আর্জেন্টিনার সুন্দরী ও বহরমপুরের রোম্যান্টিক তরুণ

Atin Bandyopadhyay Love Life
Atin Bandyopadhyay Love Life

আর্জেন্টিনার সুন্দরী ও বহরমপুরের রোম্যান্টিক তরুণ

(Atin Bandyopadhyay Love Life)

একবার সুদর্শন যুবকের বাড়িতে সন্ধেবেলা চা খেতে গিয়েছিলেন সমরেশ মজুমদার। পুরোটাই ঘটনাচক্রে, কোনও আগাম পরিকল্পনা ছিল না। তাঁকে কলকাতা ছেড়ে ফিরে যেতে হবে স্বর্গছেঁড়া চা বাগানে। কারণ, বাবা আর টাকা পাঠাবেন না বলে চিঠি পাঠিয়েছেন। সদ্য শেষ হয়েছে এমএ পরীক্ষা। কলকাতায় থাকার আর কোনও কারণ নেই।

ভারাক্রান্ত মনে সেই সন্ধেবেলা কফিহাউসে বসে ছিলেন সমরেশ আর তাঁর সহপাঠী ত্রিদিব। কিন্তু কফি খাওয়ার টাকা নেই। তাঁরা অপেক্ষা করছিলেন তৃতীয় একজনের জন্য, যে আসলে কফির অর্ডার দেবে। কিন্তু সেগুড়ে বালি। অনেকক্ষণ অপেক্ষা পর তাঁরা কফি হাউস থেকে বাইরে এসে দাঁড়ালেন। ত্রিদিব হঠাৎ এক মতলব আঁটলেন। বলে উঠলেন, বিনি পয়সায় চা খেতে হলে তাঁকে অনুসরণ করুক সমরেশ। সমরেশও অগত্যা তাঁকে অনুসরণ করে এসে দাঁড়ালেন এক ভগ্নপ্রায় কোয়াটার্সের সামনে। ত্রিদিব দরজার টোকা দিতেই ভিতর থেকে বেরিয়ে আসলেন এক সুদর্শন যুবক। তারপর ত্রিদিব নির্দ্বিধায় বলেছিলেন, ‘চা খেতে চলে এলাম।’ সুদর্শন যুবক হাসলেন। তাঁদের আপ্যায়ন করে ঘরে বসতে বললেন।


আরও পড়ুন: জীবনের মানে তো মুসাফির বিলাসিতা


ছোট ছোট দুটো ঘর। দেওয়ালে স্বামী-স্ত্রীর ছবি টাঙানো। ঘর জুড়ে শুধুই অনটনের ছবি। ওই যুবক চা বানাতে গেলেন। ততক্ষণে সমরেশ জেনে গিয়েছেন যুবকের নাম অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়। লেখালেখি করেন। তাঁর বেশ কিছু লেখা ততদিনে সমরেশ গোগ্রাসে গিলে ফেলেছেন। সমরেশ তাঁর লেখার ভক্ত। তিনি লিখতে এসেই খুব অল্প সময়ে বিপুল পাঠক তৈরি করে ফেলেছিলেন। কিন্তু তিনি যে অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে চা খেতে এসেছেন, তা তিনি বিশ্বাস করতে পারছিলেন না।

অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় চা খাওয়ালেন। জুড়ে দিলেন খাস গল্প। পূর্ববঙ্গের ভাষা তাঁর মুখে। হঠাৎ ঘরে এলেন তাঁর স্ত্রী। তখন কোনও এক স্কুলের শিক্ষিকা। অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, ‘এই হল তোমাদের বউদি। ওই যে দেওয়ালে ছবিটা দেখছ, ওটা ওঁর। কী ছিলেন আর আমি কী করেছি তা দেখতেই পাচ্ছ। বউদি লজ্জা পেয়েছিলেন।’

Atin Bandyopadhyay Love Life
অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনের প্রতিটা দিন চরম সংঘর্ষ এবং বিষাদে পরিপূর্ণ ছিল

অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনের প্রতিটা দিন চরম সংঘর্ষ এবং বিষাদে পরিপূর্ণ ছিল। তবুও তাঁর দু’চোখে ছিল ভাল থাকার আশা। অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিতৃদেব এবং তাঁর ভাইয়েরা পূর্ববঙ্গ থেকে প্রায় নিঃস্ব অবস্থায় এ দেশে এসে বহরমপুর শহর থেকে কয়েক মাইল দূরে, জঙ্গুলে জায়গায় জমি কিনেছিলেন জলের দরে।

সেখানে মাটির ঘরে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে দিন কাটানো কষ্টকর ছিল। আশেপাশে মানুষের তেমন বসতি নেই, ছিন্নমূল একটি বড় পরিবার জানে না আগামীকাল কী হবে! অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোটবেলা কেটেছিল ওই পরিবেশে। তিনি একদিন সমরেশকে বলেছিলেন, ‘জানো সমরেশ, সেইসময় পরপর দু’দিন একেবারে অভুক্ত থাকতে হয়েছে আমাদের।’

অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় নিপীড়িত, অসহায় মানুষের যন্ত্রণার কথা বলার জন্যে পরবর্তীকালে সাহিত্য লেখা শুরু করেননি। তাঁর রোমান্টিক মানসিকতা জীবনকে অন্যভাবে দেখেছিল।

ছাত্র হিসেবে বেশ ভাল ছিলেন তিনি। বহরমপুর স্কুলে পড়ার সুযোগও পেয়েছিলেন সহজে। কিন্তু স্কুল শেষ করার পর বাধ্য হয়ে তাঁকে চাকরির খোঁজ করতে হয়েছিল। স্থায়ী রোজগার দরকার। একটি রাজনৈতিক দলের পত্রিকা বের হত। সেখানে তাঁর কাজ জুটেছিল। প্রেসে কাগজ পৌঁছে দেওয়া, সেখান থেকে নিয়ে আসা। এছাড়া প্রুফ দেখা এবং ফাইফরমাশ খাটা।

মাইনে পাঁচ-ছ টাকার বেশি নয়। অথচ পাওয়া যেত না নিয়মিত। অভাবের ছোবল খেতে খেতে ছাপা কাগজ ঠিক জায়গায় না পাঠিয়ে, সেই কাগজ বিক্রি করে দিয়ে চাল ডাল আলু কিনে গ্রামে ফিরলে দেখতে পেতেন অভুক্ত মুখগুলোয় স্বর্গীয় হাসি ফুটে উঠেছে। গ্রামের কিছু পরিচিত তাঁতি কলকাতায় তাঁত বুনতে যেতেন। তাঁদের সূত্র ধরে কলকাতায় এসে ঠিক করলেন, তাঁত বোনার সঙ্গে সঙ্গে কলেজেও পড়বেন।

অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় নিপীড়িত, অসহায় মানুষের যন্ত্রণার কথা বলার জন্যে পরবর্তীকালে সাহিত্য লেখা শুরু করেননি। তাঁর রোমান্টিক মানসিকতা জীবনকে অন্যভাবে দেখেছিল। ওই অল্প বয়সের অভাবের দিনে প্রথম বৃষ্টি নামলে মাটি থেকে যে সোঁদা গন্ধ বের হত, তা তাঁকে অস্থির করত। অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় অপু হয়ে যেতেন।   

তাঁর জাহাজে চাকরি পাওয়ার কাহিনিটিও অদ্ভুত। অভাবের তাড়নায় রোজ অনেকটা হেঁটে উপস্থিত হতেন যেখানে চাকরি দেওয়া হচ্ছে। শরীরের মান যথাযথ না হওয়ায় তাকে বাতিল করে দেওয়া হলেও লুকিয়ে ঢুকে পড়েন বাছাইদের দলে। তখনও বাছাই করা প্ৰার্থীদের নাম কাগজে লেখা হয়নি। ফলে চাকরি হল। সেই ট্রেনিং অমানুষিক, পরিশ্রমে শরীর অসাড় কিন্তু অতীন স্বপ্ন দেখতেন। ওই ট্রেনিং-এর পরে মাইনে পাওয়া যাবে। সেই মাইনের টাকা বহরমপুরের গ্রামে পাঠালে সেখানে ফুটন্ত ভাতের হাঁড়ি থেকে গন্ধ বের হবে।

অসহায় অবস্থায় একটি বাড়ির গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে একজন প্রৌঢ়া এগিয়ে এসে কিছু প্রশ্ন করলেন। তার বোধগম্য হল না। শেষ পর্যন্ত সেই প্রৌঢ়া ভাঙা ইংরেজিতে যা বললেন, তা শুনে লাফিয়ে উঠেছিলেন অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়।

জাহাজে চাকরির ছাড়পত্রও পাওয়া গেল। কিন্তু জাহাজ নেই। শেষ পর্যন্ত সিলেটের এক প্রৌঢ় সারেঙের বদান্যতায় মালবাহী জাহাজে কাজ জুটল তাঁর। বারো ঘণ্টা ধরে ডেক পরিষ্কার করতে হবে এবং বয়লারে কয়লা ফেলতে হবে। একটি লিকলিকে অভাবী বাঙালি শরীরের পক্ষে সেটা প্ৰায় অসম্ভব হলেও তিনি পারলেন। সমুদ্রে ভেসে ভেসে এ বন্দর থেকে সে বন্দরে নোঙর করা জাহাজের খালাসি হয়ে জীবন দেখলেন নতুন করে।

বন্দরে বন্দরে জাহাজিদের একটি করে বউ থাকে, এ প্রবাদ তার ক্ষেত্রে খাটল না। তিনি দেখতেন জাহাজিরা বন্দরে নেমেই চেনা জায়গায় ছুটে যেত যেমন, তেমনই অনেকে জাহাজ থেকে নামতেই চাইত না। তিনি অচেনা শহরে হেঁটে বেড়াতেন দেশ দেখবেন বলে। এইভাবে একদিন আর্জেন্টিনায় পৌঁছালেন। একা হাঁটতে হাঁটতে রাস্তা হারিয়ে ফেলেছিলেন। যাকে জিজ্ঞাসা করছেন সেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, কারণ সে দেশে কেউ ইংরেজি বোঝে না। অথচ বিকেল শেষ হয়ে আসছে।

Atin Bandyopadhyay Love Life
তাঁর জাহাজের ঘটনা নিয়ে তিনি লিখেছিলেন ‘অলৌকিক জলযান’

অসহায় অবস্থায় একটি বাড়ির গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে একজন প্রৌঢ়া এগিয়ে এসে কিছু প্রশ্ন করলেন। তার বোধগম্য হল না। শেষ পর্যন্ত সেই প্রৌঢ়া ভাঙা ইংরেজিতে যা বললেন, তা শুনে লাফিয়ে উঠেছিলেন অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়।

ওই বাড়িটি প্রৌঢ়ার। তিনি ওঁকে ভিতরে নিয়ে গেলেন, নিজের হাতে চা বানিয়ে দিলেন, কেকও খাওয়ালেন। আনন্দে অতীনের ইচ্ছে করছিল প্রৌঢ়াকে প্ৰণাম করতে। একটু পরে প্রৌঢ়ার মেয়ে বাড়িতে ফিরল। এক ঢাল কালো চুল, কালো চোখ, মাজা রঙের অপূর্ব সুন্দরীকে দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলেন বহরমপুরের রোম্যান্টিক তরুণ। অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের দু’চোখ জুড়ে তখন শুধুই হলুদ বসন্ত।

এই সময় কেউ একজন জানাল তাঁর জন্য কেউ দেখা করতে এসেছে। ওই ভূতের মতো চেহারা নিয়ে বাইরে এসে দেখেছিলেন পরীর মতো সেজে মেয়েটি এসেছে। তাঁর হাতে ফুল ছিল। অতীন তাঁকে দেখে পাগল হয়ে গিয়েছিলেন।

বহু বছর বাদে অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনা প্রসঙ্গে সমরেশ মজুমদারকে বলেছিলেন, ‘তখন বুঝলা, সাহেবের মতো দেখতে ছিলাম। টকটকে ফরসা, জাহাজে কাম করায় শরীর মজবুত আর আধা ইংরিজেতে কথা বলায় ভাষাটা খুব সহজ!’

যে কদিন জাহাজ বন্দরে ছিল সে ক’দিন শুধু পাশাপাশি হেঁটে যাওয়া, কফির দোকানে বসে মুখোমুখি কথা না বলে সময় কেটেছিল তাঁদের। অতীন ঠিক করেছিলেন, দেশে ফিরে মা-বাবাকে এই মেয়ের কথা জানাবেন। বাকি জীবন এই মেয়ের সঙ্গে কাটানোর জন্যে ইগলুতে থাকতেও তখন রাজি। যেদিন জাহাজ ছাড়বে সেদিন মনের দুঃখ চাপা দিতে বয়লারে কয়লা ফেলছিলেন অতীন। সমস্ত শরীর কালো হয়ে গিয়েছিল।

এই সময় কেউ একজন জানাল তাঁর জন্য কেউ দেখা করতে এসেছে। ওই ভূতের মতো চেহারা নিয়ে বাইরে এসে দেখেছিলেন পরীর মতো সেজে মেয়েটি এসেছে। তাঁর হাতে ফুল ছিল। অতীন তাঁকে দেখে পাগল হয়ে গিয়েছিলেন। আর্জেন্টিনা কোথায়, আর কোথায় বহরমপুর। সেদিন দুই দেশ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল।

দু’বছর পর ছুটি পাওয়া গেল। সঙ্গে মাইনের জমানো টাকা। কলকাতা থেকে বাসে বহরমপুর ফিরলেন। তখনও তাঁর মনে সেই তরুণীর ছবি। যখন বহরমপুর ফিরলেন, তখন আকাশ ভর্তি কালো মেঘ। বহরমপুর থেকে গ্রামের দিকে যখন হাঁটতে শুরু করলেন, তখন টুপটাপ বৃষ্টি পড়ছিল। আচমকা ঝড় উঠল। আর হঠাৎ চারপাশে মাটির সোঁদা গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল। হু হু করে। এই গন্ধ শরীরের সমস্ত ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগ করতে করতে অতীন আবিষ্কার করলেন, এর চেয়ে আরাম আর কিছুতেই পাবেন না। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে গ্রামে পৌঁছেছিলেন। তার ফিরে আসা, অতগুলো টাকা পাওয়া, বাড়িতে উৎসব বসেছিল।

অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে দিনের শেষে সহজ হয়ে উঠেছে তাঁর যাপন। যে যাপনে গেঁথে আছে এক ফালি বহরমপুর। তাঁর জাহাজের ঘটনা নিয়ে তিনি লিখেছিলেন ‘অলৌকিক জলযান’। শেষ পর্যন্ত অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পৃথিবী যত দূরেই যাক, ফিরে আসার ঠিকানা ছিল একটাই, নিজের মাটি।

দু’বছর পরে অতীন আবিষ্কার করলেন, মা-বাবা-ভাই-বোন-কাকা-জ্যাঠা ইত্যাদি মানুষের সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক, তার টান বড় জোরালো। আর যে মাটিতে জন্মেছেন, যে ঘাসে পা ফেলেছেন তার গন্ধ পেলে হৃদয়ের শিকড়ে যে নাড়া লাগে, তার কোনও বিকল্প নেই। এসব ছেড়ে পৃথিবীর কোনও হিরের বিছানায় শুলেও তাঁর ঘুম আসবে না।

গোটা তিনেক চিঠি এসেছিল আর্জেন্টিনা থেকে। আবদার, অনুনয়, অভিমান, কান্না নিয়ে জাহাজের ঠিকানায়। অতীন উত্তর দিয়েছিলেন, ‘জায়গা বদল করলে আমি বা তুমি কেউ ভাল থাকব না। অতএব যত নির্মম হোক, সত্যিকে মেনে নিতে হবে।’

Atin Bandyopadhyay Love Life
অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা পড়লে মনে হয়, মানুষের সবচেয়ে দীর্ঘ যাত্রাটিও শেষ পর্যন্ত নিজের কাছে ফিরে আসার

অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় তাবৎ লেখালেখিতে একটা স্বপ্ন দেখার চেষ্টা করে গিয়েছেন। সেই স্বপ্ন খুব ঘরোয়া। বাইরের ঘটনার ঘনঘটা পার হয়ে এলে মাটির সোঁদা গন্ধ খোঁজার অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন যে লেখক তাকে কোনও ফর্মুলায় ফেলা যায় না। আর যায় না বলেই আর্জেন্টিনীয় তরুণীর রূপে ভুলেও তিনি আবার ফিরে এসেছেন গ্রাম বাংলায়। বুকে মেখে নিয়েছেন গ্রাম বাংলার মেঠো সুখ। 

অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে দিনের শেষে সহজ হয়ে উঠেছে তাঁর যাপন। যে যাপনে গেঁথে আছে এক ফালি বহরমপুর। তাঁর জাহাজের ঘটনা নিয়ে তিনি লিখেছিলেন ‘অলৌকিক জলযান’। শেষ পর্যন্ত অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পৃথিবী যত দূরেই যাক, ফিরে আসার ঠিকানা ছিল একটাই, নিজের মাটি। সমুদ্র তাঁকে দেখিয়েছিল অচেনা পৃথিবী, আর্জেন্টিনা তাঁকে দিয়েছিল এক অসম্ভব সুন্দর স্মৃতি, আর জীবন দিয়েছিল অভাব ও প্রাপ্তির অসংখ্য গল্প।

তবে দিনের শেষে তাঁর ভিতর বেঁচে থেকেছে সেই বহরমপুরের মাটি, বৃষ্টিভেজা ঘাস আর সোঁদা গন্ধ। তাই তাঁর সাহিত্য শুধু উদ্বাস্তু জীবনের বা জাহাজের গল্প নয়; তা এক মানুষের সারা জীবনের ফিরে আসার গল্প। পৃথিবী তাঁকে যতবার দূরে নিয়ে গিয়েছে, কলম ততবার তাঁকে ফিরিয়ে এনেছে নিজের মাটির কাছে। সে কারণে অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা পড়লে মনে হয়, মানুষের সবচেয়ে দীর্ঘ যাত্রাটিও শেষ পর্যন্ত নিজের কাছে ফিরে আসার।

তথ্যসূত্র: কইতে কথা বাধে- সমরেশ মজুমদার

মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Please login to bookmark Close
Picture of আদিত্য ঘোষ

আদিত্য ঘোষ

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়াতে ভালবাসেন। খোঁজ রাখেন নিত্যনতুন বিষয়ে। সময় পেলে রান্না করেন। পড়তে ভাল লাগে বুদ্ধদেব গুহের উপন্যাস। শুনতে ভাল লাগে ফসিলস্। আঞ্চলিক ইতিহাস প্রিয় বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

The Banglalive's Picks

Weekly Newsletter

Enjoy our flagship newsletter as a digest delivered once a week.

By signing up, you agree to our User Agreement and Privacy Policy & Cookie Statement.

Please login to bookmark Close
ওপেনিং সিনের সেই ঝাড়ু হাতের নাচ আর ‘চিচিং ফাঁক’, কেমন যেন রুপোলি রং নিয়ে এখনও চকচকে। ছবিটা ছিল পরিচালক দীনেন গুপ্তর ‘মর্জিনা আবদাল্লা’, সলিল চৌধুরীর সংগীত পরিচালনা। রাধা সিনেমা হলটা আজ আর নেই, আমাদের ছোটবেলার অজস্র সিঙ্গল স্ক্রিন থিয়েটারের মতোই হারিয়ে গেছে কালের গর্ভে। মাথার উপরের মানুষগুলোও আজ আর কেউ নেই। লিখছেন মৌসুমী দত্ত রায়...
Please login to bookmark Close
শরৎচন্দ্রের জন্মের দেড়শো বছরে বাংলার সাহিত্য-ভুবনের সেই চিরপরিচিত দ্বন্দ্বই নতুন করে ফিরে আসে। জনপ্রিয় সাহিত্য আর শিল্পোত্তীর্ণ সাহিত্যের দ্বন্দ্ব। ‘শিল্পোত্তীর্ণ সাহিত্য’ কথাটা শুনতে খানিক ‘ক্লিশে’ হলেও যে মনোভাব নিয়ে শরৎ-সাহিত্যকে মোটের উপর দেখেছে আমাদের অ্যাকাডেমিক সাহিত্যমহল, তার মূল অভিযোগটি ওই শব্দবন্ধেই ভাল বোঝানো যায়। লিখছেন আশিস পাঠক...
Please login to bookmark Close
অগস্টের শেষ দিনে যখন ৩৯ বছরের এক ক্লান্ত জাদুকর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে চিরতরে বিদায় জানালেন; তখন আড্ডার টেবিলে, চায়ের কাপে বা সোশ্যাল মিডিয়ার ওয়ালে শুধুই একরাশ বিষণ্ণতা। লিওনেল মেসি নামক যে মানুষটা গত দু’দশক ধরে রবিবারের রাতগুলোকে মায়াবী করে তুলেছিলেন, তিনি এবার থামলেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে। লিখছেন অয়ন চট্টোপাধ্যায়...

Subscribe

Banglalive.com/TheSpace.ink Guidelines

Established: 1999

Website URL: https://banglalive.com and https://thespace.ink

Social media handles

Facebook: https://www.facebook.com/banglaliveofficial

Instagram: https://www.instagram.com/banglalivedotcom

Twitter: @banglalive

Needs: Banglalive.com/thespace.ink are looking for fiction and poetry. They are also seeking travelogues, videos, and audios for their various sections. The magazine also publishes and encourages artworks, photography. We however do not accept unsolicited nonfiction. For Non-fictions contact directly at editor@banglalive.com / editor@thespace.ink

Time: It may take 2-3 months for the decision and subsequent publication. You will be notified. so please do not forget to add your email address/WhatsApp number.

Tips: Banglalive editor/s and everyone in the fiction department writes an opinion and rates the fiction or poetry about a story being considered for publication. We may even send it out to external editors/readers for a blind read from time to time to seek opinion. A published story may not be liked by everyone. There is no one thing or any particular feature or trademark to get published in the magazine. A story must grow on its own terms.

How to Submit: Upload your fiction and poetry submissions directly on this portal or submit via email (see the guidelines below).

Guidelines:

  1. Please submit original, well-written articles on appropriate topics/interviews only. Properly typed and formatted word document (NO PDFs please) using Unicode fonts. For videos and photos, there is a limitation on size, so email directly for bigger files. Along with the article, please send author profile information (in 100-150 words maximum) and a photograph of the author. You can check in the portal for author profile references.
  2. No nudity/obscenity/profanity/personal attacks based on caste, creed or region will be accepted. Politically biased/charged articles, that can incite social unrest will NOT be accepted. Avoid biased or derogatory language. Avoid slang. All content must be created from a neutral point of view.
  3. Limit articles to about 1000-1200 words. Use single spacing after punctuation.
  4. Article title and author information: Include an appropriate and informative title for the article. Specify any particular spelling you use for your name (if any).
  5. Submitting an article gives Banglalive.com/TheSpace.ink the rights to publish and edit, if needed. The editor will review all articles and make required changes for readability and organization style, prior to publication. If significant edits are needed, the editor will send the revised article back to the author for approval. The editorial board will then review and must approve the article before publication. The date an article is published will be determined by the editor.

 

Submit Content

For art, pics, video, audio etc. Contact editor@banglalive.com