দেশভিখারির জমিজিরেত পর্ব ৬

Deshvikharir Jamijiret 6
Deshvikharir Jamijiret 6

দেশভিখারির জমিজিরেত পর্ব ৬

(Deshvikharir Jamijiret 6)

কিছুটা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছি৷ কলেজের দিনগুলির কিছু কথা এখানে বলা উচিত, পরে আর সুযোগ পাব না৷ প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হতে গিয়ে ভয়ে পালিয়েছি৷ বঙ্গবাসী কলেজকে নিজের জায়গা মনে হল৷ এখানে আমি স্বচ্ছন্দ প্রথম দিন থেকে৷ 

আজ ভাবি, কেন এমন হয়েছিল? শুধুই আমার হীনম্মন্যতা? প্রেসিডেন্সি বিল্ডিংয়ের বিশালতা এবং ছাত্রছাত্রীদের চেহারায়, পোশাকে ধনীঘরের চাকচিক্য দেখে বস্তিবালক নিজেকে বেমানান ভেবেছিল, এটা ঘটনা৷ বঙ্গবাসী কলেজে কেন সে স্বচ্ছন্দ বোধ করল?


আরও পড়ুন: দেশভিখারির জমিজিরেত পর্ব ১, পর্ব ২, পর্ব ৩, পর্ব ৪, পর্ব ৫


যে মানুষটি তাকে বাংলা অনার্স পড়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন, এবং সামনে বসিয়ে অ্যাডমিশন ফর্ম ভর্তি করিয়েছিলেন, তিনি নিতান্ত সাদামাটা, গায়ের রং বেশ কালো, তেল-জবজবে মাথা, হালকা সবুজ রঙের টেরিলিনের পাঞ্জাবি পরনে, কথায় বাঙাল টান, তাঁর হাসি পাড়ার ট্যাঁসগলির পানুদার মতো আকছার সাধারণ, ওই মানুষটির মধ্যে বালকটি পেয়েছিল আপনার জন৷ পরে জেনেছে, তিনি অধ্যাপক, নাম জীবনবল্লভ চৌধুরী৷ 

তিনি পড়িয়েছেন শাক্তপদাবলী৷ কেমন পড়াতেন? গল্প করতেন খুব, বলতেন নিজের ছাত্রজীবনের কথা, পূর্ববঙ্গের কথা, দেশ ছেড়ে আসার কথা৷ সত্যি বলতে কী, শাক্ত পদাবলির সাহিত্যমর্ম জীবনবল্লভ চৌধুরীর পড়ানোর মধ্যে দিয়ে ছুঁতে পারিনি৷ তাঁর পড়ানো এতটাই নীরস ছিল যে, আমরা ক্লাস এড়িয়ে চলেছি একটা সময়৷ তিনি আমাদের তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাস ‘স্বর্ণলতা’ও পড়িয়েছিলেন৷ আজ আর মনেই পড়ে না কেমন ছিল সে পড়ানো৷

Deshvikharir Jamijiret 6
বঙ্গবাসী কলেজকে নিজের জায়গা মনে হল

কলেজে আসার পথে, তা সে সুরেন্দ্রনাথ কলেজের পাশ দিয়ে আসি, বা শিয়ালদা মোড় থেকে বামদিকের গলিপথ ধরে, বা বউবাজারে নেমে ডালহৌসি-মুখী ডানদিকের ফুটপাথ ধরে খানিকটা এগিয়ে চোরাবাজারের ভিতর দিয়ে— জায়গাটা ঘিঞ্জি, দু’পাশে সার সার দোকান নানা ধরনের আসবাবপত্রের, বোধহয় সেকেন্ড-হ্যান্ড, সেজন্যই চোরাবাজার বলা হত, পথজুড়ে বাজার আর বাজারি— এই অনভিজাত পরিবেশ আমাকে টেনেছিল আমাদের বস্তিপাড়ার সাদৃশ্যে৷ সাজানো-গোছানো বড়োলোকি জায়গাকে ভয় পেয়েছি ছোটবেলা থেকে, অস্বস্তিকর ভেবেছি, যা আজও পাই, ভাবি৷

আরও একটা কারণ হতে পারে, বন্ধু শঙ্কর বণিক বঙ্গবাসী স্কুলের ছাত্র ছিল৷ ওদের আর আমাদের ঘর রাস্তার এপার ওপার৷ ওর কাছে বঙ্গবাসী স্কুলের ইতিহাস শুনেছি কিছুটা, যেখানে ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রাম ও দেশপ্রেমের কথা ছিল৷ একটা স্বাদেশিক বাতাস৷ হতে পারে এই ইতিহাস আমার তরুণ মনকে আচ্ছন্ন করেছিল৷

পরদিন ভোরে গোবরার বামুনপাড়ার অমিয় ডাক্তারের (অমিয় চট্টোপাধ্যায়) মিক্সচার নিয়ে এলেন বাবা৷ দু-দাগ পড়তে মাথা তোলা গেল৷ ট্যাক্সি করে পরীক্ষা দিতে গেলাম উত্তর কলকাতার বিশুদ্ধানন্দ সরস্বতী বিদ্যালয়ে৷

আজ বেলাশেষে পৌঁছে স্পষ্ট বুঝতে পারি, বঙ্গবাসী কলেজে পড়ার সিদ্ধান্তটা ঠিক ছিল না৷ কূপমণ্ডূক মন আর নিরর্থক আবেগ দ্বারা চালিত হয়েছি৷ অভিভাবক বলতে বাবা, দু’বেলার আহার জোটাতে জেরবার তিনি হয়তো আমাকে নিয়ে ভাবার অবকাশ পাননি৷ 

হায়ার সেকেন্ডারিতে ইংরেজি পরীক্ষা দিলাম সিকবেড-এ৷ চালের ভয়াবহ আকালে দিনের পর দিন আটার রুটি আর গমের খিচুড়ি পেটে সহ্য হয়নি৷ বাংলা পরীক্ষা দিয়ে ঘরে ফিরে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম৷ তারপর আর মাথা তু্লতে পারিনি৷ ওঠবার চেষ্টা করলে মাথা ঘোরে, শুয়ে পড়ি৷ সারারাত ছটফট করেছি, ভাঙা ভাঙা ঘুম৷ কীভাবে পরীক্ষায় বসব ভেবে আঁতকে উঠেছি৷ 

Deshvikharir Jamijiret 6
ট্রেন ধরবার তাড়া থাকায় এই বন্ধুরা ক্লাসের বাইরে কখনওই কোনও আলোচনা বা আড্ডায় থাকতে পারত না

পরদিন ভোরে গোবরার বামুনপাড়ার অমিয় ডাক্তারের (অমিয় চট্টোপাধ্যায়) মিক্সচার নিয়ে এলেন বাবা৷ দু-দাগ পড়তে মাথা তোলা গেল৷ ট্যাক্সি করে পরীক্ষা দিতে গেলাম উত্তর কলকাতার বিশুদ্ধানন্দ সরস্বতী বিদ্যালয়ে৷ রেজাল্ট বেরোলে দেখা গেল ইংরেজির নম্বর ৫০ শতাংশের নিচে৷ ফলে ইংরেজি নিয়ে পড়া হল না৷ 

বাবা চেয়েছিলেন৷ আমারও ইচ্ছা ছিল৷ বস্তির ভাড়াটে বিমলাংশু বিশ্বাসের দুপুর-বিকেল জুড়ে শেক্সপিয়র পড়ার প্রভাব ছিল হয়তো৷ ইতিহাস, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়া যেত৷ কেন জানি আঁকড়ে ধরলাম বাংলা৷ টিউশন ও মোটা মোটা বইয়ের খরচের কথা ভেবে কি? যাই হোক, বঙ্গবাসী কলেজে পড়ার সিদ্ধান্তটা ঠিক ছিল না এই জন্যে বলেছি যে এই কলেজে আমাদের বিষয়ে শিক্ষাদানের পরিকাঠামো বেশ দুর্বল ছিল তখন৷

‘অন্নদামঙ্গল’ পড়াতেন অধ্যাপক গৌরমোহন মুখোপাধ্যায়৷ সৌম্যকান্তি সদাপ্রসন্ন৷ পরিপাটি পোশাক ও কেশবিন্যাস৷ প্রায় প্রতিদিন নতুন পাঞ্জাবি, নানা রঙের৷ তাঁকে প্রশ্ন করা যায়, এবং প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্যে তাঁর বাড়ি যাওয়া যায়৷ আমরা গিয়েছি৷

যে অধ্যাপক ‘পঞ্চভূত’ পড়িয়েছেন, ‘কাব্য জিজ্ঞাসা’ পড়িয়েছেন, নাম সম্ভবত ব্রজেন সাহা; সামনে বই রেখে রিডিং পড়ে যেতেন আর ফাঁকে ফাঁকে দু-তিন লাইনের যে ব্যাখ্যা দিতেন, তা অস্পষ্ট, রসকষশূন্য৷ যিনি সাহিত্যের ইতিহাস পড়াতেন, বয়োভারে অশক্ত তিনি কোনওক্রমে ক্লাসরক্ষা করতেন৷ শুধু সাল-তারিখ আর নামের তালিকা৷ সাহিত্যের ‘স’ নেই৷ 

অধ্যাপক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (ভট্টাচার্য হতে পারে) পড়াতেন দারুণ৷ ওঁর শব্দচয়ন, বিন্যাস ও বলার ভঙ্গিমায় আমরা সম্মোহিত হতাম৷ অনর্গল বলে যেতেন৷ তাঁর বিষয় ছিল আধুনিক সাহিত্য৷ সিলেবাস কথিত আধুনিক৷ পড়াতে পড়াতে সিলেবাসের বেড়া টপকে যেতেন৷ কিন্তু এই স্যরকে পেতাম কম৷ তিনি দলীয় রাজনীতিতে ব্যস্ত৷ প্রায়ই ক্লাস নিতে পারেন না৷ যেদিন নেন, এক ঘণ্টায় ঝড়ের গতিতে চারদিনের পড়া পড়িয়ে দেন৷ 

Deshvikharir Jamijiret 6
প্রেসিডেন্সি বিল্ডিংয়ের বিশালতা এবং ছাত্রছাত্রীদের চেহারায়, পোশাকে ধনীঘরের চাকচিক্য দেখে বস্তিবালক নিজেকে বেমানান ভেবেছিল

কলেজের হস্টেল সুপারের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি৷ হস্টেলে তাঁর ঘরের বাইরে বারান্দায় ক্লাস করেছি রবিবার বা কলেজে ছুটি চলাকালে৷ বিশ্বনাথবাবু সিপিআইয়ের বিধায়ক হয়েছিলেন, খুব সম্ভব বেহালা কেন্দ্র থেকে৷ ‘অন্নদামঙ্গল’ পড়াতেন অধ্যাপক গৌরমোহন মুখোপাধ্যায়৷ সৌম্যকান্তি সদাপ্রসন্ন৷ পরিপাটি পোশাক ও কেশবিন্যাস৷ প্রায় প্রতিদিন নতুন পাঞ্জাবি, নানা রঙের৷ তাঁকে প্রশ্ন করা যায়, এবং প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্যে তাঁর বাড়ি যাওয়া যায়৷ আমরা গিয়েছি৷ যতদূর মনে পড়ে, পাইকপাড়ায়৷ তবে টেক্সটের বাইরে গিয়ে জানার আগ্রহ তাঁর কাছে তেমন আমল পায়নি৷ নোট মেটেরিয়াল পেয়েছি গোছানো৷ 

আজও ছবির মতো মনে আছে অধ্যাপক অরুণকুমার বসুর পড়ানো৷ কলেজের ছাদে গুটিকয় ঘর, মাথায় অ্যাসবেস্টস, আমরা বলতাম ‘সেমিনার ঘর’, এইখানে অনার্সের ক্লাস হত, তারই একটিতে ধুতি-সাদা পাঞ্জাবি পরা এক চঞ্চল যুবক ভাষাতত্ত্ব পড়াচ্ছেন, তিনি চেয়ারে বসেন না, কেবলই হাঁটেন, ছোট্ট ঘরে দু-পাশে বেঞ্চের মাঝখানে অপরিসর স্পেস দিয়ে হাঁটাহাঁটি করেন, পালি-প্রাকৃতের শরীর ভেঙে ভেঙে বাংলা শব্দ জন্ম নেয়, হাঁটতে হাঁটতে চলে যান ব্ল্যাকবোর্ডের কাছে, বাংলাভাষার জন্মবৃত্তান্তের নকশা রচিত হয় বোর্ডের কালো জমিতে, ছাদে হাওয়া খেলা করে, বৃষ্টি ও জলবাতাস জানালায়, স্যারের দিঘল চোখ আমাদের দেখে, আমরা জেনেছি তাঁর আর-একটি নাম আছে, ভাস্কর বসু, তাঁর আরেকটি পরিচয় আছে, তিনি গীতিকার, লিখেছেন ‘সোনার হাতে সোনার কাঁকন কে কার অলংকার’৷ 

প্রেসিডেন্সিতে পাওয়া যেত কি বিদ্যার্জনের উন্নততর পরিবেশ? ছাত্র আন্দোলনে অশান্ত হয়েছে প্রেসিডেন্সিও সেই সময়, কয়েক বছর৷ নিয়মিত ক্লাস হতে পেরেছে কি?

শুনেছি, এই সেমিনার রুমগুলো অনার্সের ক্লাসের জন্য নির্ধারিত ছিল৷ আমাদের বিভাগের অন্য অধ্যাপকরা তিনতলা সিঁড়ি ভাঙতে পারতেন না৷ অরুণ বসু স্যার তরতরিয়ে উঠে আসতেন, তাঁর চলায় আশ্চর্য ছন্দ, আমরা তাঁর উৎফুল্ল অনুগামী৷ বিশিষ্ট কবি ও রবীন্দ্র-বিশেষজ্ঞ জগদীশ ভট্টাচার্য ছিলেন বিভাগীয় প্রধান৷ কিন্তু তাঁকে পেয়েছি মাত্র কয়েকদিন৷ ‘বিসর্জন’ ও ‘মালিনী’ পড়িয়েছেন৷ অসামান্য৷ 

খদ্দরের ধুতি-পাঞ্জাবির স্বাদেশিক আবহে বসে তাঁর অর্থগর্ভ পাঠ নাটকের দৃশ্যগুলি জীবিত করে তোলে৷ ঘোর লাগে, ক্লাসঘর মুছে যায়৷ তিনি পড়তে বলেছিলেন, তাই প্রেসিডেন্সির রেলিং থেকে কিনে আনি তাঁরই লেখা ‘কবিমানসী’র প্রথম খণ্ড, সেকেন্ড-হ্যান্ড, আজও আছে৷ এই মাপের অধ্যাপকদের ক্লাস বেশি পেলে হয়তো ছাত্রজীবনটা বাউন্ডুলে হয়ে যেত না৷ জগদীশ ভট্টাচার্যের ক্লাসও বেশিদিন পাইনি৷ 

Deshvikharir Jamijiret 6
খদ্দরের ধুতি-পাঞ্জাবির স্বাদেশিক আবহে বসে তাঁর অর্থগর্ভ পাঠ নাটকের দৃশ্যগুলি জীবিত করে তোলে

প্রেসিডেন্সিতে পাওয়া যেত কি বিদ্যার্জনের উন্নততর পরিবেশ? ছাত্র আন্দোলনে অশান্ত হয়েছে প্রেসিডেন্সিও সেই সময়, কয়েক বছর৷ নিয়মিত ক্লাস হতে পেরেছে কি? এইসব প্রশ্নের জবাব পেয়েছি আমার মতো করে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেসিডেন্সির তিন ছাত্রের সহপাঠী হতে পেরে৷ অরিজিৎ মিত্র, অলক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং স্বপনকুমার দে৷ 

নকশালবাড়ি আন্দোলনে অংশ নিয়ে অরিজিৎ জেল খেটেছে, পুলিশের হাতে চরম নিগৃহীত হয়েছে৷ নির্দিষ্ট বছরে পরীক্ষায় বসতে পারেনি৷ পরে সিটি সাউথে অধ্যাপনা করে৷ সিপিআইএম লিবারেশন-এর রাজ্য নেতা হয়েছিল৷ সম্পাদনা করত ‘নবান্ন’ পত্রিকা৷ অলক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রখ্যাত গীতিকার পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই৷ পরে আইনজীবী হয়, শুনেছি৷ স্বপনকুমার দে অধ্যাপনার পেশা গ্রহণ করে৷ তিনজনই লেখাপড়ায় ব্রিলিয়ান্ট৷ ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদের রাজনৈতিক আন্দোলনের আবহে থেকেও ওরা প্রেসিডেন্সি থেকে ভাল ফল করেছিল৷

বঙ্গবাসীতে কয়েকজন সহপাঠী মাঝপথে কলেজে আসা বন্ধ করে দেয়৷ তারা লেখাপড়া থেকে ছিটকে যেতে বাধ্য হয়েছিল কি না, জানা নেই৷ হতে পারে, কোথাও রোজগারের সংস্থান করে নাইট ক্লাসে ভর্তি হয়েছিল৷

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবাসীর সহপাঠীদের একজনকেও পাইনি৷ ওরা অন্য কোথাও পড়েছে কি না, জানা নেই৷ এই মুহূর্তে তিন সহপাঠীর নাম মনে পড়ছে৷ বিমল মিস্ত্রি, রমাপদ গায়েন, মনোরঞ্জন হাজরা৷ ট্রেন ধরবার তাড়া থাকায় এই বন্ধুরা ক্লাসের বাইরে কখনওই কোনও আলোচনা বা আড্ডায় থাকতে পারত না৷ শুনেছি, বিমল মিস্ত্রি সিপিআইএম-এর দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা সম্পাদক হয়েছে৷ রমাপদ আর মনোরঞ্জনের খবর নেই৷ দুটো কথা এখানে বলা দরকার৷ 

এক. বঙ্গবাসীতে কয়েকজন সহপাঠী মাঝপথে কলেজে আসা বন্ধ করে দেয়৷ তারা লেখাপড়া থেকে ছিটকে যেতে বাধ্য হয়েছিল কি না, জানা নেই৷ হতে পারে, কোথাও রোজগারের সংস্থান করে নাইট ক্লাসে ভর্তি হয়েছিল৷ এরা বেশিরভাগই দরিদ্র বা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের৷ 

Deshvikharir Jamijiret 6
বিশিষ্ট কবি ও রবীন্দ্র-বিশেষজ্ঞ জগদীশ ভট্টাচার্য ছিলেন বিভাগীয় প্রধান

দুই. ক্লাসের মাঝপথে টুক করে কেটে পড়া ছিল কিছু ছাত্রের রোজকার ব্যাপার৷ এরা চব্বিশ পরগনার দূর দূর স্টেশন থেকে আসত৷ পরনে ধুতি, জামা, কাঁধে কাপড়ের ব্যাগ৷ মাথায় টাইমটেবল, কানে ট্রেনের ভোঁ৷ পুরো ক্লাস করলে ট্রেন মিস হবে, পরের ট্রেন এক কি দেড় ঘণ্টা বাদে, সুতরাং…৷ এরা বঙ্গবাসী কলেজে ভর্তি হয়েছিল শিয়ালদা স্টেশনের কাছে বলে৷ অনার্সের ক্লাস থেকে বেরিয়ে যাওয়া একটু কঠিন, কারণ পড়ুয়া কম৷ ‘ট্রেন আছে স্যার’ বললে কোনও শিক্ষক ছেড়ে দিতেন৷ কেউ ধমকে বসিয়ে দিতেন, সেক্ষেত্রে ক্লাসে ঢোকা নেই৷ এরা নিম্নমেধার ছিল, এমনটা বলছি না৷ যেকোনও কারণেই হোক, মনোযোগী ছাত্র হতে পারেনি৷ আধখানা ছাত্র দিয়ে পূর্ণ শিক্ষক মেলে কি?

মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Please login to bookmark Close
Picture of মধুময় পাল

মধুময় পাল

মধুময়ের জন্ম ১৯৫২ সালে পূর্ববঙ্গের ময়মনসিংহে, কিশোরগঞ্জে। লেখাপড়া কলকাতায়। শৈশব-যৌবন কেটেছে স্টেশনে, ক‍্যাম্পে, বস্তিতে। গল্প লিখে লেখালেখি শুরু। পরে উপন‍্যাস। বই আখ‍্যান পঞ্চাশ, আলিঙ্গন দাও রানি, রূপকাঠের নৌকা। অনুসন্ধানমূলক কাজে আগ্রহী। পঞ্চাশের মন্বন্তর, দাঙ্গা-দেশভাগ, নকশালবাড়ি আন্দোলন নিয়ে কাজ করেছেন। কেয়া চক্রবর্তী, গণেশ পাইন তাঁর প্রিয় সম্পাদনা। প্রতিমা বড়ুয়াকে নিয়ে গ্রন্থের কাজ করছেন চার বছর। মূলত পাঠক ও শ্রোতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

The Banglalive's Picks

Weekly Newsletter

Enjoy our flagship newsletter as a digest delivered once a week.

By signing up, you agree to our User Agreement and Privacy Policy & Cookie Statement.

Please login to bookmark Close
ভিআইপি রোডের ধার, একটু ভিতর দিক, আসলে একটু বেশিই ভিতর দিক, অনেকটা বাঁকানো রাস্তা, অলিগলি। সেখানে সেদিন রাত। বিশ্বকর্মা পুজো শেষ হয়েছে পাশে কোথাও, মাংস-ভাতে উৎসবমুখর সে প্রান্ত। হাওয়া কেটে কেটে বৃদ্ধের জানলার পাশ দিয়ে পাঠাচ্ছে ‘জানে জিগর জানে মন, তুঝকো হ্যায় মেরি কসম…’, সেই কবেকার ‘আশিকি’ ছবির গান। পড়ুন উহ্যমানুষ চতুর্দশ পর্ব। লিখছেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য...
Please login to bookmark Close
কয়েক বছরের পরিশ্রম আর একাগ্র সাধনার পর এলি কোহেন তাঁর জীবনের অন্তিম তথা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযানের দোরগোড়ায়। জেনোয়া থেকে দামাস্কাস পর্যন্ত সেই সফরে তাঁর দেখা মিলল এমন এক অসমসাহসী ভিন্ন মানুষের সঙ্গে যে নিজের প্রত্যুৎপন্নমতিত্বের জোরে নিমেষের মধ্যে অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে। শুরু হল এলি কোহেন দ্বাবিংশ পর্ব। লিখছেন কিংশুক বন্দ্যোপাধ্যায়...
Please login to bookmark Close
বাংলা সংগীতজগতের একটি অতি পরিচিত নাম বনশ্রী সেনগুপ্ত। শুধু পরিচিত বললে ভুল হবে, জনপ্রিয়ও বটে। বহু বিখ্যাত গীতিকার এবং সুরকারের কথা ও সুরে গান গেয়েছেন এই শিল্পী। জীবনে প্রথম তাঁর গান শুনেছিলাম কেশব চন্দ্র সেন স্ট্রিটে আমার মামাবাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে। ফাটাকেষ্টর কালীপুজোয় এসেছিলেন গান গাইতে। লিখছেন অরিজিৎ মৈত্র...

Subscribe

Banglalive.com/TheSpace.ink Guidelines

Established: 1999

Website URL: https://banglalive.com and https://thespace.ink

Social media handles

Facebook: https://www.facebook.com/banglaliveofficial

Instagram: https://www.instagram.com/banglalivedotcom

Twitter: @banglalive

Needs: Banglalive.com/thespace.ink are looking for fiction and poetry. They are also seeking travelogues, videos, and audios for their various sections. The magazine also publishes and encourages artworks, photography. We however do not accept unsolicited nonfiction. For Non-fictions contact directly at editor@banglalive.com / editor@thespace.ink

Time: It may take 2-3 months for the decision and subsequent publication. You will be notified. so please do not forget to add your email address/WhatsApp number.

Tips: Banglalive editor/s and everyone in the fiction department writes an opinion and rates the fiction or poetry about a story being considered for publication. We may even send it out to external editors/readers for a blind read from time to time to seek opinion. A published story may not be liked by everyone. There is no one thing or any particular feature or trademark to get published in the magazine. A story must grow on its own terms.

How to Submit: Upload your fiction and poetry submissions directly on this portal or submit via email (see the guidelines below).

Guidelines:

  1. Please submit original, well-written articles on appropriate topics/interviews only. Properly typed and formatted word document (NO PDFs please) using Unicode fonts. For videos and photos, there is a limitation on size, so email directly for bigger files. Along with the article, please send author profile information (in 100-150 words maximum) and a photograph of the author. You can check in the portal for author profile references.
  2. No nudity/obscenity/profanity/personal attacks based on caste, creed or region will be accepted. Politically biased/charged articles, that can incite social unrest will NOT be accepted. Avoid biased or derogatory language. Avoid slang. All content must be created from a neutral point of view.
  3. Limit articles to about 1000-1200 words. Use single spacing after punctuation.
  4. Article title and author information: Include an appropriate and informative title for the article. Specify any particular spelling you use for your name (if any).
  5. Submitting an article gives Banglalive.com/TheSpace.ink the rights to publish and edit, if needed. The editor will review all articles and make required changes for readability and organization style, prior to publication. If significant edits are needed, the editor will send the revised article back to the author for approval. The editorial board will then review and must approve the article before publication. The date an article is published will be determined by the editor.

 

Submit Content

For art, pics, video, audio etc. Contact editor@banglalive.com