্মীসমর্থকরাও রোজ ভাবছেন, কোন দলে থেকে ‘কাজ’ করলে তাঁদের পলিটিকাল কেরিয়ারে সুবিধা হবে!

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলেন, তৃণমূলের কোনও আদর্শ ছিল না। তাই ভোটে হারার পর এই ঘটনা ঘটা অনির্বায ছিল। ২০১১ সালের ভোটের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, তাঁর দলের আদর্শ হল উন্নয়ন। মা-মাটি-মানুষ ছিল তাঁর স্লোগান। উন্নয়নের টোপ ফেলে রাজ্যে পরিবর্তন আনলেও উন্নয়ন আদতে কিছুই হয়নি। গুচ্ছ গুচ্ছ ভাতা আর গুটিকয়েক কাজ দিয়ে সাধারণ মানুষকে তৃপ্ত করতে চেয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। বরং ২০১১ সালের পর তৃণমূলের প্রভূত উন্নয়ন হয়েছে। তোলাবাজি আর ক্ষমতাদখল করে দলটি বেশ স্বাস্থ্যবান হয়ে উঠেছিল।
ক্ষমতা আর টাকা কি খারাপ? নাহ্। বরং একটি রাজনৈতিক দলকে গড়ে তুলতে হলে এই দুটি জিনিস অত্যন্ত জরুরি। তবে তার সঙ্গে দরকার আদর্শও। আদর্শ না থাকলে, দলটি ভাঙতে বেশি সময় লাগে না। ক্ষমতা আর টাকা চিরকাল থাকে না। সেই দুটির অবর্তমানে দলের সম্বল হয় আদর্শই।

তৃণমূলের এই বিপর্যয়ের কারণে মমতা-অভিষেক বা অন্য নেতারা নন, বিপদে পড়েছেন এক বিপুল সংখ্যক ভোটার। ২০২৬ সালে হারলেও ৪০ শতাংশ মানুষের ভোট পেয়েছিল তৃণমূল। এসআইআর-এর ডামাডোলের মধ্যেও এই বিপুল জনগণ ভরসা করেছিলেন দলটিকে। এখন তাঁরা জানেন না, বিধানসভায় তাঁদের প্রতিনিধি কারা। যে ৬৪ জন বিধায়ক দলত্যাগ করে নতুন করে তৃণমূল করেছেন, তাঁরা তাদের হয়েই কথা বলবেন কি না, তাও অজানা।
কংগ্রেস ও বামেদের হাত ধরে বাংলায় দুর্নীতির সূচনা। তবে উত্তরাধিকার সূত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে নতুন কিছু করে দেখানোর চ্যালেঞ্জ ছিল। সেই চ্যালেঞ্জ তিনি গ্রহণ করেছেন, সফলও হয়েছেন।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, তাঁরাই আসল তৃণমূল। অভিষেকের অত্যাচারে তাঁরা দল ছেড়েছেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, দলত্যাগীরা হলেন ‘বিজেপির বি টিম’। নইলে কেন তাঁরা দল হারার পর আলাদা হলেন? কেন মুকুল রায় বা শুভেন্দু অধিকারীর মতো আগেই দল ছাড়লেন না বা আলাদা দল গড়লেন না? ঋতব্রতরা আসল তৃণমূল হলে, বিধানসভায় নিশ্চয়ই সরকারের ন্যায্য সমালোচনা করবেন। ৪০ শতাংশ ভোটারদের হয়ে সরকারকে নানা ইস্যুতে প্রশ্ন করবেন। তবে, বিজেপির বি টিম হলে, ওই জনগণ প্রতারিত হবেন তাঁদেরই নির্বাচিত নেতাদের কাছে।
তৃণমূলের আদর্শহীনতার আরেকটি দোসর ছিল তাদের ব্যাপক দুর্নীতি। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দুর্নীতির সূচনাকার অবশ্যই মমতা নন। স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলার বুকে দুর্নীতি এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি হয়ে উঠেছিল। খাদ্যমন্ত্রী প্রফুল্লচন্দ্র সেনের সময় রেশন দুর্নীতি, ভূমি সংস্কারের নামে বেনামি সম্পত্তি, লাইসেন্সরাজ, বাম আমলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর পুত্র চন্দন বসুর বেঙ্গল ল্যাম্প দুর্নীতি, ক্যাগ রিপোর্টের ৪৬ হাজার বেনিয়ম, চিরকুটে চাকরি, পার্টির হোলটাইমারের আত্মীয়দের জমিবণ্টনসহ নানা সুবিধা পাইয়ে দেওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি…।

কংগ্রেস ও বামেদের হাত ধরে বাংলায় দুর্নীতির সূচনা। তবে উত্তরাধিকার সূত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে নতুন কিছু করে দেখানোর চ্যালেঞ্জ ছিল। সেই চ্যালেঞ্জ তিনি গ্রহণ করেছেন, সফলও হয়েছেন। কয়েকশো কোটি টাকার নয়ছয়কে কয়েক হাজার কোটিতে পৌঁছে দিয়েছেন। কয়েক হাজার দুর্নীতিকে কয়েক লাখ করে দিয়েছেন। সর্বোপরি তিনি সূচনা করেছেন এমন এক রাজনীতির, যেখানে টাকা দিয়ে সব কিছু কিনে ফেলা যায়। আবেগ-লড়াই-আদর্শ সবই যখন টাকা দিয়ে কেনা যায়, তখন টাকাটাই সব হয়ে ওঠে। আজ যখন ক্ষমতা নেই, তখন টাকায় টান পড়েছে, আর টাকায় টান পড়লে চাকররা তো হাতছাড়া হবেই! চাকর শব্দটার, সত্যি বলতে, আর বিকল্প পাওয়া গেল না। কারণ, আদর্শ না থাকলে একটি রাজনৈতিক দল কর্পোরেট সংস্থার মতো মালিক-কর্মী নিয়মে চলে। তৃণমূল সেই কর্পোরেটাইজেশনেরও অধম হয়ে গিয়েছিল।
ক্ষমতায় থাকাকালীন মমতা টাকা দিয়ে সবকিছু কিনে ফেলতে চেয়েছিলেন, পেরেওছিলেন অনেকটা। গত ১৫ বছরে তিনি বাংলার বাজার থেকে দেদার শপিং করেছেন। স্থানীয় নেতা থেকে টলিউড সেলেব, শপিং কার্টে অনেককেই অ্যাড করেছেন। ভোট জিততে তাঁদের নিয়ে চেকআউটও করেছেন। কিন্তু সেইসব কেনা ঘোড়াদের ক’জনের অভিধানে আদর্শ শব্দটি আছে, তা দেখে নিতে ভুলে গিয়েছেন।
২০২১ সালের ভোটে বাংলার বিধানসভা থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছিল বামেরা। তৃণমূল আর বিজেপির দৌলতে বিধানসভার মেরুকরণ হয়েছিল। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলটি ‘বিজেপির বি টিম’ হলে এবারের বিধানসভা কার্যত বিরোধীশূন্য।
ভোটের পর ঘোড়া কেনাবেচা আটকাতে সংবিধানে দলত্যাগবিরোধী আইন আছে। তবে সেই আইনের কিছু ফাঁকফোকরও রয়েছে। মহারাষ্ট্রে সরকার গঠনের সময়েই দেখা গিয়েছিল, এই আইন বাস্তবে কতটা দুর্বল হতে পারে। তবে, শেষ পর্যন্ত ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল আসল তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতি পেলে আরেকটি গুরুতর প্রশ্নের জন্ম হয়। মমতা-হীন সেই তৃণমূলকে কি মানুষ গ্রহণ করবে মন থেকে?
বেলাগাম দুর্নীতি আর মমতার মিথ্যে কথার রাজনীতি তৃণমূলের গ্রহণযোগ্যতা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। এই কারণেই বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। এমন অবস্থায় যদি পশ্চিমবঙ্গে দু’টো তৃণমূল থাকে, তাহলে ওই ৪০ শতাংশ ভোটার কোন তৃণমূলকে বেছে নেবে? ব্যাপক দুর্নীতিগ্রস্ত মমতাপন্থী তৃণমূলকে? নাকি সুবিধাবাদী ‘বিজেপির বি টিম’ তকমাধারী ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলকে? নাকি বাম বা কংগ্রেসকে? এই মুহূর্তে তৃণমূলের থেকেও দলটির ভোটাররা বেশি সংকটে, রীতিমতো ধর্মসংকট যাকে বলে!

তৃণমূলের এহেন দশার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শুধু ওই ৪০ শতাংশ ভোটার হননি। ক্ষতি হচ্ছে বাংলার রাজনীতিরও। বিধানসভায় যত বেশি বিভিন্ন দলের প্রতিনিধি থাকেন, তত গণতন্ত্র মজবুত হয়। কিন্তু ২০২১ সালের ভোটে বাংলার বিধানসভা থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছিল বামেরা। তৃণমূল আর বিজেপির দৌলতে বিধানসভার মেরুকরণ হয়েছিল। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলটি ‘বিজেপির বি টিম’ হলে এবারের বিধানসভা কার্যত বিরোধীশূন্য। ফলে, নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সহজেই বিল পাশ করিয়ে নিতে পারবে সরকারপক্ষ।
হয়তো সত্যিই ঋতব্রতপন্থীরা বিজেপির বি টিম নন। হয়তো সত্যিই তাঁরা ‘ভাল তৃণমূল’। কিন্তু ‘ভাল তৃণমূল’ হলেই যে এই দলের কেউ বিজেপিতে যোগ দেবেন না, তাও তো নিশ্চিত করে বলা যায় না। রাজ্যসভার তিন তৃণমূল সাংসদ ইতিমধ্যেই ‘ভাল তৃণমূল’ বলে বিজেপি হয়ে গিয়েছেন। রাজ্যসভার জন্য ফের তাঁদের নাম সুপারিশ হয়েছে। অর্থাৎ আদর্শ পাল্টালেও ক্ষমতা হাতছাড়া করেননি কেউ। অন্যদিকে লোকসভার বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা এখন এনসিপিআই নামে একটি দলে যোগ দিয়ে এনডিএ জোটকে সমর্থন করছেন। একজনের কুকথা তাঁরা ১৫ বছর ধরে সহ্য করেছেন। কিন্তু দল হারার পর আর সহ্য করতে পারছেন না।
রাজ্য সভাপতি হিসেবে শমীক ভট্টাচার্যের মেয়াদ ফুরোবে খুব শিগগিরই। পরবর্তী সভাপতি কি বিজেপির তৃণমূলিকরণ ঠেকাতে পারবেন? বর্তমান বিজেপি সরকারের অনেকেই কিন্তু প্রাক্তন তৃণমূলি।
‘নীতিহীন রাজনীতি’র কথা বলতে গিয়ে বিজেপির প্রসঙ্গ আনতেই হয়। তাদের কথা এড়িয়ে গেলে আরও ৪৫ শতাংশ ভোটারের কথা উহ্য থেকে যায়। তৃণমূলের নেতা বিজেপিতে আনার অর্থ তো শুধু তৃণমূলের ভোটারদের ঠকানো নয়, বিজেপির ভোটারদেরও ঠকানো।

শাসক দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ৪ই মে-র আগে থেকেই বলছিলেন, কোনও তৃণমূলকে বিজেপিতে নেওয়া হবে না। বিজেপির তৃণমূলিকরণ হবে না। কিন্তু তাঁর সংকল্প বেশিদিন টেকেনি। দলের উঁচুতলা থেকে নির্দেশ এসেছে ক্ষমতা বাড়াতে যাকে যাকে দরকার, সবাইকে নিতে হবে। বিধানসভা জেতার পর বিজেপির পরবর্তী লক্ষ্য পৌরসভা ও পঞ্চায়েতগুলিতে ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা। তাই উঁচুতলার নির্দেশ মেনে তৃণমূলের ‘পাঁক’ থেকে শুরু হয়ে গেছে ‘ভাল তৃণমূল’কে উদ্ধার করা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বোধহয় খেয়াল ছিল না— পাঁকেই পদ্ম ফোটে। কিন্তু এই পাঁকের পদ্মদের বিজেপির কর্মী ও ভোটাররা কি নেতা হিসেবে মেনে নিতে পারবেন?
বহু বিজেপি কর্মী দলের জন্য প্রাণ দিয়েছেন গত ১৫ বছরে। দিনের পর দিন তৃণমূলকর্মীদের হাতে নারকীয় অত্যাচারের শিকার হয়েছেন। চোখের সামনে মা-বোন-কন্যার ধর্ষণ, বাবা-দাদা-ভাইয়ের হত্যা দেখতে হয়েছে তাঁদের। যে নেতাদের অত্যাচার থেকে বাঁচতে তাঁরা বিজেপিকে ক্ষমতায় আনলেন, সেই নেতারাই এখন ধীরে ধীরে বিজেপিতে আশ্রয় পাচ্ছে। এইসব নেতাদের বিরুদ্ধে থাকা খুন-ধর্ষণ-তোলাবাজির কেসগুলিও কি তাহলে একে একে ভ্যানিশ হয়ে যাবে? কদিন ফের তাঁরা একইরকম দাপট দেখাবে না, তা-ই বা কে বলতে পারে? কে বলতে পারে, এলাকাভিত্তিক ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য এই নেতাদের বাড়বাড়ন্তকে উঁচুতলার নেতৃত্ব প্রশ্রয় দেবেন না? সামান্য কিছু ক্ষতিপূরণের বিনিময়ে, বিজেপি কর্মীরা কি আপোস করে নেবেন উঁচুতলার সব সিদ্ধান্তের সঙ্গে? সব হারানোর পর যাঁদের হাতের পাঁচ শুধু আদর্শ, সেই আদর্শও কি ফিকে হয়ে যাচ্ছে না এই কূট সিদ্ধান্তে?

ভোট মেটার পর পরই ঘোড়া কেনাবেচা শুরু দেখে বহু বিজেপি কর্মী প্রতারিত বোধ করেছেন। দলবদলের এই খেলা দেখে ইতোমধ্যে বিজেপির অনেক কর্মী দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন, কেউ সোশাল মিডিয়ায়, কেউ সরাসরি দলের ভিতর। রাজ্য সভাপতি হিসেবে শমীক ভট্টাচার্যের মেয়াদ ফুরোবে খুব শিগগিরই। পরবর্তী সভাপতি কি বিজেপির তৃণমূলিকরণ ঠেকাতে পারবেন?
বঙ্গরাজনীতি এই মুহূর্তে একদিকে যেমন দুর্বল, অন্যদিকে তেমনই ‘ট্রাস্ট ইস্যু’তে জর্জরিত। ঘোড়া কেনাবেচা আর দলবদলই ধীরে ধীরে রাজনীতির সংস্কৃতি হয়ে উঠলে, ভোটাররাও তাদের ভোটের স্ট্র্যাটেজি পাল্টে ফেলবে অচিরেই।
বর্তমান বিজেপি সরকারের অনেকেই প্রাক্তন তৃণমূলি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তো বটেই। তৃণমূলের ৪০ শতাংশ ভোটারের ভোট পেতে, ২০৩১-এর আগে, বিজেপি তৃণমূলের মতো দেখতে হয়ে যাবে না তো? হিন্দুত্ববাদী আদর্শ যতই থাক, কিছু ঘোড়া তো ঘোড়াই থাকে। উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, শোভন চট্টোপাধ্যায়, মুকুল রায়-রা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েও ফের তৃণমূলে ফিরেছিলেন। তেমন ঘটনা কি ফের ঘটতে পারে? তাহলে ঘোড়াদের রেসের মাঝে আদর্শনিষ্ঠ কর্মী ও ভোটারদের স্থান কোথায়?
ক্ষমতার নির্লজ্জ দাপট আগেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। কিন্তু আদর্শকে হঠিয়ে ক্ষমতাই প্রধান হয়ে উঠলে, সাধারণ মানুষের মনে নেতাদের বিশ্বাসযোগ্যতা কমতে থাকে। বাড়তে থাকে ‘ট্রাস্ট ইস্যু’। বঙ্গরাজনীতি এই মুহূর্তে একদিকে যেমন দুর্বল, অন্যদিকে তেমনই ‘ট্রাস্ট ইস্যু’তে জর্জরিত। ঘোড়া কেনাবেচা আর দলবদলই ধীরে ধীরে রাজনীতির সংস্কৃতি হয়ে উঠলে, ভোটাররাও তাদের ভোটের স্ট্র্যাটেজি পাল্টে ফেলবে অচিরেই। জেন-জি আন্দোলনের মতোই নোটার ক্ষমতা বাড়ানোর দাবি উঠতে পারে, দাবি উঠতে পারে ভোট বাতিলের। তরুণীটির ‘তাহলে কাকে ভোট দিবি’ প্রশ্নে রোলের কাগজ ছিড়তে ছিড়তে ঠিক যেমন তরুণটি উত্তর দিয়েছিল— ‘কেন? যে রিলায়েবল, তাকে ভোট দেব। আর তেমন কেউ না থাকলে বয়কট দ্য ইলেকশন!’
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত