হাসপাতাল ও মৃত্যুর পাশে কবিতার অশ্রু তিনি

John Keats Poetry
John Keats Poetry

হাসপাতাল ও মৃত্যুর পাশে কবিতার অশ্রু তিনি

(John Keats Poetry)

একটা সমাধি ফলকের উপর আলো এসেছে চুম্বনের অপেক্ষায়। ফলকের শরীরে জ্বলজ্বল করছে একটি মৃত্যুহীন বাক্য: ‘এখানে শুয়ে আছে সে, যার নাম জল দিয়ে লেখা।’ জুঁই ফুলের সুবাস নিয়ে সেই কবরের সামনে আমি দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ কোনও অজানা নাইটিঙ্গেল পাখির আদুরে কণ্ঠের ছোঁয়ায় ফুলের এক-একটা পাপড়ি যেন তাঁর কবিতার অমোঘ উচ্চারণ হয়ে গেল— জন কিটস।

তাঁর কবিতার বই হাতে দাঁড়িয়ে আছি… মাঝে দুটো শতাব্দী পার হয়ে গেছে। ১৭৮৯ সালে ফ্রান্সের বিপ্লব সমাপ্ত, তার ছ’বছরের মাথায় জন্ম নেবেন ইংরেজি কবিতার বিদ্রোহী সন্তান জন কিটস। সমাজের বাঁধা নিয়মের অন্ধ কারাগারকে ভেঙে প্রেমের স্পন্দনে বিলীন করে দেবেন পঁচিশ বছর আয়ুর এই দাবানল।


আরও পড়ুন: রবীন্দ্রনাথের একান্ত শেক্সপীয়র


১৮১৬ সাল, দেখতে পাচ্ছি জর্জ চ্যাপম্যানের অনুবাদে ‘ইলিয়াড’ ও ‘ওডিসি’-র মধ্যে ডুবে আছেন কিটস। তাঁর চোখের পাতায় প্রাচীন মানচিত্র ভেঙে খানখান হয়ে যাচ্ছে, আর মনের ক্যানভাসে ফুটে উঠছে এক নতুন বিশ্ববোধ। তাঁর বন্ধু চার্লস কাউডেন ক্লার্ক দেখতে পাচ্ছেন পেত্রার্কের সনেটের আদলে কিটস যেন এক নতুন পৃথিবীর পথে পাড়ি দিচ্ছেন। লিখে ফেলছেন ‘অন ফার্স্ট লুকিং ইনটু চ্যাপম্যানস হোমার’ (১৮১৬)।

গ্রিক সাহিত্যের নেশায় আজন্ম মাতাল, শেক্সপীয়রের ভাষাবৃক্ষে আশ্রিত কিটস্‌ বারবার নিয়ম ভাঙার খেলায় মেতে উঠেছিলেন এক অন্য সুন্দরের অবয়ব, এক অন্য সুরের প্রলেপে কাব্য তৈরির জন্য জীবনকে বাজি রাখতে। গ্রিক শিল্পে অনুরাগী কিটস তার পরের বছরই লিখবেন ‘অন সিইং দা এলগিন মার্বেল’ (১৮১৭)— একটি ‘একফ্র্যাস্টিক সনেট’।

John Keats Poetry
শেক্সপীয়রের ভাষাবৃক্ষে আশ্রিত কিটস্‌ বারবার নিয়ম ভাঙার খেলায় মেতে উঠেছিলেন

গ্রিক শব্দ ‘একফ্র্যাসিস’ মানে বর্ণনা, চিত্ররূপ বর্ণনাই যেন কবিতার মূল কর্মকাণ্ড থেকে দর্শনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কবিতার এমন ঘন রূপ যেন কোনও ‘ওড’ বা গীতিকাব্যে শুনেছি…।

দু’বছর পরের লেখার দিকে এগিয়ে গেলাম— ‘ওড অন আ গ্রেসিয়ান আর্ন’… রং যেখানে পৃথিবীর পরে অন্য পৃথিবীর জন্ম দিয়ে গেছে, শব্দের আকাশ খুলে দিয়েছে এক নতুন ভাষা, ক্লান্ত মানুষ যেখানে খুঁজে নেবে তার বাঁচার সোহাগ— আমি সেই সব শব্দবন্ধ স্পর্শ করছি একে একে— ‘bride of quietness’, ‘mysterious priest’, ‘Cold Pastoral’…

রোমান্টিক সাহিত্যচর্চাকে দর্শনতত্ত্বের আওতায় নিয়ে আসার চেয়ে ‘আন্দোলন’ বলে চিহ্নিত করার প্রধান কারণ— বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ভাবনাসম্পন্ন লেখককুল (যারা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের তীব্র বিরোধিতা করেছেন) একটা আদর্শবোধের জায়গায় একত্রিত হতে পেরেছিলেন।

কিটস তো বিশ্বাস করেছেন, শিল্পই সত্যের এক সময়হীন অভিযাত্রা। রক্তাক্ত বাস্তবের করোটির উপর মাটির মাংস দিয়ে তৈরি ভালবাসা, প্রেম ও সত্যের মৃত্যুহীন অবয়ব তৈরি করাই যে তাঁর নিয়তি। হঠাৎ মাথায় বিদ্যুতের মতো ঝলসে উঠলেন রবীন্দ্রনাথ— ‘ভুল ভ্রান্তি অসম্পূর্ণতা সমস্তর ভিতর দিয়ে নবযুগবিধাতার ডাক শুনে চলতে থাকব নবসৃষ্টির কামনা নিয়ে।’ (৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৮)

উনিশ শতকে নতুন সাহিত্যের একটা সামাজিক আবহাওয়া তৈরি হচ্ছে। কল্পনার রূপ দান করাই তখন রোমান্টিক সাহিত্যের প্রাথমিক ধর্ম হয়ে ওঠে। উনিশ শতকে এর প্রয়োগ শুরু হয়, কিন্তু জ্ঞানদীপ্তির যুগ থেকেই কল্পনার (‘দৃষ্ট চেতনা’) ভাবনা শুরু হয়ে যায়। Centrality of the self, আত্ম-আবিষ্কারের মধ্যে দিয়ে সমাজ ব্যবস্থা ও মানবিক চেতনার নতুন বিশ্ব গঠনের একটা চেষ্টা দেখা দিয়েছিল প্রাথমিক স্তরে।

John Keats Poetry
কিটস বিশ্বাস করেছেন, শিল্পই সত্যের এক সময়হীন অভিযাত্রা

রোমান্টিক সাহিত্যচর্চাকে দর্শনতত্ত্বের আওতায় নিয়ে আসার চেয়ে ‘আন্দোলন’ বলে চিহ্নিত করার প্রধান কারণ— বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ভাবনাসম্পন্ন লেখককুল (যারা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের তীব্র বিরোধিতা করেছেন) একটা আদর্শবোধের জায়গায় একত্রিত হতে পেরেছিলেন।

চিন্তার বহুমুখী ভাব রোমান্টিক আন্দোলনকে পুষ্ট করে। সাহিত্য সুন্দরের প্রকাশ, যা কিছু অসুন্দর, অশুভ ও পীড়াদায়ক তা সাহিত্যের সামগ্রী নয়। কথাটা কিটসের নয়, লেখক ও সম্পাদক লে হান্ট-এর। লে হান্ট-এর কাছে বিশ্বের সমস্ত কিটস-প্রেমীরা কৃতজ্ঞ, কারণ তাঁর পত্রিকা ‘দ্যা একজামিনার’-এর পাতায় কিটসের প্রথম লেখা প্রকাশিত হয়।

সমাজে স্বাধীনতা, সাম্য ও সৌভ্রাতৃত্বের যে ঢেউ আছড়ে পড়েছে, সাহিত্য সেখান থেকে মুক্ত নয়। মানুষের মনের গঠনকে বদল করার জন্যই রোমান্টিকদের পথ চলা শুরু হয়েছিল। সেই সময় স্বাধীন কলমের উপর আঘাত শুরু হয়।

কাব্যজীবনের শুরুতে কিটসের দ্বারা তিনি বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন, যদিও সে প্রভাব খুব একটা সুখকর হয়নি। হান্টের হাত ধরেই কিটস প্রগতিশীল আগ্নেয় লেখকগোষ্ঠীর সঙ্গে পরিচিত হন, ইতিহাসে যাঁরা ‘রোমান্টিক’ বলে পরিচিত। তাঁদের মধ্যে অন্যতম পার্সি বিশি শেলী। প্রগতিশীলরাও তাঁকে দলে নিয়ে নেবেন সাগ্রহে।

হান্টের প্রতি কৃতজ্ঞ কিটস তাঁর প্রথম প্রকাশিত গুচ্ছকবিতা ১৮১৭ সালে উৎসর্গ করবেন লে হান্টকে, সনেটের নাম ‘ডেডিকেশন টু লে হান্ট’। ‘স্লিপ অ্যান্ড পোয়েট্রি’ বলে একটি কবিতায় কিটস এক অদ্ভুত ভাঙাচোরার কাজ করেছিলেন। বর্জনীয় উপকরণের কয়েকটি দৃষ্টান্ত দিয়েছিলেন তিনি: উপড়ানো গাছ, অন্ধকার, পোকামাকড়, সাদা কাপড়ে ঢাকা শব, তীক্ষ্ণ কাঁটার ক্ষতের মতো জীবনযন্ত্রণা, কবরখানা… যৌনতা ও ঔচিত্যের বিষয়ে বাড়াবাড়ির কারণে কিটস কোথাও এর থেকে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেন, আবার অগাস্টান যুগের চিন্তাশীল, দৃঢ় ও সংঘবদ্ধ নন্দনতত্ত্বের কবি আলেকজান্ডার পোপের লেখাকেও সমালোচনা করতে পিছপা হন না।

John Keats Poetry
‘এখানে শুয়ে আছে সে, যার নাম জল দিয়ে লেখা’

সমাজে স্বাধীনতা, সাম্য ও সৌভ্রাতৃত্বের যে ঢেউ আছড়ে পড়েছে, সাহিত্য সেখান থেকে মুক্ত নয়। মানুষের মনের গঠনকে বদল করার জন্যই রোমান্টিকদের পথ চলা শুরু হয়েছিল। সেই সময় স্বাধীন কলমের উপর আঘাত শুরু হয়। নায়ক-নায়িকার দেহসম্ভোগের আভাস থাকায় কিটসের অনেক কবিতা প্রকাশকের অনুমোদন পায়নি।

জন কিটস্‌ হাত দিলেন এবার তাঁর অমর মহাকাব্যের দিকে— ‘হাইপেরিয়ন, আ ফ্র্যাগমেন্ট’। ‘টিট্যানোমাকিয়া’ কাহিনির উপর ভিত্তি করে তাঁর এই মহাকাব্যিক গাথা— প্রাচীন থেসালিতে দশ বছরের যুদ্ধ টাইটানদের (মাউন্ট ওথ্রিসের পুরনো দিনের দেবতা) সঙ্গে অলিম্পিয়ানদের (মাউন্ট অলিম্পাস-এর শাসনে আগত তরুণ প্রজন্ম)।

আমি বিস্ময়ে তাঁর চোখের দিকে তাকিয়ে আছি— সেই চোখের অশ্রুধারায় লেখা আছে তাঁর ভাই টম-এর নাম। আপনজনের মৃত্যুর কাছে এসে তরুণ কিটস দাঁড়ালেন। মৃত্যুপথযাত্রীকে সেবা করাই তাঁর কাছে কাব্যের চেয়ে অনেক বেশি জরুরি ছিল সেদিন।

তরুণ প্রজন্মের এই জয়ের রূপকের মধ্যে দিয়ে টাইটানদের এই পতনকে কোথাও নতুন সময়ের সংস্কৃতির নবজাগৃতির ক্রান্তিকাল হিসেবে দেখছেন কিটস। ১৮১৮ থেকে ’১৯ সাল পর্যন্ত প্রায় ৯০০ লাইন লেখার পর তৃতীয় পর্বে এসে হঠাৎ বন্ধ করে দিয়েছিলেন লেখা।

আমি বিস্ময়ে তাঁর চোখের দিকে তাকিয়ে আছি— সেই চোখের অশ্রুধারায় লেখা আছে তাঁর ভাই টম-এর নাম। আপনজনের মৃত্যুর কাছে এসে তরুণ কিটস দাঁড়ালেন। মৃত্যুপথযাত্রীকে সেবা করাই তাঁর কাছে কাব্যের চেয়ে অনেক বেশি জরুরি ছিল সেদিন।

John Keats Poetry
জুঁই ফুলের সুবাস নিয়ে সেই কবরের সামনে আমি দাঁড়িয়ে আছি

গাইজ হাসপাতালের অ্যাপোথিক্যারি ডিগ্রি নিতে বাধ্য হওয়া, কিটসের কাছে সে তো শুধুমাত্র জীবন সংগ্রামের জন্য, কিছু অর্থের জন্য। তবুও হাসপাতাল, রোগ, মৃত্যু, শূন্যতা এই সবটা এতটা কাছ থেকে দেখতে দেখতে কোথাও তাঁর মনে হয়েছিল অমরত্ব যদি কোথাও থাকে, তা হল কাব্যের অমর পঙক্তিতে।

১লা ডিসেম্বর ১৮১৮, টি.বি. রোগে প্রিয় ভাই টম মারা যায়। মৃত্যু তো সৃষ্টির থেকে বড় হতে পারে না স্রষ্টার কাছে, তাই মৃত্যুঞ্জয়ী কবি আবার কলম খুললেন, ভাইকে অমরত্বের স্বাদ দিতে হবে যে… লিখে ফেললেন ‘দ্য ফল অফ হাইপেরিয়ন: আ ড্রিম’। তবে কিটসের জীবদ্দশায় এই লেখা অপ্রকাশিত ছিল, ১৮৫৬ সালে এই লেখা জনসমক্ষে আসে।

জন কিটস-এর মতো তরুণরা ‘লোয়ার ক্লাসে’র আওতায় হওয়ার জন্য বেশি পয়সা দিয়ে ডাক্তারি পড়া সম্ভব ছিল না। তাই তাদের অ্যাপোথিক্যারি নিয়ে পড়তে হত। অক্সফোর্ড বা কেমব্রিজ থেকে পাশ করা ডিগ্রিওয়ালারা তাদের ডাক্তার হিসেবে সম্বোধন করত না, ‘মিস্টার’ বলেই চিহ্নিত করত।

ভাইয়ের সেবা করতে করতেই টিবি রোগের ছোঁয়াচে জীবাণু কিটসের দেহে বাসা বাঁধে। তাঁর জীবনের সঙ্গে মৃত্যু, রোগ ও ক্ষয় নিত্যদিনের সঙ্গী। ইংল্যান্ডের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আবহাওয়ার বদল হচ্ছে তখন, শিল্প বিপ্লবের ফলে শহরজীবন গ্রাস করে ফেলছে প্রকৃতির আদরের ছোঁয়া। শ্রেণিগত বিভাজন শুরু হচ্ছে আর অর্থনৈতিক অসাম্য সমাজের উপর অভিশাপের মতো বর্ষিত হচ্ছে।

জন কিটস-এর মতো তরুণরা ‘লোয়ার ক্লাসে’র আওতায় হওয়ার জন্য বেশি পয়সা দিয়ে ডাক্তারি পড়া সম্ভব ছিল না। তাই তাদের অ্যাপোথিক্যারি নিয়ে পড়তে হত। অক্সফোর্ড বা কেমব্রিজ থেকে পাশ করা ডিগ্রিওয়ালারা তাদের ডাক্তার হিসেবে সম্বোধন করত না, ‘মিস্টার’ বলেই চিহ্নিত করত।

পনেরো বছর বয়স থেকে থমাস হ্যামন্ডের কাছে অ্যাপোথিক্যারি সার্জেন হিসেবে কাজে যুক্ত ছিলেন কিটস্‌। হ্যামন্ডের ‘house pupil’ থাকাকালীন কিটস দেখেছিলেন অপারেশন থিয়েটারে রোগীদের অসহ্যকর যন্ত্রণা। ডাক্তারের সহযোগী হয়ে সার্জিক্যাল অপারেশন করার সময় বীভৎস রক্তক্ষরণ, শারীরিক যন্ত্রণা এবং চোখের সামনে মৃত্যুকে দেখার অভিজ্ঞতা তাঁকে ক্ষতবিক্ষত করলে কবিতার কাছে তাঁকে অসহায়ের মতো আশ্রয় নিতে বাধ্য হতে হত।

মানুষের এই যন্ত্রণার ভাষাই বোধহয় তাঁর লেখায় এসেছিল— ‘my heart aches, and a drowsy numbness pains/ My sense, as though of hemlock I had drunk,’ (Ode to a Nightingale)।

এক অজ্ঞ ডাক্তার জেমস ক্লার্কের তত্ত্বাবধানে থাকাটাই নিয়তি হয়ে দাঁড়াল তাঁর অকাল মৃত্যুর। যে সময় তাঁর ওষুধের প্রয়োজন ছিল, সেই সময় ওই ডাক্তার তাঁকে দিনে একটা রুটি ও অ্যানাকভি মাছ খেতে বলেন। শুরু হল ভয়াবহ রক্তবমন!

সুকুমার মনের কিটসের উপর কাজের এমন নৃশংস চাপ, অন্যদিকে কবি-যশ প্রাপ্তির আশায় প্রকাশিত কবিতার ছিন্নভিন্ন অপমানজনক সমালোচনা তাঁকে বারবার রক্তাক্ত করে দিয়েছে। ১৮২০ সালে কিটসের শ্বাসকষ্ট ধরা পড়ে, ফুসফুসে প্রদাহ দেখা দেয়। তখন তাঁর ডাক্তার ইংল্যান্ডের ঠান্ডা থেকে মুক্তির জন্য সমুদ্র পাড়ি দিতে বলেন (উনিশ শতকে অসুস্থ তরুণদের জন্য এই পথই ছিল একমাত্র)। ওই সালের ২০শে সেপ্টেম্বর কিটস্‌ তাঁর কাছের বন্ধু জোসেফ সেভার্নের কাছে যেতে রোমের উদ্দেশে যাত্রা করেন। সেই সময় ইংল্যান্ডে কলেরার প্রকোপ শুরু হয়, তাই রোমে গিয়ে তাঁকে ১০ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বাধ্য হতে হয়।

এক অজ্ঞ ডাক্তার জেমস ক্লার্কের তত্ত্বাবধানে থাকাটাই কারণ হয়ে দাঁড়াল তাঁর অকাল মৃত্যুর। যে সময় তাঁর ওষুধের প্রয়োজন ছিল, সেই সময় ওই ডাক্তার তাঁকে দিনে একটা রুটি ও অ্যানাকভি মাছ খেতে বলেন। শুরু হল ভয়াবহ রক্তবমন!

John Keats Poetry
এক অজ্ঞ ডাক্তার জেমস ক্লার্কের তত্ত্বাবধানে থাকাটাই কারণ হয়ে দাঁড়াল তাঁর অকাল মৃত্যুর

রাত ঘন হচ্ছে, এই দেশ, এই পৃথিবীর সবকটা শিয়ালের উল্লাস-হাস্য যখন ছিঁড়ে ফেলতে চাইছে সাহিত্য, শিল্প, চিন্তা, প্রেম, ভালবাসা— তখন হাতে থাকা কিটসের খাতার ক’টা লাইন স্তব্ধ করে দিচ্ছে আমায়— ‘I know the color of that blood. I cannot be deceived in that color. That drop of blood is my death warrant. I must die.’

সেই রক্তের লালের দিকে তাকিয়েও কি তাঁর ফ্যানি ব্রাউনের কথাই মনে পড়েছিল? ১৮২০ সালে লেখা তাঁর চিঠির বাক্য আজও নক্ষত্রের আলোর মতো জ্বলছে— ‘…আমি অবাক হয়ে যাই মানুষ ধর্মকে বাঁচাতে মৃত্যুবরণ করে। আমার ধর্ম যে প্রেম, আমি প্রেমের জন্য মৃত্যুবরণ করতেও রাজি। তোমার জন্য আমি মরতেও প্রস্তুত। আমার চাওয়া পাওয়া শুধুই প্রেম আর তার বিশ্বাসের নাম শুধু তুমি…’

আসলে জন কিটস এক ‘সুন্দরে’র নাম। তিনি ‘সত্য’ হয়ে পৃথিবীর আপামর প্রেমপ্রত্যাশী মানুষের হৃদয়ের ভাষা ও চোখের জল হয়ে অনির্বাণ এক আলো হয়ে আছেন।

মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Please login to bookmark Close
Picture of সায়ন ভট্টাচার্য

সায়ন ভট্টাচার্য

অভিনেতা ও থিয়েটারোলজিস্ট। ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক iLEAP (Pathfinder Group)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Please login to bookmark Close

The Banglalive's Picks

Weekly Newsletter

Enjoy our flagship newsletter as a digest delivered once a week.

By signing up, you agree to our User Agreement and Privacy Policy & Cookie Statement.

Please login to bookmark Close
১৮৫৭-র মহাবিদ্রোহে ধাক্কা খেয়ে, ব্রিটিশরা শৈব, শাক্ত, বৈষ্ণব, ঐন্দ্র, গাণপত্যাদি ধর্মধারাকে, বেদ-বেদান্ত-উপনিষদাদি ও ষড় দর্শনের সঙ্গে একটি ছাঁচে ফেলতে চাইল। একটি ‘হিন্দু’ সম্প্রদায় সৃষ্টি করলে, একটি ধর্মশাস্ত্র (যেমন মনুস্মৃতির) অধীনেই শাসন করতে পারবে ভেবেছিল। এই অবস্থায় বৈদিক ধর্ম, পৌরাণিক ধর্ম ইত্যাদি সরে গিয়ে চলে আসে ‘সনাতন ধর্ম’। লিখছেন শুদ্ধসত্ত্ব ঘোষ...
Please login to bookmark Close
পশ্চিমবঙ্গের সমাজ ও রাজনীতিতে 'সংস্কৃতি' একটি অন্যতম শক্তিশালী অস্ত্র। বই তার অন্যতম উপাদান। রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের পাশাপাশি cultural hegemony দখল করতে পারলে সমাজকে অনেকখানি হাতের মুঠোয় রাখা যায়। লিখছেন সৌমী ধর...
Please login to bookmark Close
প্রবাসী পত্রিকাতে হয়তো তিনিই প্রথম মহিলা, যাঁর আঁকা ছবি ছাপা হয়। বাংলায় প্রথম শিল্পী এবং একই সঙ্গে লেখিকা হওয়ার কৃতিত্ব তাঁরই প্রাপ্য, কারণ সচিত্র গল্প লিখে ওঁর আগে কেউ ছাপাননি। লিখছেন জয়িতা বাগচী...

Subscribe

Banglalive.com/TheSpace.ink Guidelines

Established: 1999

Website URL: https://banglalive.com and https://thespace.ink

Social media handles

Facebook: https://www.facebook.com/banglaliveofficial

Instagram: https://www.instagram.com/banglalivedotcom

Twitter: @banglalive

Needs: Banglalive.com/thespace.ink are looking for fiction and poetry. They are also seeking travelogues, videos, and audios for their various sections. The magazine also publishes and encourages artworks, photography. We however do not accept unsolicited nonfiction. For Non-fictions contact directly at editor@banglalive.com / editor@thespace.ink

Time: It may take 2-3 months for the decision and subsequent publication. You will be notified. so please do not forget to add your email address/WhatsApp number.

Tips: Banglalive editor/s and everyone in the fiction department writes an opinion and rates the fiction or poetry about a story being considered for publication. We may even send it out to external editors/readers for a blind read from time to time to seek opinion. A published story may not be liked by everyone. There is no one thing or any particular feature or trademark to get published in the magazine. A story must grow on its own terms.

How to Submit: Upload your fiction and poetry submissions directly on this portal or submit via email (see the guidelines below).

Guidelines:

  1. Please submit original, well-written articles on appropriate topics/interviews only. Properly typed and formatted word document (NO PDFs please) using Unicode fonts. For videos and photos, there is a limitation on size, so email directly for bigger files. Along with the article, please send author profile information (in 100-150 words maximum) and a photograph of the author. You can check in the portal for author profile references.
  2. No nudity/obscenity/profanity/personal attacks based on caste, creed or region will be accepted. Politically biased/charged articles, that can incite social unrest will NOT be accepted. Avoid biased or derogatory language. Avoid slang. All content must be created from a neutral point of view.
  3. Limit articles to about 1000-1200 words. Use single spacing after punctuation.
  4. Article title and author information: Include an appropriate and informative title for the article. Specify any particular spelling you use for your name (if any).
  5. Submitting an article gives Banglalive.com/TheSpace.ink the rights to publish and edit, if needed. The editor will review all articles and make required changes for readability and organization style, prior to publication. If significant edits are needed, the editor will send the revised article back to the author for approval. The editorial board will then review and must approve the article before publication. The date an article is published will be determined by the editor.

 

Submit Content

For art, pics, video, audio etc. Contact editor@banglalive.com